- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর সরকার প্রধান দেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নের কথা ভাবলেন যেখানে নাগরিকদের সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অধিকারের কথা বর্ণিত থাকবে। রাষ্ট্রের সকল সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক দল একটি স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের কর্মকান্ড স্বাধীনভাবে পরিচালনার দিক নির্দেশনা লাভ করবে। এ নিয়ে সরকার প্রধান, রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান রচনা করেন। এর ফলে রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধান প্রণয়নের সাথে মহানবি (স)-এর যে পদক্ষেপটির সাদৃশ্য রয়েছে তার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সাথে মহানবি (স)-এর মদিনা সনদের সাদৃশ্য রয়েছে।
রাসুল (স) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনা ও আশপাশে বসবাসকারী সম্প্রদায়দের মধ্যে সম্ভাৰ ও সম্প্রীতি স্থাপন করার জন্য যে সনদ প্রণয়ন 'করেন তাই 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। এ সনদ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় দিক দিয়ে এক বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। এটাই বিশ্বের ইতিহাসে সর্ব প্রথম লিখিত সংবিধান।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার পর সরকার প্রধান দেশের জন্য এমন একটি সংবিধানের কথা ভাবলেন যেখানে নাগরিকদের রাজনৈতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের কথা থাকবে। তাই রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সংবিধান রচনা করা হয়। ফলে নাগরিক অধিকার ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকে। এ বিষয়টি রাসুল (স)-এর মদিনা সনদের সাথে তুলনীয়। কেননা মদিনা সনদের ফলে সকল নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত হয়। মদিনার মুসলিম ও অমুসলিম সম্প্রদায় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এক সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়। তাই বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন রাসুল (স)-এর মদিনা সনদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মহানবি (স) কত খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন?
মহানবি (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন।
'হুজ্জাতুল বিদা' বলতে কী বোঝায়?
মহানবি (স)-এর প্রথম পূর্ণাঙ্গ এবং সর্বশেষ হজ পালনকেই 'হুজ্জাতুল বিদা' বা বিদায় হজ বলা হয়।
হিজরির দশম বছরে দলে দলে লোক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ায় হজরত মুহম্মদ (স) বুঝতে পারলেন তাঁর ওপর অর্পিত ইহলৌকিক কর্তব্য শেষ হয়েছে। পরস্পরের আহ্বান সমাগত। এ উপলব্ধি থেকে তিনি হজ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১০ হিজরি সনের ২৫ জিলকদ (৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি) ১ লক্ষ ১৪ হাজার মুসলমান নিয়ে মক্কায় হাজির হন। এটিই মহানবি (স)-এর প্রথম পূর্ণাঙ্গ এবং সর্বশেষ হজ পালন।
'উক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে মহানবি (স)-এর রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে উঠেছে।' মূল্যায়ন করো।
মদিনা সনদের মাধ্যমে মহানবি (স)-এর রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে উঠেছে।
ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান মদিনা সনদ। এ সনদ প্রমাণ করে যে রাসুল (স) একজন ধর্ম প্রচারকই নন বরং বিশ্বের একজন শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। ঐতিহাসিক ম্যুর বলেন, 'রাসুল (স)-এর বিরাট ব্যক্তিত্ব ও অপূর্ব মননশীলতা শুধু তৎকালীন যুগের নয়। বরং সর্ব যুগের ও সর্বকালের মহামানবের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক।'
মদিনা সনদ মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, দ্বেষ ও কলহের অবসান ঘটায়। মদিনা তথা ইসলামি প্রজাতন্ত্র সংরক্ষণে সকলের সমভাবে যুদ্ধব্যয় বহন করার ব্যবস্থা রাসুল (স)-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক। এ সনদের ধারাগুলো প্রমাণ করে রাসুল (স) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী মহাপুরষ ও রাষ্ট্রনায়ক। এ সনদ রাসুল (স)-কে কুরাইশদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে। মদিনা সনদের মাধ্যমে মুসলিম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব আল্লাহ রাসুল (স)-এর উপর ন্যস্ত হয়। ফলে সকলের জান, মাল নিরাপত্তা পায়।
পরিশেষে বলা যায়, মদিনা সনদের মাধ্যমে রাসুল (স) যে দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তা তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার দিকটি ফুটিয়ে তোলে।

