- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
এশিয়া মহাদেশের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত কোরিয়া উপদ্বীপের পূর্বে জাপান সাগর, পশ্চিমে কোরীয় উপসাগর, দক্ষিণে পীত সাগর ও পূর্বে চীন সাগর এবং উত্তরে চীনের চুংচান এবং ফুসান রাজ্য অবস্থিত। ভূ-প্রাকৃতিকভাবে এ উপদ্বীপ পাহাড়ি ও সমতল ভূমির সমন্বয়ে গঠিত। আর সমতল ভূমির মাটি উর্বর বিধায় এ অঞ্চলে প্রচুর শস্য জন্মে। এ উপদ্বীপের আবহাওয়া কৃষি ও জনগণের জীবনাচরণের অনুকূলে। তবে কোনো উল্লেখযোগ্য মরুভূমি না থাকায় এ অঞ্চলে আবহাওয়া শুষ্ক নয়। ফলে জনগণের জীবনযাপনে আবহাওয়া তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না।
তুমি কি মনে কর কোরীয়বাসীদের মতো আরবদের ওপরও আবহাওয়া তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি- উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
না, আমি মনে করি, কোরীয়বাসীদের ওপর আবহাওয়া তেমন প্রভাব না পারলেও আরবদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ফেলতে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরর উপদ্বীপটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। শুষ্ক ও উত্তপ্ত আবহাওয়া এবং জনজীবনে এর প্রভাব আরব উপদ্বীপকে বিশিষ্টতা দান করেছে। এ উপদ্বীপটির আবহাওয়া, জলবায়ু, ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য জনজীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে ছিল। যা উদ্দীপকে উল্লিখিত কোরিয়া উপদ্বীপটির সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কোরিয়া উপদ্বীপটি ভূ-প্রাকৃতিকভাবে পাহাড়ি ও সমতল ভূমি সমন্বয়ে গঠিত। সমতল ভূমির মাটি উর্বর হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রচুর শস্য জন্মে। এ উপদ্বীপের আবহাওয়া কৃষি ও জনগণের জীবনাচরণের অনুকূলে। কোনো উল্লেখযোগ্য মরুভূমি না থাকায় এ অঞ্চলে আবহাওয়ায় তেমন কোনো শুষ্কতা বিরাজ করে নাঁ। ফলে জনগণের জীবনযাপনে আবহাওয়া তেমন প্রভাব ফেরতে পারে না। অপরপক্ষে, ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে সমগ্র আরব উপদ্বীপ তিন ভাগে বিভক্ত। যেমন- মরু অঞ্চল, পাহাড়ি অঞ্চল এবং উর্বর অঞ্চল। তবে আরবের অধিকাংশ অঞ্চলই মরুময়। আরব উপদ্বীপ সিরিয়ার মরুভূমি, আফ্রিকার সাহারা ও গোবি মরুভূমির একটি বিচ্ছিন্ন অংশ মাত্র। আরবে উত্তর অঞ্চলে শ্বেত ও লোহিত বালুকায় পরিপূর্ণ এলাকা 'আন নুফুদ' অবস্থিত। এ অঞ্চল প্রায়ই শুষ্ক থাকে। এছাড়া আদ দাহনা ও আল হাররাহ অঞ্চলও অতিরিক্ত উষ্ণতা ও ভূমির অনুর্বরতার জন্য বসবাসের উপযোগী নয়। এরূপ শুষ্ক আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি, ভূমির অনুর্বরতা, পানীয় জলের অভাব ইত্যাদির জন্য আরববাসীগণ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করত। প্রকৃতির সাথে লড়াই করতে করতে তারা একদিকে যেমন রুক্ষ, দুঃসাহসী, দুর্ধর্ষ সৈনিক। অন্যদিকে তারা কষ্টসহিষ্ণু, কঠোর পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল হয়ে গড়ে উঠে। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রমাণিত হয় যে, আরবের আবহাওয়া ও জলবায়ু তাদেরকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কোন মৌসুমে উকাজ মেলা বসতো?
হজ মৌসুমে উকাজ মেলা বসতো।
হেজাজকে ইসলামের কেন্দ্রভূমি বলা হয় কেন?
বিশ্ব মুসলমানদের পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনা হেজাজ প্রদেশে অবস্থিত হওয়ার কারণে এটিকে ইসলামের কেন্দ্রভূমি বলা হয়। সৈয়দ আমীর আলী বলেন, হেজাজ একটি বিচ্ছিন্ন দেশ, বিশেষত মক্কার চতুর্দিকের ভূখন্ডকেই হেজাজ বলে। হেজাজের বিখ্যাত শহর মক্কা, মদিনা ও তায়েফ শস্য-শ্যামল, ছায়া-শীতল হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও মনুষ্য বসবাসের উপযোগী। ফলে এই অঞ্চলে মানুষ ব্যাপকভাবে বসতি স্থাপন করে। আর ইসলামের পবিত্র ভূমি ধারনকারী এ অঞ্চলটিকে ইসলামের কেন্দ্রভূমি বলা হয়।
কোরিয়া উপদ্বীপের সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের ভৌগোলিক সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে কোরিয়া উপদ্বীপের সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ আরবের তিন দিক পানি ও একদিক স্থল দ্বারা পরিবেষ্টিত। এটি ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে পাহাড়ি অঞ্চল ও উর্বর অঞ্চল আরবীয়দের জন্য উল্লেখযোগ্য দুটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল। এ বিষয়গুলোরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় কোরিয়া উপদ্বীপের ক্ষেত্রে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, কোরিয়া উপদ্বীপের তিন দিক পানি এবং এক দিক স্থলবেষ্টিত। কোরিয়া উপদ্বীপের এরূপ ভৌগোলিক অবস্থানের সাথে ইসলামপূর্ব আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থার মিল রয়েছে। কোরিয়া উপদ্বীপের মতোই আরব উপদ্বীপের তিন দিক পানিবেষ্টিত ও এক দিক স্থলবেষ্টিত। এর পূর্বে পারস্য উপসাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং উত্তরে সিরিয়া ভূ-খণ্ড অবস্থিত। এছাড়া উদ্দীপকে কোরিয়ার ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সমতলভূমিকে উর্বর বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে প্রাক-ইসলামি আরব উপদ্বীপে পাহাড়ি ও উর্বর এ দুইটি ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। কোরিয়া উপদ্বীপের উর্বর অঞ্চলের ন্যায় আরব উপদ্বীপের উর্বর অঞ্চলেও কফি, নীল, খেজুর, শাক-সবজি ও বিভিন্ন ফলসমূহ, প্রচুর শস্য জন্মে। আর এভাবেই কোরিয়া উপদ্বীপের সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য রচিত হয়েছে।

