- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন রহমান সাহেব। কমান্ডার জলিল সাহেবের দলে তিনি যুদ্ধে অংশ নেন। এ বাহিনী সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে যখন তাদের অঞ্চলকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন উক্ত বাহিনীর অধিনায়ক এক অভিনব পন্থা বের করেন। তার পরামর্শে রাতের অন্ধকারে উক্ত অঞ্চলের প্রবেশের প্রধান প্রধান সড়কগুলো কেটে বড় বড় খাদের সৃষ্টি করে দিয়ে সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে শত্রু বাহিনীর হাত থেকে উক্ত অঞ্চল রক্ষা পায়।
উক্ত কৌশলের দ্বারাই মহানবি (স) মদিনাকে রক্ষা করতে সক্ষম হন- মূল্যায়ন করো।
উক্ত রণকৌশলটির কারণেই উদ্দীপকের অঞ্চলটির মতো মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মদিনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বজায় ছিল- উক্তিটি যথার্থ হয়েছে।
যুদ্ধে প্রতিপক্ষ দলের মোকাবিলা করার জন্য সামরিক শক্তির পাশাপাশি উন্নত রণকৌশলেরও প্রয়োজন হয়। ইসলামের ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধে অভিনব রণকৌশল প্রয়োগ করা হয়েছিল। উদ্দীপকেও অনুরূপ ঘটনা পরিলক্ষিত হয়।
খন্দকের যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা অনেক কম ছিল। মহানবি (স) নিজেদের এই সামরিক দুর্বলতার জন্য মদিনার ভিতরে থেকেই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেন। মদিনাকে শত্রুপক্ষের প্রবল আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য উত্তর-পশ্চিম দিকে দশ হাত প্রশস্ত ও দশ হাত গভীর পরিখা খনন করেন। ফলে শত্রুপক্ষ এই পরিখা পার হতে না পেরে মদিনাবাসীর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধারাও শত্রুবাহিনীকে অনুরূপ কৌশলের মাধ্যমে তাদের অঞ্চলে ঢুকতে দেয়নি। এক্ষেত্রে তারা তাদের অঞ্চলে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি কেটে দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। আর এই কৌশল অবলম্বনের ফলেই মুক্তিযোদ্ধাদের অঞ্চলটি শত্রুবাহিনী থেকে নিরাপদ ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, পরিখা খননের ফলেই মুশরিকদের আক্রমণ থেকে মদিনা নিরাপদ থাকে। আর মুক্তিযোদ্ধারাও রাস্তা কেটে শত্রুর আক্রমণ থেকে তাদের অঞ্চলকে রক্ষা করে।

