- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বিনা ও টিনা দুবোন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। বিনা রসায়ন বিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনে আগ্রহী। একদিন টিনা বিনার নিকট জাবির ইবনে হাইয়ান প্রসঙ্গে জানতে চাইল। বিনা বলল, মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রসায়নবিদ। জ্ঞান বিজ্ঞানের আজকের এ অভূতপূর্ব সাফল্যের গোড়ায় মুসলিমদের অবদানই শতভাগ।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাফল্যের গোড়ায় মুসলিমদের অবদান শতভাগ- বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অবদান অপরিসীম।
মানবসভ্যতা ও সংস্কৃতির যথাযথ উন্মেষ ও বিকাশে মুসলিম জাতির অবদান অবিস্মরণীয়। জ্ঞানার্জন ও শিক্ষা গ্রহণকে ফরজ করে ইসলাম শিক্ষা ও জ্ঞাননির্ভর যে ধারার সূচনা করেছে তারই ধারাবাহিকতায়
মুসলিম মনীষীগণ গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেছেন। তাদের অনুসন্ধিৎসা ও গবেষণা, জ্ঞানবিজ্ঞান ও শিক্ষার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। যে জন্য আধুনিক বিজ্ঞান কেবল চমকপ্রদ আবিষ্কার ও কালোত্তীর্ণ তত্ত্বের জন্যই মুসলমানদের নিকট ঋণী নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞান তার অস্তিত্বের জন্যই তাদের কাছে চিরঋণী। বিনা একথাই বোঝাতে চেয়েছে।
উদ্দীপকের বিনা ও টিনা আলোচনায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক আলোচনা করে বলে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্যের মূলত মুসলমানদের অবদানই শতভাগ। মুসলমানদের এ অবদান সম্পর্কে অধ্যাপক হিস্ট্রি বলেছেন, অষ্টম শতকের মাঝামাঝি হতে ত্রয়োদশ শতকের প্রারম্ভ পর্যন্ত আরবি ভাষাভাষী লোকেরা সমগ্র বিশ্বের সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিশারি ছিলেন।
তাদের মাধ্যমে প্রাচীন বিজ্ঞান, দর্শন পুনর্জীবিত, সংযোজিত ও সম্প্রসারিত হয়েছিল। তাদের বৈজ্ঞানিক প্রতিভা আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি রচনা করেছিল। খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে মুসলমানদের জ্ঞানসাধনা শুরু হলেও বিজ্ঞানচর্চা উমাইয়া যুগে শুরু হয়। আর এর বিস্তৃতি লাভ করে আব্বাসীয় যুগে। উমাইয়া যুগে আব্দুল মালিক, প্রথম ওয়ালিদ, উমর বিন আব্দুল আজিজ ােমুখ খলিফা জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
তাদের পৃষ্ঠপোষকতার ফলে বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ আরবিতে অনূদিত হয়েছিল। আব্বাসি যুগও জ্ঞান-বিজ্ঞান সাধনার এক স্বর্ণযুগ বলে ইসলামের ইতিহাসে পরিচিত। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে এ যুগের মনীষী ও পণ্ডিতদের সৃজনশীল অবদান আধুনিককালেও বিস্ময়কর বলে মনে হয়।
তাদের কারণেই চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়। সুতরাং বলা যায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল সূত্র আবিষ্কৃত হয়েছে মুসলমানদের মাধ্যমেই। অতঃপর এর পরিপূর্ণতা এসেছে অন্যদের হাত ধরে।

