- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একজন সাধক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে এসে বাধার মুখে পড়েন। যুদ্ধ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও মহাপুরুষের প্রতিপক্ষ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। শান্তিপ্রিয় সাধক সংলাপের প্রস্তাব দিলেন। শুরুতে অচল অবস্থা দেখা দেয়। পরবর্তীতে সংলাপ ফলপ্রসূ হয়। ১২ বছরের জন্য যুদ্ধ বিরতিতে দুপক্ষ সম্মত হয় পরবর্তীতে এই সমঝোতা সাধকের জন্য মহাবিজয় বয়ে আনে।
উহুদের যুদ্ধে কুরাইশ নেতা কে ছিলেন?
উহুদের যুদ্ধে কুরাইশ নেতা ছিলেন আবু সুফিয়ান।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
উদ্দীপকটি কোন ঘটনার ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকটি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হুদায়বিয়ার সন্ধিকে ইঙ্গিত করে।
ইসলাম ও পৃথিবীর ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি এক যুগান্তকারী ঘটনা। মক্কার কুরাইশরা মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশে বাধা প্রদানের প্রেক্ষিতে উভয়পক্ষের মধ্যে যখন বিরোধ তুঙ্গে ওঠে সেই মুহূর্তে কুরাইশরা 'মহানবি (স)-এর সাথে সন্ধি করতে সম্মত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। উদ্দীপকেও এ বিষয়ের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, একজন সাধক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে এসে বাধার মুখে পড়েন। সাধকের প্রতিপক্ষ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। শান্তিপ্রিয় সাধক সংলাপের প্রস্তাব দিলে তাদের মধ্যে ১২ বছর যুদ্ধ বিরতির চুক্তি হয়। এই সমঝোতা সাধকের জন্য মহাবিজয় বয়ে আনে। অনুরূপভাবে মদিনায় হিজরতের পর দীর্ঘ ছয় বছর মহানবি (স) ও তার অনুসারীরা মক্কা দর্শন ও হজ পালন করেননি। এজন্য মহানবি (স) তাঁর ১৪০০ জন সাহাবি নিয়ে অষ্টম হিজরির জিলকদ মাসের ২৫ তারিখে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কিন্তু কুরাইশরা মহানবি (স)-এর আগমনের সংবাদ পেয়ে 'সতুওয়া' নামক স্থানে প্রতিরোধ গড়ে। ফলে মহানবি (স) মক্কার নয় মাইল দূরে হুদায়বিয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। এ অবস্থায় তিনি ওসমান (রা)-কে শান্তির প্রস্তাব নিয়ে কুরাইশদের শিবিরে পাঠালে তার আটক হওয়ার গুজব রটায়। ফলে মুসলমানগণ এর প্রতিশোধ নেওয়ার কঠোর শপথ করলে কুরাইশরা ভীত হয়ে মহানবি (স)-এর সাথে হুদায়বিয়ার সন্ধি দ্বাক্ষর করেন। উদ্দীপকেও এ ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে।
তুমি কী এই সমঝোতাকে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলে মনে কর? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
হুদায়বিয়ার সন্ধির মাঝে ইসলামের সর্বাত্মক বিজয় সংকেত লুকায়িত ছিল। এ সন্ধি স্বাক্ষর করে মহানবি (স) অসাধারণ প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দেন। এ চুক্তি বিশ্বে মুসলমানদের একটি স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে। তাই কুরআনে এ চুক্তিকে 'ফাতহুম মুবিন' বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
হুদায়বিয়ার সন্ধি মুসলমানদের জন্য শ্রেষ্ঠ বিজয়। আপাতদৃষ্টিতে এ সন্ধিপত্র কুরাইশদেরই অনুকূলে সম্পাদিত হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু দূরদৃষ্টিতে বিচার করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এটি সর্বোতভাবে মুসলিম স্বার্থের অনুকূলে হয়েছিল। এ চুক্তিটি মুসলমানদেরকে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক মর্যাদা দান করে। মুসলমানরা যে একটি স্বতন্ত্র শক্তি তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ চুক্তির মাধ্যমেই কুরাইশরা মহানবি (স)-কে একজন মহান নেতা এবং মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নেয়। হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে দশ বছর যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ হওয়ায় মুসলমানগণ নিশ্চিন্তভাবে বসবাস করার সুযোগ লাভ করে। এ সন্ধির ফলে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের পথ দিন দিন প্রশস্ত হতে থাকে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে। ইসলামের শ্রেষ্ঠ বীর ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক ইসলাম গ্রহণ করে।
ফলে ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি পায়। হুদায়বিয়ার সন্ধির ফলেই মুসলমানরা বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করে। এছাড়াও হুদায়বিয়ার সন্ধি ইসলামের ও মুসলমানদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুফল বয়ে আনে। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, হুদায়বিয়ার সন্ধি ছিল মুসলমানদের জন্য প্রকাশ্য বিজয়।

