- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একজন আদর্শ মহাপুরুষ ৬ বছর পর ১৪০০ অনুসারি নিয়ে নিজ জন্মভূমি দর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল প্রিয় ভূমিদর্শন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা। পথিমধ্যে তিনি বিধর্মীদের দ্বারা বাঁধাপ্রাপ্ত হলে উভয়ের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আদর্শ মহাপুরুষ ধর্ম পালন না করে অনুসারিদের নিয়ে পূর্বের শহরে ফিরে যান।
হুদায়বিয়ার সন্ধির ৩টি শর্ত লিখ।
ইসলামের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি একটি যুগান্তকারী ঘটনা পবিত্র কুরআনে একে প্রকাশ্য বিজয় বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মহানবি (স) ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে হজব্রত পালন করার জন্য ১৪০০ সাহাবি নিয়ে মক্কার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। কিন্তু মক্কার কাফিরদের দুরভিসন্ধির কথা জানতে পেরে মহানবি (স) হুদায়বিয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। তারপর কুরাইশদের সাথে সন্ধি আলোচনার জন্য ওসমান (রা)-কে পাঠান। কিন্তু তারা হযরত ওসমানকে (রা) আটকিয়ে রাখে। ফলে হত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। মহানবি (স) এই হত্যার বদলা নেওয়ার জন্য দৃঢ় শপথ করেন। যা দেখে কুরাইশরা সন্ধিচুক্তি করে। আর এ চুক্তিটি ইসলামের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি নামে পরিচিত। এতে বেশকিছু শর্ত ছিল। নিম্নে তিনটি উল্লেখ করা হলো-
১. মুসলমানরা এ বছর (৬২৮) হজ পালন না করে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করবে।
২. আগামী ১০ বছর যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধ থাকবে।
৩. পরবর্তী বছর হজ পালন করতে পারবে। তবে বেশিদিন অবস্থান করতে পারবে না।
উদ্দীপকে দেখা যায় একজন আদর্শ মহাপুরুষ ১৪০০ অনুসারি নিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার জন্য রওয়ানা হলে পথিমধ্যে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। যা হুদায়বিয়ার সন্ধিকে নির্দেশ করে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'ভণ্ড নবিদের' সম্পর্কে যা জান লিখ।
মহানবি (স)-এর ওফাতের পর মিথ্যা নবুয়াতের দাবিদারদেরকে ভন্ডনবি বলা হয়।
রাসুল (স)-এর ওফাতের পর ইসলামি সম্রাজ্যের সর্বত্র চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সমগ্র আরবের বিভিন্ন স্থানে মুসায়লামা, তোলায়হা, বানু আসাদ, সাজাহসহ অনেকেই নবুয়ত দাবি করেন। তারা ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। কিন্তু আবু বকর (রা.) তাদের কঠোরভাবে দমন করেন।
'সাবা-আল-মুয়াল্লাকাত' শব্দের অর্থ কী?
'সাবা-আল-মুয়াল্লাকাত' শব্দের অর্থ- 'সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা'।
হুদায়বিয়ার সন্ধির ফলাফল আলোচনা কর?
বাহ্যিক দৃষ্টিতে হুদায়বিয়ার সন্ধি মুসলমানদের পরাজয়কে তুলে ধরলেও পরোক্ষভাবে এটি ছিল মুসলমানদেরই প্রকাশ্য বিজয়।
বাহ্যিক দৃষ্টিতে হুদায়বিয়ার সন্ধি মুসলমানদের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে হলেও দূরদৃষ্টি দিয়ে বিচার করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এ সন্ধি মুসলমানদের অনুকূলে সম্পাদিত হয়েছিল। ইসলামের সর্বাত্মক বিজয় সংকেত এতে লুকায়িত ছিল। সন্ধি স্বাক্ষর করে মহানবি (স) অসাধারণ প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দেন। এ চুক্তি বিশ্বে মুসলমানদের একটি স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে। তাই পবিত্র কুরআন এ চুক্তিকে 'ফাতহুম মুবিন' বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
স্বাধীন ও অবাধ গতিবিধির ফলে অনেক গোত্র ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলে ইসলামের শক্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। হজরত মুহাম্মদ (স) আরব দেশের বাইরে সিরিয়া, মিসর, পারস্য, আবিসিনিয়া প্রভৃতি দেশে এবং আরব দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গোত্রপতির নিকট দূত প্রেরণ করেন। উপরন্তু কুরাইশগণ নিরপেক্ষ হয়ে পড়ায় মহানবি (স) ইসলামের জাতশত্রু খাইবারের ইহুদিদের শাস্তি দেওয়ার সুযোগ পেলেন। এর ফলে একদিকে হযরতের ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপরদিকে কুরাইশদের ক্ষমতা হ্রাস পেতে লাগল। এভাবে বিভিন্ন দিক দিয়ে বিচার করলে দেখা যাবে যে, হুদায়বিয়ার সন্ধি মুসলমানদের অনুকূলে থাকায় ইসলাম ধর্ম ও রাষ্ট্র হিসেবে আরবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং বহির্বিশ্বে এর সম্প্রসারণে সহায়তা করে। যথার্থ অর্থে এ সন্ধি ছিল ইসলামের "মহাবিজয়" বা "প্রকাশ্য বিজয়"।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন মহাপুরুষ ১৪০০ অনুসারি নিয়ে প্রিয় ভূমিদর্শন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু পথিমধ্যে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সন্ধি স্থাপন করেন। যা ছুদায়বিয়ার সন্ধিকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, বৃহৎ বিজয়ের পথ তৈরিতে হুদায়বিয়ার সন্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

