- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
কুষ্টিয়া জেলার পাশ দিয়ে পদ্মা নদী বয়ে গেছে। এক সময় কুষ্টিয়ার জনগণ আতঙ্কগ্রস্ত থাকত। কারণ আষাঢ় হতে ভাদ্র মাসে প্রতিবছরই পদ্মা নদীর উভয় তীর বন্যায় ডুবে যেত। ফলে উভয় তীরের ভূ-ভাগ অত্যন্ত উর্বর হলেও কুষ্টিয়া শহরসহ আশপাশের অঞ্চলসমূহের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতো। এ সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার শহর রক্ষা বাঁধ দিয়ে নদী শাসনের ব্যবস্থা করে। পদ্মা নদীতে বাঁধ দেয়ার কারণে আশপাশ অঞ্চলসহ কুষ্টিয়া শহর বন্যামুক্ত হয়েছে। তা ছাড়া সরকার বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন করে বর্ষা মৌসুমে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করেছে। যার কারণে শুকনা মৌসুমে জমিতে জল সেচ করে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে এসেছে পরিবর্তন। তবে শিল্প-বাণিজ্য এবং আধুনিক উন্নয়নের ধারায় কুষ্টিয়া জেলা তেমন একটা উন্নত হতে পারে নাই।
কুষ্টিয়া জেলার তুলনায় তোমার পঠিত সভ্যতাটি কোন অর্থে অধিক সমৃদ্ধ যুক্তি দাও।
উন্নয়ন ও অবদানগত দিক দিয়ে কুষ্টিয়া জেলার তুলনায় আমার পঠিত সভ্যতাটি অর্থাৎ মিসরীয় সভ্যতা অধিক সমৃদ্ধ প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা মানব সভ্যতার উন্নয়নে বিভিন্নমুখী অবদান রাখে। এরা ধর্মের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্ম বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইখনাটন 'এটন' দেবতাকে প্রতিষ্ঠিত করে ইতিহাসে একেশ্বরবাদী ধারণার জন্ম দেন। এছাড়া বিজ্ঞানের প্রায় সকল শাখায়ই প্রাচীন মিসরীয়দের বিশেষ অবদান লক্ষ করা যায়। আবার দর্শনের দিক দিয়েও তারা অত্যন্ত মননশীলতার পরিচয় বহন করছে। এ সভ্যতার মানুষ আরও বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রেখে নিজেদের সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু উদ্দীপকের নদীতে বাঁধ নির্মাণ ও খাল খননের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়া অন্য কোনো অবদান পরিলক্ষিত হয় না। উদ্দীপকে বর্ণিত কুষ্টিয়া জেলায় পদ্মা নদীতে বাঁধ দিয়ে এবং বিভিন্ন স্থানে খাল খনন করে সরকার এখানকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু মিসরীয় সভ্যতায় শুধুমাত্র কৃষির উন্নতি নয় বরং ব্যবসা-বাণিজ্যে ও তারা অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। মিসরীয় শিল্প ও স্থাপত্য অনন্য ঐশ্বর্যের দাবিদার। ইতিহাসে তারা শ্রেষ্ঠতম নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। পিরামিড ছাড়াও বিভিন্ন সমাধিসৌধ, ধর্ম মন্দির ও প্রাসাদের প্রবেশ পথে ভাস্কর্য নির্মাণ করে সভ্যতাকে উন্নত করেছে। তারা সমাধিসৌধ ও মন্দিরসমূহের দেয়াল অলংকৃত করে চিত্রশিল্পের বিকাশ ঘটায়। তবে সভ্যতার ইতিহাসে মিসরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে বর্ণভিত্তিক চিত্রলিপির উদ্ভাবন। এছাড়া তারা বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার, অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার, মৃৎপাত্র নির্মাণ, মিনা করার পদ্ধতি, জলাশয়কে কৃষিক্ষেত্রে রূপান্তর করার কৌশল জানতো এবং উন্নতমানের লিলেন কাপড় তৈরি করতে পারত। এ সভ্যতার উপাদানসমূহ অধিকহারে পরবর্তীকালের সভ্যতাগুলোতে পরিলক্ষিত হয় এবং আধুনিক বিশ্বেও এ সভ্যতার প্রভাব পড়ে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মিসরীয় সভ্যতা সুনিশ্চিতভাবেই উদ্দীপকে উল্লিখিত কুষ্টিয়া জেলার তুলনায় সমৃদ্ধ ছিল।

