• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • প্রাক ইসলামি আরব
প্রাক ইসলামি আরব

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

পাগলাদহ গ্রামের আদিবাসীদের মধ্যে সবসময় গোলমাল লেগেই থাকে। গ্রামে অনেক জোতদার লোকের বাস। জোতদারদের নিজস্ব অনুগত বাহিনী আছে। বছরের বিভিন্ন সময় ধান কাঠা, মাছ ধরা বিভিন্ন কারণে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই থাকে। তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা বাজিতপুরের নারীদের। নারী যেহেতু পুরুষের মতো ক্ষেতে ফসল ফলানো, পুকুরে মাছ ধরা প্রভৃতি কাজে অক্ষম সে কারণে তাদেরকে বোঝা মনে করা হয়। সামর্থ্যবান পুরুষেরা তাদেরকে নানাভাবে নিগৃহীত করে থাকে। তবে যেসব নারী তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়, তাদেরকে জোতদারেরা সমীহ করে।

আসাদুল্লাহ কোন খলিফার উপাধি?

আসাদুল্লাহ হযরত আলী (রা)-এর উপাধি।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

প্রাচীনকাল থেকে মক্কার গুরুত্বের কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।

ধর্মীয় কারণে প্রাচীনকাল থেকেই মক্কার গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। হযরত ইবরাহিম (আ) মক্কায় কাবা ঘর নির্মাণ করার পর থেকে হজ পালনের উদ্দেশ্যে লোকেরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মক্কায় গমন করত। আইয়ামে জাহেলিয়াতেও মক্কায় হজ পালন হতো। মুহাম্মদ (স) এর আবির্ভাবের পরেও মুসলমানদের হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার যেতে হয়। তাই ধর্মীয় কারণে মক্কার গুরুত্ব প্রাচীন কাল থেকেই।

#

উদ্দীপকের গ্রামের অবস্থার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের পাগলাদহ গ্রামের অবস্থার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের সামাজিক অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। প্রাক-ইসলামি যুগ বলতে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর আগমনের পূর্ববর্তী একশ বছরকে বোঝানো হয়। এ সময়কে 'আইয়ামে জাহেলিয়া' বা অন্ধকার যুগও বলা হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে সব সময় গোলমাল। গেলেই থাকে। এই গ্রামে অনেক জোতদার লোকের বাস। বছরের বিভিন্ন সময়ে ধান কাটা, মাছ ধরা বিভিন্ন কারণে দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগেই থাকতো। তেমনিভাবে প্রাক-ইসলামি আরবদের মধ্যেও বংশগৌরব, বীরত্ব, শৌর্যবীর্য নিয়ে সর্বদাই দ্বন্দ্ব ও কলহ লেগেই থাকত। এ সময় কৌলীন্য প্রথা থেকেই ষষ্ঠ শতাব্দীতে হিমারীয় ও মুদারীয়দের মধ্যে আন্তর্জাতিক যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। প্রাক-ইসলামি আরব সমাজে নারীর অবস্থা ছিল সীমাহীন অবমাননাকর ও হৃদয়বিদারক। নারীকে আপদ ও অশুভ সত্তা বলে মনে করা হতো। সমাজে এরা ভোগের সামগ্রী ও অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হতো। তাদের আর্থ-সামাজিক কোনো মর্যাদা ছিল না। বাজারের পণ্যের মতো হস্তান্তরযোগ্য ছিল নারী। সামাজিক মর্যাদা তো দূরের কথা তাদের ন্যূনতম মানবিক অধিকার পর্যন্ত ছিল না। নারীরা যুদ্ধ-বিগ্রহে অক্ষম ছিল বিধায় তাদেরকে সর্বদা লাঞ্ছিত, অবহেলিত ও হেয় প্রতিপন্ন করা হতো। এক কথায় প্রাক-ইসলামি যুগে নারীর কোনো মূল্য ছিল না-উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের পাগলাদহ গ্রামের অবস্থার সাথে প্রাক-ইসলামি আবরের সামাজিক অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে।

#

উদ্দীপকে উল্লিখিত বাজিতপুরের নারীর অবস্থার আলোকে প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের নারীর অবস্থা মূল্যায়ন করো।

অবহেলা লাঞ্ছনা' ও নিগ্রহের দিক দিয়ে উদ্দীপকে উল্লিখিত বাজিতপুরের নারীদের অবস্থা এবং প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের নারীর অবস্থা ছিল একই রকম। উদ্দীপকে বাজিতপুরের নারীদের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। নারীরা যেহেতু পুরুষের মতো ক্ষেতে ফসল ফলানো, পুকুরে মাছ ধরা প্রভৃতি কাজে অক্ষম সে কারণে তাদের বোঝা মনে করা হয়। সামর্থ্যবান পুরুষেরা তাদেরকে নানাভাবে নিগৃহীত করে থাকে। তবে যে সকল নারী তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয় তাদেকে সামর্থ্যবান পুরুষেরা সমীহ করে। প্রাক-ইসলামি যুগে নারীর অবস্থা ছিল সীমাহীন অবমাননাকর ও হৃদয়বিদারক মানবতাবিবৰ্জীত জাহেলিয়া যুগে নারীর কোনো মূল্যই ছিল না। তৎকালীন আরব সমাজ' সম্পর্কে ঐতিহাসিক খোদাবক্স বলেন, 'আরববাসীরা মদ, নারী ও যুদ্ধে লিপ্ত থাকতো।' পুরুষেরা একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদ ঘটাতে পারতো। এ ব্যাপারে নারীর মতামত বা অনুভূতির কোন তোয়াক্কাই করা হতো না। নারীর কোনো মানবীয় সত্তা, মানবিক আবেগ অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দের সামান্যতম স্বীকৃতি ছিল না। প্রাক ইসলামি যুগে কলুষিত আরব সমাজে একজন পুরুষ যেমন একাধিক নারী গ্রহণ করতো তেমনি বংশের বীর্যবান সন্তান লাভের আশায় স্ত্রীকে সম্ভ্রান্ত বংশের বীরপুরুষদের শয্যাশায়িনী হতে বাধ্য করা হতো। পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে তাদের কোনো অধিকার ছিল না। কন্যার জন্ম সংবাদ দেওয়া হলে তাদের চেহারা অপমানে কালো হয়ে যেত। অসম্মান ও দারিদ্রের ভয়ে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতেও তাদের হৃদয় কাঁপত না। পাষণ্ড আরব পুরুষেরা এরূপ হত্যাকাণ্ড দর্শনে উল্লাস প্রকাশ করত।

পরিশেষে বলা যায়, প্রাক-ইসলামি যুগে নারীরা সর্বক্ষেত্রে ছিল অধিকারবঞ্চিত। শুধু বঞ্চনাই নয়, তাদের কোনো মর্যাদা বা সম্মান ছিল না। পদে পদে তাদেরকে হেয় করা হতো।