- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রাবেয়া বেগম অত্যন্ত দীনদার ও আল্লাহওয়ালা মহিলা। তিনি সব ধরনের অবৈধ বস্তু বর্জন করে চলেন। শুধু তাই নয়, তিনি এমন বৈধ বস্তুও বর্জন করেন যেগুলো সন্দেহযুক্ত। পক্ষান্তরে তার ছোট বোন রাবেতা ব্যক্তিগত জীবনে খুবই উদাসীন। বৈধ, অবৈধ সবকিছুই তার কাছে সমান। একদিন রাবেয়া তার ছোটবোনকে বললো, "সতর্ক জীবনযাপন না করলে তোমার শেষ পরিণতি ভাল হবে না।" রাবেতা বড় বোনের কথায় কোনো গুরুত্ব দেয়নি।
উদ্দীপকে রাবেয়ার কর্মকাণ্ড ইমাম গাজজালি (র) এর দৃষ্টিতে কোন স্তরের তাকওয়া? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে রাবেয়ার কর্মকাণ্ড ইমাম গাজজালি (র) এর দৃষ্টিতে দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়া।
আল্লাহ তায়ালার ভয়ে সব ধরনের অন্যায়, অনাচার ও পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করাকে তাকওয়া বলে। প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম গাজজালি (র)-এর মতে তাকওয়ার চারটি স্তর রয়েছে। একজন মুত্তাকি পর্যায়ক্রমে তাকওয়ার প্রতিটি স্তর অতিক্রম করে চূড়ান্ত পর্যায়ে মহান আল্লাহ তায়ালার পূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জন করেন। তাকওয়ার দ্বিতীয় স্তর হলো হারাম বস্তু বর্জন করার পর সন্দেহযুক্ত হালাল বস্তুও বর্জন করা, যা উদ্দীপকের রাবেয়ার কর্মকাণ্ডে লক্ষ করা যায়। এ স্তরের তাকওয়া অনুশীলনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় 'সুলাহা'।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, রাবেয়া বেগম অত্যন্ত দীনদার ও আল্লাহওয়ালা একজন মহিলা। তিনি সব ধরনের অবৈধ বস্তু বর্জন করার পাশাপাশি সন্দেহযুক্ত বৈধ বস্তুও বর্জন করেন। কেননা সন্দেহযুক্ত হালাল বস্তু বর্জন না করলে সন্দেহাতীতভাবে হারাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না। রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, 'যা সন্দেহযুক্ত তা বর্জন করো আর যা সন্দেহযুক্ত নয় তা গ্রহণ করো' (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ)। আর রহিমার এ কাজের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়ার প্রকাশ ঘটেছে।

