- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'ক' অঞ্চলের একজন মহাপুরুষ নতুন ধর্মমত প্রচার শুরু করেন। ফলে ঐ অঞ্চলের পুরাতন ধর্মমতের অনুসারীরা তাঁর ওপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। এ অবস্থায় তিনি মাতৃভূমি ত্যাগ করে অন্যত্র গমন করেন। সেখানকার লোকেরা তাঁকে সাদরে গ্রহণ করে এবং তাঁকে রাষ্ট্র প্রধানের মর্যাদা দেয়। তিনি কৃতিত্বের সাথে ৪৭টি নীতিমালা প্রণয়ন করে কলহপ্রিয় গোত্রগুলিকে একত্রিত করে একটি জাতিতে পরিণত করেন ও একটি প্রজাতন্ত্র উপহার দেন।
জাজিরাতুল আরব বলতে কী বোঝ?
জাজিরাতুল আরব বলতে আরব ভূখন্ডকে বোঝায়।
'জাজিরা' আরবি শব্দ। এর অর্থ উপদ্বীপ। আর আরব একটি ভূখণ্ডের নাম। সুতরাং জাজিরাতুল আরব অর্থ আরব উপদ্বীপ। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরব দেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এর তিন দিকে বিশাল জলরাশি এবং একদিকে বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তর দ্বারা বেষ্টিত। এরূপ ত্রিভুজাকৃতির ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই আরব দেশকে জাজিরাতুল আরব বলা হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কুরাইশ শব্দের অর্থ কী?
'কুরাইশ' শব্দের অর্থ বণিক বা সওদাগর।
উদ্দীপকের মহাপুরুষের অন্যত্র গমনের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন মহাপুরুষের মাতৃভূমি ত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে'- ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের মহাপুরুষের অন্যত্র গমনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় গমন করার সাদৃশ্য রয়েছে।
শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান বার্তা নিয়ে মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (স) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে নবুয়ত লাভের পর তিনি ধীরে ধীরে মক্কায় তাওহিদের (আল্লাহর একত্ববাদ) প্রচার করতে থাকেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মক্কার কুরাইশরা তাঁর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা তাঁর জীবননাশের চেষ্টা করলে আল্লাহর নির্দেশে তিনি ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় গমন করেন, যা ইসলামের ইতিহাসে হিজরত নামে পরিচিত। উদ্দীপকে বর্ণিত মহাপুরুষের ক্ষেত্রেও এমনটি পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' অঞ্চলের একজন মহাপুরুষ নতুন ধর্মমত প্রচার করতে গিয়ে পুরাতন ধর্মমত অনুসারীদের অত্যাচর-নির্যাতনের শিকার হন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি মাতৃভূমি ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যান, সেখানকার লোকেরা তাকে সাদরে গ্রহণ করে। একইভাবে হযরত মুহাম্মদ (স) মক্কার কুরাইশদের গভীর ষড়যন্ত্রে টিকে থাকতে না পেরে মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় স্থানান্তরিত হন তথা হিজরত করেন। সেখানে তিনি সবার কাছে গ্রহণীয় ব্যক্তিতে পরিণত হন। যেমনটি 'ক' অঞ্চলের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মহাপুরুষের সাথে রাসুল (স)-এর মদিনায় হিজরত এবং সেখানে সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনাবলি সাদৃশ্যপূর্ণ।
তুমি কি মনে কর, উক্ত মহাপুরুষ শতধাবিভক্ত জাতিকে একত্রিত করতে পেরেছিলেন? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত মহাপুরুষ অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (স) ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ' প্রণয়নের মাধ্যমে মদিনায় বসবাসকারী শতধা বিভক্ত জাতিকে একত্র করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
মহানবি (স) ছিলেন সর্বযুগের সকল মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মদিনায় হিজরত করে তিনি তাঁর উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তথা- সাম্য, উদারতা, ন্যায়নিষ্ঠা, সততা, ভ্রাতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি দ্বারা মদিনাবাসীকে আকৃষ্ট করেন। তিনি তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মদিনায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করেন। সকলের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে সবাইকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করেন। উদ্দীপকেও যার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের বর্ণনার মাধ্যমে রাসুল (স)-এর হিজরত এবং মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে মদিনায় আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
মহানবি (স) মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের পর উপলব্ধি করেন যে মদিনা ও আশেপাশে বসবাসকারী ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করা ছাড়া একটি সুসংহত রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। মদিনায় অবস্থিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবি (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন।
মদিনায় বসবাসরত ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক, আনসার, মুহাজিরসহ সর্বসাধারণের অধিকার রক্ষায় মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। মদিনা সনদ মদিনার সকল মানুষের, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করে। কেননা মদিনা সনদ মদিনাবাসীর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে, শতধাবিভক্ত মদিনাবাসী মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে বিপদে-আপদে পাশে থাকতে অনুপ্রাণিত করে। মদিনার মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে ও ইসলামি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মদিনা সনদের গুরুত্ব অপরিসীম।
উপর্যুক্ত আলোচনায় এটা প্রমাণিত হয় যে, রাসুল (স) তাঁর ঐক্য ও উদারনীতি বাস্তবায়ন করে শতধাবিভক্ত মদিনাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

