- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর সরকার প্রধান দেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নের কথা ভাবলেন যেখানে নাগরিকদের সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অধিকারের কথা বর্ণিত থাকবে। রাষ্ট্রের সকল সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক দল একটি স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের কর্মকান্ড স্বাধীনভাবে পরিচালনার দিক নির্দেশনা লাভ করবে। এ নিয়ে সরকার প্রধান, রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান রচনা করেন। এর ফলে রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
'উক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে মহানবি (স)-এর রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে উঠেছে।' মূল্যায়ন করো।
মদিনা সনদের মাধ্যমে মহানবি (স)-এর রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে উঠেছে।
ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান মদিনা সনদ। এ সনদ প্রমাণ করে যে রাসুল (স) একজন ধর্ম প্রচারকই নন বরং বিশ্বের একজন শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। ঐতিহাসিক ম্যুর বলেন, 'রাসুল (স)-এর বিরাট ব্যক্তিত্ব ও অপূর্ব মননশীলতা শুধু তৎকালীন যুগের নয়। বরং সর্ব যুগের ও সর্বকালের মহামানবের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক।'
মদিনা সনদ মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, দ্বেষ ও কলহের অবসান ঘটায়। মদিনা তথা ইসলামি প্রজাতন্ত্র সংরক্ষণে সকলের সমভাবে যুদ্ধব্যয় বহন করার ব্যবস্থা রাসুল (স)-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক। এ সনদের ধারাগুলো প্রমাণ করে রাসুল (স) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী মহাপুরষ ও রাষ্ট্রনায়ক। এ সনদ রাসুল (স)-কে কুরাইশদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে। মদিনা সনদের মাধ্যমে মুসলিম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব আল্লাহ রাসুল (স)-এর উপর ন্যস্ত হয়। ফলে সকলের জান, মাল নিরাপত্তা পায়।
পরিশেষে বলা যায়, মদিনা সনদের মাধ্যমে রাসুল (স) যে দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তা তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার দিকটি ফুটিয়ে তোলে।

