• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। ১৯৭১ সারে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এটি স্বাধীন হয়। এ যুদ্ধে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করে। শত্রুপক্ষকে প্রতিহত করার জন্য তারা অনেক ব্রিজ, কালভার্ট ভেঙ্গে ফেলে এবং বাংকার খনন করে। এরূপ রণকৌশলের ফলে তারা অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়।

উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের সাথে উক্ত যুদ্ধের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হলেও উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ খন্দকের যুদ্ধ ছিল শুধু আত্মরক্ষামূলক যা উভয় যুদ্ধের মধ্যে বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে।

খন্দকের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ। এই যুদ্ধে মহানবি (স)-এর নেতৃত্বে পারস্যের জনৈক মুসলমান সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনার অরক্ষিত স্থানসমূহে গভীর পরিখা খনন করে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফলে কুরাইশরা মদিনায় প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। পরিখা খননের মাধ্যমে কুরাইশরা এ যুদ্ধে আত্মরক্ষা করে। যা কোনো স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল না। কিন্তু উদ্দীপকের যুদ্ধ একটি স্বাধীনতা সংগ্রাম। যে সংগ্রামের মাধ্যমে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়েছে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। যে যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুপক্ষকে প্রতিহত করার জন্য অনেক ব্রিজ, কালভার্ট ভেঙ্গে ফেলে এবং বাংকার খনন করে। এভাবে যুদ্ধ করে বাঙালি জাতি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এ যুদ্ধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে সম্মুখ যুদ্ধ হয়। যে যুদ্ধ দীর্ঘ নয় মাস পর্যন্ত চলতে থাকে। অপরপক্ষে, খন্দক যুদ্ধে মুসলমান ও কুরাইশদের মধ্যে কোনো সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। বরং কুরাইশরা মাত্র তিন সপ্তাহ মদিনা অবরোধ করে রাখার পর তারা ফিরে যায়। এ যুদ্ধে পরোক্ষভাবে মুসলমানদের জয় হলেও প্রত্যক্ষ যুদ্ধে কোনো ফলাফল নির্ধারিত হয়নি। যেটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে হয়েছিল। এছাড়া খন্দকের যুদ্ধ কোনো দেশের স্বাধীনতা ও কাফিরদের মাঝে সংঘটিত একটি যুদ্ধ। যা উভয় যুদ্ধে মাঝে বিশেষ বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে।

উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও খন্দকের যুদ্ধের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

বদরের যুদ্ধে কতজন মুসলমান সৈন্য অংশগ্রহণ করেন?

বদরের যুদ্ধে ৩১৩ জন মুসলমান সৈন্য অংশগ্রহণ করেন।

#

মহানবি (স) কেন হিলফুল ফুজুল প্রতিষ্ঠা করেন?

সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা স্থাপন এবং নিগৃহীত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবি (স) হিলফুল ফুজুল বা শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।

হারবুল ফুজ্জার নামক ৫ বছর স্থায়ী যুদ্ধের বীভৎসতা ও সহিংসতা দেখে শান্তিপ্রিয় মুহাম্মদ (স) অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং সমমনা যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে হিলফুল ফুজুল গঠন করেন। গোত্রীয় দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং গরিব অত্যাচারিতদের অধিকার পেতে সাহায্য করার পাশাপাশি বণিকদের জানমালের নিরাপত্তা দানের লক্ষ্যে এ সংঘ গঠন করা হয়।

#

উদ্দীপকে ইসলামের ইতিহাসের কোন যুদ্ধের রণকৌশল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে খন্দক যুদ্ধে মহানবি (স)-এর প্রয়োগকৃত রণকৌশল প্রতিফলিত হয়েছে।

খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (স) মদিনাকে ঘিরে পরিখা খনন করেছিলেন। কুরাইশরা এ অভিনব কৌশলে অনেকটা হতভম্ব হয়ে পড়ে। পরিখা পেরিয়ে হামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা মদিনাকে ২৭ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। কিন্তু একপর্যায়ে শত্রু বাহিনীতে খাদ্য ও পানীয়ের অভাব দেখা দেয় ও ঝড়ো হাওয়ায় তাদের তাবু উড়ে যায়। অনুরূপ ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা সারাদেশে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা রাস্তা-ঘাট, পুল-সাকো, ব্রিজ ভেঙে ফেলে যাতে পাকিস্তানি সেনারা সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে। মুক্তিযোদ্ধারা এ রণকৌশলের মাধ্যমে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। খন্দক যুদ্ধে মহানবি (স) যেমন পরিখা খননের মাধ্যমে মদিনাকে হেফাজত করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারাও তেমনি নিজের দেশকে বহিঃশত্রুর হাত হতে রক্ষা করার জন্য রাস্তা কেটে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ফলশ্রুতিতে মদিনাবাসীদের মতো তারাও এদেশকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। সুতরাং বলা যায়, খন্দক যুদ্ধের যুদ্ধ কৌশলই মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়।