• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বিরূপ আবহাওয়া, প্রকৃতির শুষ্কতা ও রুক্ষতার জন্য প্রাচীন আরবের মক্কাবাসীগণ কোনো কিছু ভালোভাবে চিন্তা করতে পারত না। অন্যদিকে, পুতুল পূজার বিপরীতে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের অর্থোপার্জনের পথ, সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক প্রভুত্ব সবই শেষ হয়ে যায়। অপরদিকে শস্য-শ্যামল ও স্বাস্থ্যকর মদিনার অধিবাসীগণ সত্য ও শান্তির ধর্ম ইসলামকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং মদিনার দুটি গোত্র মহানবি (স) কে তাদের মধ্যকার বিরোধ দূরীকরণের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করেন। ফলে সত্যের ডাকে ও কর্তব্যের খাতিরেই মহানবি (স) কে মদিনায় হিজরত করতে হয়েছিল।

উদ্দীপকে উল্লিখিত কারণ ব্যতীত মহানবি (স)-এর মদিনায় হিজরতের আরও কারণ আছে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উদ্দীপকে উল্লিখিত কারণ ছাড়াও মহানবি (স)-এর মদিনায় হিজরতের পেছনে আরও কারণ বিদ্যমান ছিল।

মহানবি (স)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পেছনে কিছু কারণ ছিল যার তিনটি উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- প্রাকৃতিক প্রভাব, আভিজাত্য ও কৌলিন্য প্রথা এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আহ্বান। হিজরতের পেছনে শুধু এ কারণগুলোই নিহিত ছিল না। এগুলো ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় মহানবি (স)-কে হিজরতে বাধ্য করেছিল। ইসলামের ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, কোনো নবিকেই তাঁর স্বদেশবাসী সাদরে গ্রহণ করেনি। মহানবি (স)-ও মক্কাবাসীদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাননি। মক্কার অভিজাত কুরাইশগণ মহানবি (স) কে চিরশত্রু মনে করে তাঁর ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালায় এবং ইসলাম প্রচারে বাধা দেয়। তাদের প্রবল বাধা সত্ত্বেও ইসলাম দিন দিন প্রসার লাভ করতে থাকে। ফলে সর্বশেষ নির্যাতন হিসেবে তারা মহানবি (স)-কে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরূপ পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ মহানবি (স)-কে ওহির (আল্লাহর কাছ থেকে প্রাপ্ত আদেশ) মাধ্যমে মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরতের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে পৌত্তলিকতা, জড়বাদ, খ্রিষ্টানবাদ কোনোটিই মদিনার সাধারণ জনগণকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। এসব ধর্মের প্রভাবে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত ছিল। তাই তারা মক্কার নিকটবর্তী আকাবা নামক স্থানে দু'বার রাসুল (স)-এর কাছ থেকে বায়াত (ইসলাম গ্রহণের শপথ) গ্রহণ করে তাঁকে মদিনায় হিজরতের আহ্বান জানান। মহানবি (স)-এর পিতা আবদুল্লাহ এবং পূর্বপুরুষ হাশিম মদিনায় বিয়ে করেছিলেন। এ আত্মীয়তার সম্পর্ক মহানবি (স)-কে মদিনায় হিজরতের অনুপ্রেরণা দেয় এবং মদিনাবাসীও তাঁকে সাহায্যের আশ্বাস দেয়। এছাড়া মদিনার ইহুদিগণ তাদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতের মাধ্যমে মহানবি (স)-এর আবির্ভাবের বিষয়টি জানতে পারে। এ কারণেও তারা মহানবি (স)-কে আমন্ত্রণ জানায়। মদিনাবাসীদের এমন আগ্রহ দেখে মহানবি (স) তাঁর অনুগত মুসাব (রা)-কে মদিনায় পাঠান। তিনি মদিনায় ইসলাম প্রচারের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে তাঁকে অবহিত করেন। ফলে তিনি মদিনায় হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন।

সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও এসব কারণে মহানবি (স) মদিনায় হিজরত করেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মদিনার পূর্ব নাম কী ছিল?

মদিনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াসরিব।

#

কাদেরকে আনসার ও মুহাজির বলা হয়?

জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে যারা হিজরত করেন তাদেরকে মুহাজির এবং যারা হিজরতকারীদের সর্বতোভাবে সাহায্য ও আশ্রয় দান করেন তাদেরকে আনসার বলা হয়। মক্কায় ইসলাম প্রচারের কারণে মহানবি (স) এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এ কারণে আল্লাহর নির্দেশে যারা জন্মভূমি ও আত্মীয়-স্বজনের মায়া কাটিয়ে মক্কা হতে মদিনায় হিজরত করেন তাদেরকে মহানবি (স) মুহাজির নামে অভিহিত করেন। আর রক্তের সম্পর্ক বিবেচনা না করে ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে মুহাজিরদের যারা আশ্রয়দান করেন তাদেরকে তিনি 'আনসার' (সাহায্যকারী) নামে অভিহিত করেন।

#

মহানবি (স)-এর হিজরতের কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে মহানবি (স)-এর মদিনায় হিজরতের (দেশত্যাগ বা একস্থান থেকে অন্যস্থানে গমন) তিনটি কারণ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে নবুয়ত প্রাপ্তির ১২ বছর পর ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।

মূলত তিনি ইসলাম প্রচার এবং সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধনে মদিনাবাসীকে আবদ্ধ করতে হিজরত করেছিলেন। এছাড়াও মহানবি (স) এর হিজরতের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ নিহিত ছিল, যার তিনটি কারণ উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত হিজরতের কারণসমূহের মধ্যে একটি হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ। শুষ্ক জলবায়ু এবং উষ্ণ আবহাওয়ার জন্য মক্কাবাসীগণ ছিল রুক্ষ এবং বদমেজাজি। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা গভীরভাবে চিন্তা করতে পারত না। অপরদিকে, মদিনার সুশীতল স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া ও শস্য-শ্যামল ভূমির কারণে সেখানকার লোকজন সুবিবেচক, দয়ালু, শান্ত ও সরলমনা ছিল। তাই তারা ইসলামকে সাদরে গ্রহণ করে এবং মহানবি (স)কে মদিনায় হিজরতের আহ্বান জানায়। মহানবি (স)-এর হিজরতের আর একটি কারণ হলো তৎকালীন আরবে বিদ্যমান আভিজাত্য ও কৌলীন্যপ্রথা। মক্কার স্বার্থপর পুরোহিত শ্রেণি এবং রক্ষণশীল কুরাইশগণ ইসলাম প্রচারের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ পৌত্তলিকতার অবসান ঘটিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই তারা মহানবি (স)-এর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হিজরত করতে বাধ্য করে। এছাড়া উদ্দীপকে হিজরতের আর যে কারণটি উল্লেখ করা হয়েছে সেটি হলো মদিনাবাসীর মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ মীমাংসাকারী হিসেবে মহানবি (স)কে তাদের আমন্ত্রণ। মদিনার আওস ও খাযরাজ গোত্র দুটি তাদের মধ্যকার বুয়াস নামক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারীর সন্ধান করছিল। এ কারণে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবি (স)কে তারা আমন্ত্রণ জানায়। তিনি তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় পৌছান। মহানবি (স)-এর মদিনায় হিজরতের উল্লিখিত কারণগুলোই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।