• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মুক্তিযুদ্ধের সময় রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে প্রবেশের রাস্তা কেটে দিয়েছিল, যাতে পাকিস্তান আর্মি সহজে প্রবেশ করতে না পারে। রাস্তা কাটা থাকায় পাক আর্মি গাড়ি ছাড়া পায়ে হেঁটে গ্রামে প্রবেশ করার সাহস পায়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের এ রণকৌশলের কারণে রাশেদদের গ্রাম ছিল নিরাপদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ঘাঁটি।

হিজরত অর্থ কী?

'হিজরত' শব্দের অর্থ দেশত্যাগ, প্রস্থান এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করা।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

হিজরত ও দেশত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কী? বুঝিয়ে লেখো।

হিজরত এবং দেশত্যাগের মধ্যে মৌলিক ও উদ্দেশ্যগত কিছু পার্থক্য রয়েছে।

শাব্দিকভাবে হিজরত ও দেশত্যাগ একই অর্থ ধারণ করে। অর্থাৎ এগুলোর অর্থ এক দেশ বা একস্থান থেকে অন্য স্থানে প্রস্থান করা। কিন্তু উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে দুটি ভিন্ন বিষয়। দেশত্যাগ যে কোনো প্রয়োজনে, বৈষয়িক বা পার্থিব উদ্দেশ্য সাধনে হতে পারে। কিন্তু 'হিজরত' শব্দটির সাথে ইসলাম প্রচার বা প্রসারের বিষয়টি জড়িত। রাসুল (স) ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে বিরোধীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমান সময়েও কেউ যদি অনুরূপ পরিস্থিতিতে বা উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়, তবে তা হিজরত বলে পরিগণিত হবে।

#

উদ্দীপকের অনুরূপ রণকৌশল মহানবি (স) কোন যুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলেন? বর্ণনা করো

উদ্দীপকের অনুরূপ রণকৌশল মহানবি (স) খন্দকের যুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলেন।

ইসলামের সূচনালগ্নে যে কয়টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ হলো 'খন্দকের যুদ্ধ'। এ যুদ্ধ ইতিহাসে বিভিন্ন নামে পরিচিত। মুহাম্মদ (স) সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনার চারপাশে খাল বা খন্দক খনন করে যে অভিনব যুদ্ধ কৌশলের অবতারণা করেন তাই ইতিহাসে 'খন্দকের যুদ্ধ' নামে পরিচিত। উদ্দীপকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করতে কৌশল অবলম্বনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রামে প্রবেশের রাস্তা ভেঙে দিয়ে গ্রামবাসী শত্রুপক্ষ থেকে নিরাপদ থাকতে সক্ষম হয়। খন্দকের যুদ্ধেও এ ধরনের কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে মুসলমানরা কুরাইশদের পরাজিত করেছিল।

৬২৭ সালের ৩১ মার্চ কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনদের সর্বাধিনায়ক আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মক্কার মুশরিকরা মদিনা আক্রমণ করে। তাদের প্রতিহত করতে মুহাম্মদ (স) তিন হাজার সৈন্যের এক বাহিনী মদিনার চারপাশে খননকৃত পরিখার প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন। পরিখা পেরিয়ে হামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা মদিনাকে ২৭ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। কিন্তু দীর্ঘ অবরোধের ফলে শত্রু বাহিনীতে খাদ্য ও পানীয়ের অভাব দেখা দেয় ও ঝড়ো হাওয়ায় তাদের তাঁবু উড়ে যায়। অনুরূপ ঘটনা রাশেদদের গ্রামের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি কেটে দিয়েছিল, যাতে পাকিস্তানি আর্মি সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে। মুক্তিযোদ্ধারা এ রণকৌশলের মাধ্যমে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, খন্দকের যুদ্ধে রাসুল (স)-এর গৃহীত কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমেই রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা এদেশকে শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

#

মহানবি (স)-এর উক্ত রণকৌশলটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (স)-এর গৃহীত রণকৌশল অর্থাৎ মুসলমানদের পরিখা খনন করার মাধ্যমে মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল।

৬২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মার্চ কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনদের সম্মিলিত শক্তি উহুদ যুদ্ধের বিজয়ী সেনাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মদিনাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়। তাদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ১০,০০০। এ সমন্বিত শক্তির মোকাবিলা করার জন্য হযরত মুহাম্মদ (স) মাত্র ৩,০০০ সৈন্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণের জন্য মহানবি (স) সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করেন। বৈঠকে পারস্যের জনৈক মুসলমান সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনা নগরীর অরক্ষিত স্থানসমূহে গভীর পরিখা খনন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মহানবি (স) স্বয়ং এ কাজে অংশ নেন।

৬২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মার্চ মক্কার যৌথবাহিনী মদিনায় হামলা চালায়। কিন্তু মদিনার অভিনব আত্মরক্ষার কৌশল দেখে তারা বিস্মিত হয়। শত চেষ্টা সত্ত্বেও পরিখা অতিক্রম করে শত্রুপক্ষ মদিনায় প্রবেশ করতে পারেনি। তাই তারা ২৭ দিন মদিনা অবরোধ করে রাখে। দীর্ঘ অবরোধের পর খাদ্যাভাব, ঝড়-বৃষ্টি, হিমেল হাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যৌথবাহিনী অবরোধ প্রত্যাহার করে স্বদেশে ফিরে যায়। শুধু পরিখা খননের এই কৌশলের মাধ্যমে মুসলমানরা শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পায়, যা ছিল মুসলমানদের জন্য অনেক বড় বিজয়। উদ্দীপকে রাশেদদের গ্রামের লোকেরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য গ্রামে প্রবেশের রাস্তাটি কেটে ফেলে। ফলে হানাদার বাহিনী ঐ গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে তাদের গ্রাম রক্ষা পায়। একইভাবে খন্দকের যুদ্ধের সময় মদিনার অরক্ষিত অঞ্চলগুলোতে পরিখা খনন করে। এই পরিখা অতিক্রম করে শত্রু বাহিনী সামনে সামনে এগুতে ব্যর্থ হয়।

পরিশেষে বলা যায় যে, যুদ্ধের সময় পরিখা খননের মতো এ ধরনের কৌশল গ্রহণ যুদ্ধ জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।