- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আব্দুল খালেক চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে বসবাস করেন। সে সমাজে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমান, ইহুদী ও পৌত্তলিক সকল ধর্মের লোক বাস করে। তাদের সকলকে নিয়ে তিনি (আব্দুল খালেক) একটি সামাজিক সংঘ গঠন (নীতিমালা) করেন, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের সকল সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এ সংঘের দ্বারা সমাজে শান্তি আনয়ন করেন এবং সবাইকে একই ছাতার ছায়াতলে নিয়ে আসেন।
ফাতহুম মুবিন কী? ব্যাখ্যা কর।
হুদায়বিয়ার সন্ধিই হলো 'ফাতহুম মুবিন' বা সুস্পষ্ট বিজয়।
ইসলাম ও বিশ্বের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি এক যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ এটি সর্বোতভাবে মুসলিম স্বার্থের অনুকূলে হয়েছিল। এ সন্ধির দ্বারা কুরাইশরা মহানবি (স)-কে একজন মহান নেতা এবং মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নেয়। মুসলমানরা যে একটি স্বতন্ত্র শক্তি তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এ সন্ধির মাধ্যমে। মোট কথা, এ সন্ধি মুসলমানদের একটি স্থায়ী রাজনৈতিক মর্যাদাদান করে। এ কারণে হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবিন' বা শ্রেষ্ঠ বিজয় বলা হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আরবদের শেক্সপিয়ার কাকে বলা হয়?
আরবদের শেক্সপিয়ার বলা হয় ইমরুল কায়েসকে।
উদ্দীপকে আব্দুল খালেক সাহেবের কর্মকাণ্ড মদিনা সনদের কোন ধারার অনুরূপ-ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে আব্দুল খালেকের কর্মকাণ্ড মদিনা সনদে স্বাক্ষরকারী সকল সম্প্রদায় একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে এবং সকল সম্প্রদায় সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে- এ ধারাটির অনুরূপ।
হযরত মুহাম্মদ (স) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর একটি সুসংহত রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি সনদ প্রণয়ন করেন। যে সনদে মদিনায় বসবাসরত সকল জাতি গোষ্ঠীর সমান অধিকার প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। উদ্দীপকেও মদিনা সনদের সকল জাতি ধর্মের মানুষকে সংঘবদ্ধ করার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের আব্দুল খালেক হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমান, ইহুদি ও পৌত্তলিক সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেন। তিনি সকল মানুষকে একই ছাতার ছায়াতলে আনার ব্যবস্থা করেন। যা মদিনা সনদের সকল জাতি সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে একটি জাতি প্রতিষ্ঠা ও সকলের সমান অধিকার প্রদান সংক্রান্ত ধারার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা মহানবি (স) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় পৌছে তিনি মদিনায় বসবাসরত সকল সম্প্রদায়কে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করেন। ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং বিভিন্ন গোত্রের জনসাধারণ মহানবি (স)-কে সাদরে গ্রহণ করেন। তিনিও তাদের ব্যক্তি স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সম্ভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। আর এ প্রেক্ষিতেই প্রণয়ন করেন ঐতিহাসিক মদিনা সনদ, যা বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। সদ্য প্রতিষ্ঠিত মদিনা রাষ্ট্রকে সুসংহতভাবে পরিচালনা এবং সকল জাতির অধিকার রক্ষার মাধ্যমে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই ছিল এ সনদ প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য। যা উদ্দীপকের আব্দুল খালেকের কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে আব্দুল খালেক সাহেবের কর্মকাণ্ড সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলে? আলোচনা কর।
উদ্দীপকের আব্দুল খালেকের কর্মকাণ্ডের ন্যায় রাসুল (স)-এর মদিনা সনদ প্রণয়ন সমাজে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মহৎ লক্ষ্যে রাসুল (স) মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, ইসলামি রাষ্ট্রকে সুসংহত ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে মদিনায় বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্ভাৰ ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা অত্যাবশ্যক। এ কারণে তিনি সকলকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর এ মহৎ উদ্যোগই 'মদিনা সনদ' নামে খ্যাত। এ সনদে সংযোজিত ধারাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলো শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রে নয়, মদিনার আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধন করেছিল। যেমন এ সনদে বলা হয় কোনো বহিঃশত্রু মদিনাকে আক্রমণ করলে সব সম্প্রদায়ের সমবেত শক্তির সাহায্যে সেই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। এটি মদিনাবাসীর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। আবার কোনো সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তা ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবেই চিহ্নিত করা হতো। তাছাড়া মদিনাকে পবিত্র শহর ঘোষণা করে এখানে রক্তপাত, হত্যা, বলাৎকার এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়। এগুলো মদিনার সামাজিক জীবনে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কার্যকর হাতিয়ার ছিল। সকল সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করে মদিনা সনদ মানবাধিকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করে। এভাবে এ সনদের ধারাগুলো সকল ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছিল।
পরিশেষে বলা যায়, রাসুল (স) প্রণীত মদিনা সনদ তৎকালীন আরব বিশ্বের ধর্মীয় ক্ষেত্র ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

