• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সামাজিক পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু রাখার জন্য তখন একটি সংবিধান প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়ে। দেশের সকল মানুষ ও সম্প্রদায়ের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ রেখে সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। এতে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অধিকারের পাশাপাশি মৌলিক মানবাধিকারও নিশ্চিত হয়।

গৃহীত ও সংবিধানটিতে রাসুল (স)-এর ইহুদি, খ্রিস্টানদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কস্থাপনে দূরদর্শিতা ও সহনশীলতার পরিচয় মেলে- মন্তব্যটি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

মহানবি (স)-এর গৃহীত পদক্ষেপে ইহুদি, খ্রিষ্টানদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ও সহনশীলতার পরিচয় মেলে- উক্তিটি যথার্থ।

মহানবি (স) যে নিছক একজন ধর্ম প্রচারকই নন বরং বিশ্বের একজন শ্রেষ্ঠ রাজনীতিক, কূটনীতিক ও বিপ্লবী মহাপুরুষ ছিলেন তা এ সনদের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। ঐতিহাসিক উইলিয়াম ম্যুর বলেন, "হজরত মুহাম্মদ (স)-এর বিরাট ব্যক্তিত্ব ও অপূর্ব মননশীলতা শুধু তৎকালীন যুগের পরই নয়। সর্বযুগের ও সর্বকালের মহামানবের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক।" মদিনা সনদ মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, দ্বেষ ও কলহের অবসান ঘটায়। মদিনা রাষ্ট্র তথা ইসলামি প্রজাতন্ত্র সংরক্ষণে সকলের সমভাবে যুদ্ধ ব্যয় বহন করার ব্যবস্থা, হজরত মুহাম্মদ (স)-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক। মদিনা সনদ মদিনায় মহানবির অবস্থান সুসংহত করে। মদিনা সনদের ধারাগুলো প্রমাণ করে যে, মুহাম্মদ (স) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী মহাপুরুষ ও যুগান্তকারী রাষ্ট্রনায়ক। এ সনদ মহানবি (স)কে মদিনা রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং কুরাইশদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানকে শক্তিশালী করে। মদিনা সনদের মাধ্যমে মুসলিম রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর নবি মুহাম্মদ (স)-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়। ইসলামি রাষ্ট্রের জনসাধারণকে তাদের গোত্রীয় স্বাধীনতা পরিহার করে ঐশী নির্দেশের নিকট আনুগত্য স্বীকার করতে হয়।

পরিশেষে বলা যায় যে, মদিনা সনদের মাধ্যমে হজরত মুহাম্মদ (স) যে দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার দিকটিই ফুটিয়ে তোলে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'আল-মালা' কী?

প্রাক-ইসলামি আরবের রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা মালা নামে পরিচিত ছিল, যেটি মক্কায় বিবদমান গোত্রীয় ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করত।

#

হুদায়বিয়ার সন্ধির ধারাগুলো কী?

হুদায়বিয়ার সন্ধির ১০টি ধারা ছিল। যে ধারাগুলোতে মুসলমান ও কুরাইশদের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করাসহ জানমালের নিরাপত্তা বিধানের কথা বলা হয়েছে।

মুসলমান ও কুরাশইদের মধ্যে ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। এ সন্ধিতে পরবর্তী দশ বছর যুদ্ধ বন্ধ থাকবে এবং যেকোনো গোত্র ইচ্ছা করলে মুসলমান বা কুরাইশদের সাথে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হতে পারবে এ কথা বলা হয়। এছাড়া মুসলমানগণ হজ করতে পারবে কিন্তু তিনদিনের বেশি মক্কায় অবস্থান করতে পারবে না এবং এ সময়কালে কুরাইশরা মুসলমানদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করবে।
এ সন্ধিতে বলা হয় চুক্তির মেয়াদকালে মুসলমান-কুরাইশরা একে-অপরের কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।