• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আব্দুস সামাদ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি এলাকার মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার পর সমাজের সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বলেন। এতে সমাজের এক শ্রেণির মানুষের কাছে তিনি শত্রু হয়ে যান। এক পর্যায়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তিনি দেশ ত্যাগে বাধ্য হন।

উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহামানবের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের সাথে মহানবি (স)-এর নবুয়ত লাভের পর ইসলাম প্রচার এবং এ কাজে নির্যাতনের শিকার হয়ে হিজরত করার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে গেলে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। সত্যের পথে থাকা এবং এ পথে মানুষকে আহ্বান করতে গিয়ে যুগে যুগে মহামানবেরা নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (স) তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর সত্যের পথে অবিচল থেকে ধৈর্য ও হিজরতের মাধ্যমে রাসুল (স)-এর পরিস্থিতি মোকাবিলার আংশিক প্রতিফলন লক্ষ করা যায় আব্দুস সামাদের কর্মকান্ডে। উদ্দীপকে দেখা যায়, আব্দুস সামাদকে এলাকাবাসী সবাই শ্রদ্ধা করত। তিনি মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার পর সবাইকে অনৈতিকতা পরিহার করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানান। কিন্তু তার এ কাজে সমাজের এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষীরা বিরোধিতা শুরু করে এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। একই ঘটনা পরিলক্ষিত হয় হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জীবনে। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে নবুয়ত লাভের পর মহানবি (স) গোপনে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে এবং পরবর্তীতে ৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে মক্কাবাসীদের কাছে তাওহিদের বাণী প্রচার শুরু করেন। এতে মক্কার পৌত্তলিক, কুরাইশসহ মূর্তিপূজার দিশারি সকল গোত্র মুহাম্মদ (স)-এর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মহানবি (স)-এর ওপর তারা অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে; তাঁকে পাগল বলে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে থাকে। কুরাইশদের অত্যাচার যখন চরম আকার ধারণ করে তখন মহানবি (স) আল্লাহর নির্দেশে তাঁর শিষ্যদের আবিসিনিয়ায় হিজরতের পরামর্শ দেন। তাছাড়া মহানবি (স) মক্কায় অবস্থান করলে তাঁর বিরুদ্ধে কুরাইশদের ষড়যন্ত্রের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি তারা রাসুল (স) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এ প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তাঁকে মদিনায় হিজরতের নির্দেশ দেন। কারণ তখন মদিনায় ইসলাম প্রচারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাই মহানবি (স) মহান আল্লাহর নির্দেশে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন এবং মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, রাসুল (স)-এর ইসলাম প্রচার, নির্যাতন সহ্য করা এবং হিজরতের ঘটনার সাথে আব্দুস সামাদের কর্মকাণ্ড আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()