• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রহিম সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসায় লোকসানের সম্মুখীন হলে বিচলিত না হয়ে সৎভাবে ব্যবসায় করতে থাকেন। তিনি মনে করেন, একদিন হয়ত লাতের মুখ দেখবেন, তাতে লোকসান পুষিয়ে নেবেন। কিছুদিন পর রহিম সাহেবের ব্যবসায় প্রচুর লাভ হয় এবং তার অর্থনৈতিক উন্নতি হয়। রহিম সাহেবের ছোট ভাই করিম তার বড় ভাইয়ের ব্যবসায়িক উন্নতি উপলক্ষে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।

তাকওয়া কী?

আল্লাহ তায়ালার ভয়ে সব ধরনের অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করাকে তাকওয়া বলে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'সত্যিকারের মুমিনগণ আল্লাহর ওপর ভরসা করেন'- ব্যাখ্যা করো।

সত্যিকারের মুমিন হতে হলে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করতে হবে।

কোনো কিছু অর্জনের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা বা সাধনা করার পর সফলতার জন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। এটি একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রকৃত ইমানদার ব্যক্তি যেকোনো অবস্থায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখেন। আল্লাহ বলেন, 'তোমরা একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করো, যদি তোমরা মুমিন হও' (সুরা আল মায়িদা: ২৩)।

#

রহিম সাহেবের কর্মকাণ্ডে কিসের প্রকাশ ঘটেছে? বর্ণনা করো।

রহিম সাহেবের ব্যবসায় লোকসানের সম্মুখীন হওয়ার পরও বিচলিত না হয়ে সৎভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সবরের প্রকাশ ঘটেছে।

দুঃখ-কষ্ট ও বিপদে-আপদে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে দৃঢ়তার সাথে তা সহ্য করাকে সবর বলা হয়। বিপদে ধৈর্যধারণ করা মুমিনের চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, যা রহিম সাহেবের মধ্যে লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকের রহিম সাহেবের ব্যবসায় লোকসান হওয়ার পরও তিনি কোনোরূপ বিচলিত না হয়ে সৎভাবে ব্যবসায় চালিয়ে যান। তিনি মনে করেন, একদিন হয়ত লাভের দেখা পাবেন আর তখন এ লোকসান পুষিয়ে নেবেন। রহিম সাহেবের এ ধরনের মনোভাবে সবরের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কোনো মুমিন ব্যক্তি যখন সবর করেন তখন আল্লাহ তায়ালা তার ওপর সন্তুষ্ট হন। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে- 'আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন' (সুরা আলে ইমরান: ১৪৬)। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদে ভেঙে না পড়ে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে ধৈর্যধারণ করা।

#

উদ্দীপকে করিমের কাজে যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকের করিম তার বড় ভাইয়ের ব্যবসায়ে উন্নতি হওয়ায় দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ করার মাধ্যমে আল্লাহর শোকর করেন।

আল্লাহর নিয়ামত ও রহমতের জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে শোকর বলে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অসীম নিয়ামত দিয়েছেন। এসব নিয়ামত ভোগের জন্য তার শোকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। যার প্রতিফলন উদ্দীপকের করিমের কাজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

উদ্দীপকের করিম তার বড় ভাই রহিমের ব্যবসায়ে উন্নতি হওয়ায় দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন। করিমের এ কাজটির মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তথা শোকর করা হয়েছে। ইসলামে শোকরের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর নিয়ামতের শোকর করলে তিনি নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন। আর তার শোকর না করলে অসন্তুষ্ট হন।

আল্লাহ বলেন- যদি তোমরা শোকর কর, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দেব, আর যদি শোকর না করে কুফরি করো, তাহলে জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আমার আজাব অত্যন্ত কঠিন' (সুরা ইবরাহিম: ৭)।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলামে শোকরের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর নিয়ামতের শোকর করলে তিনি সন্তুষ্ট হয়ে নিয়ামত আরো বাড়িয়ে দেন। আর শোকর না করলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এবং পরিণামে কঠোর শাস্তি দেবেন। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত আল্লাহর নিয়ামত ও রহমতের জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।