- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
কমলাপুর গ্রামের মানুষ পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদেরকে আক্রমণ করলে যুদ্ধে কমলাপুর গ্রাম পরাজিত হয় এবং তাদের নেতা নিহত হন। এ পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলা এবং নেতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য কমলাপুরবাসী আবারো ইসলামপুর গ্রাম আক্রমণ করে। ফলে ইসলামপুর গ্রামের চেয়ারম্যান ইবনে আব্দুল্লাহ ৫০ জন তীরন্দাজকে নির্দেশ দেন, আমরা সবাই যুদ্ধে মারা গেলেও তোমরা এখান থেকে সরবে না। কিন্তু নেতার আদেশ অমান্য করার জন্য ইসলামপুরবাসী এ যুদ্ধে পরাজিত হন।
উহুদের যুদ্ধে কুরাইশ নেতা কে ছিলেন?
উহুদের যুদ্ধে কুরাইশ নেতা ছিলেন আবু সুফিয়ান।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'ফাতহুম মুবিন' কী? ব্যাখ্যা কর।
হুদায়বিয়ার সন্ধিকেই 'ফাতহুম মুবিন' বা সুস্পষ্ট বিজয় বলা হয়।
ইসলাম ও বিশ্বের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি এক যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ এটি সর্বতোভাবে মুসলিমদের স্বার্থের অনুকূলে ছিল। ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স) এবং কুরাইশদের মধ্যে মক্কার নিকটবর্তী হুদায়বিয়া নামক স্থানে এ সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এ সন্ধির দ্বারা কুরাইশরা মহানবি (স)-কে একজন মহান নেতা এবং মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নেয়। এ সন্ধির মাধ্যমে মুসলমানরা যে একটি স্বতন্ত্র শক্তি তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মোট কথা, এ সন্ধি মুসলমানদের একটি স্থায়ী রাজনৈতিক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। এ কারণে হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবিন' বা শ্রেষ্ঠ বিজয় বলা হয়।
উদ্দীপকের ঘটনা তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের ঘটনা আমার পাঠ্যপুস্তকের উহুদ যুদ্ধের ঘটনার প্রতি ইজিাত করে।
মহানবি (স) মহান আল্লাহর নিকট ধৈর্যের যতগুলো পরীক্ষা দিয়েছিলেন তার মধ্যে উহুদ যুদ্ধ একটি। এটি মুসলমানদের জন্যও এক কঠোর অগ্নিপরীক্ষা ছিল। এ যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা পরবর্তীতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা অর্জন করেছিল। ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের নিকট কুরাইশদের পরাজয় ঘটে। এ প্রেক্ষাপটে ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি এ যুদ্ধের ঘটনারই দৃষ্টান্ত বহন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কমলাপুর গ্রামের মানুষ পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয় এবং তাদেরকে আক্রমণ করে যুদ্ধে পরাজিত হয় এবং তাদের নেতাকে হারায়। তাই প্রতিশোধ নিতে তারা আবারও ইসলামপুর গ্রাম আক্রমণ করে। এ সংঘর্ষে নেতার নির্দেশ অবমাননার কারণে ইসলামপুরের পরাজয় ঘটে। উহুদ যুদ্ধের ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষণীয়। মহানবি (স) মদিনায় হিজরতের মাত্র দুই বছরের মধ্যে ইসলাম ধর্ম প্রসার লাভ করে। সেখানে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে কুরাইশগণ ভীষণভাবে ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। ফলে কুরাইশগণ মুসলমানদের সাথে বদরের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এতে আবু জেহেলসহ বহু কুরাইশ নিহত হয় এবং তারা পরাজয় বরণ করে। ফলশ্রুতিতে কুরাইশরা প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য আবারও উহুদের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এ যুদ্ধে মহানবি (স)-এর নির্দেশ অমান্যের কারণে মুসলমানদের সাময়িক পরাজয় ঘটে। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, উদ্দীপকের ঘটনা উদ্বুদের যুদ্ধের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
'নেতার আদেশ অমান্য করা উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের অন্যতম কারণ'- উক্তিটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
নেতার আদেশ অমান্য করাই উক্ত যুদ্ধে অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
যেকোনো যুদ্ধে বা কাজে নেতা হলেন অনুসরণীয় আদর্শ। তিনি হলেন পরিচালক। তার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক নির্দেশ যে কোনো কাজে সফলতা বা যুদ্ধে জয়লাভে সহায়তা করে। নেতার আদেশ অমান্য করে কোনো কালেই কোনো শক্তি জয়লাভ করতে পারেনি। এমন পরাজয়ের দৃষ্টান্তই উদ্দীপকে বর্ণিত ইসলামপুর এবং উদ্বুদ যুদ্ধের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলা এবং নেতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য কমলাপুর গ্রামের মানুষ ইসলামপুর গ্রাম আক্রমণ করে। এ আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ইসলামপুর গ্রামের চেয়ারম্যান ইবনে আবদুল্লাহ ৫০ জন তীরন্দাজকে নির্দিষ্ট স্থান ত্যাগ না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ অমান্য করার কারণে ইসলামপুরের পরাজয় ঘটে। উহুদ যুদ্ধেও একই কারণে মুসলমানরা পরাজিত হয়েছিল। এ যুদ্ধে হযরত মুহাম্মদ (স) আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের নেতৃত্বে ৫০ জন তীরন্দাজ সৈন্যকে উদ্বুদ ও আইনাইন পর্বতের মাঝামাঝি সংকীর্ণ গিরিপথে নিয়োজিত করেন। যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ সৈন্যদের এখানে অবস্থান করতে বলেন। কিন্তু সৈন্যরা মহানবি (স)-এর আদেশ অমান্য করে গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ; যেমন- অশ্ব, উট, অস্ত্রশস্ত্র প্রভৃতি) মাল সংগ্রহের জন্য গিরিপথ থেকে সরে গেলে কুরাইশরা খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে এ পথ দিয়ে আক্রমণ করে মুসলমানদের পরাজিত করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, উহুদ যুদ্ধের নেতা মুহাম্মদ (স) দূরদৃষ্টির অধিকারী ছিলেন। তিনি যুদ্ধের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গিরিপথ থেকে সৈন্যদের না সরার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ না মানার কারণেই মুসলমানরা পরাজয়ের গ্লানি বরণ করে।

