• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মজিদ লালসালুকে ঘিরে যে মিথ্যা মাজারটি তৈরি করেছে সেটা দিয়েই তার জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়। এটি নিরাপদ করার জন্য সে একদল ভক্ত শ্রেণিও তৈরি করে। এলাকার শিক্ষিত শ্রেণি যখন মজিদের এই মিথ্যার প্রতিরোধে সোচ্চার হলো তখন সে তার ভক্তদের নিয়ে প্রতিরোধকারীদের নিঃশেষ করতে উঠেপড়ে লাগল। ফলে উভয় পক্ষ প্রথম সরাসরি যে লড়াইয়ে অবর্তীর্ণ হয় তাতে শিক্ষিত শ্রেণিই জয়লাভ করে।

উদ্দীপকে বর্ণিত মজিদের স্বার্থ ও কুরাইশদের স্বার্থ একই সূত্রে গাঁথা- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

স্বার্থগত বিষয় বিবেচনায় উদ্দীপকের মজিদ মক্কার কুরাইশদেরই প্রতিনিধিত্ব করছে।

স্বার্থান্ধ মানুষেরা নিজেদের স্বার্থে আঘাত লাগলেই সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের মজিদ তার বাস্তব দৃষ্টান্ত। মক্কার কুরাইশরাও স্বার্থগত কারণে মহানবি (স)-এর বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়। মহানবি (স) ইসলাম প্রচার করতে থাকলে মক্কার কুরাইশগণ ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। কেননা এতে তাদের পুরোহিতের একচেটিয়া অধিকারের ভিত্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে থাকে। মক্কার কুরাইশরা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তব্যগুলো থেকে দূরে সরতে বাধ্য হয়। তাছাড়া সিরিয়া ও পারস্যের বাণিজ্য পথে মদিনা অবস্থিত ছিল। কুরাইশদের সাথে এ দুই দেশেরই বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু রাসুল (স)-এর ইসলাম প্রচারের কাজ মদিনায়ও সম্প্রসারিত হচ্ছিল। ফলে বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় কুরাইশরা রাসুল (স)-এর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত মজিদও নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য লালসালুকে ঘিরে একটি মিথ্যা মাজার তৈরি করে। আর নিজের স্বার্থ উদ্ধারে যাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য প্রতিরোধকারী শিক্ষিত শ্রেণির সাথে সে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করে। নিজের অন্যায় কাজ আর ভন্ডামিকে টিকিয়ে রাখতে সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, স্বার্থগত দিক থেকে উদ্দীপকের মজিদ ও কুরাইশদের অভিন্নতা সম্পর্কিত প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()