- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জাতিসংঘ ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের সহজাত মর্যাদা, সমতা ও সমানাধিকার রক্ষার কথা বলা হয়। এছাডাও সনদে বিশ্বের সকল মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সকল ধর্মের মানুষের সমমর্যাদার কথা বলা হয়েছে যা বিশ্ব মানবের একই সূত্রে গ্রথিত করার সুযোগ দেয়। এভাবে এ সনদ বিশ্ব মানবের ম্যাগনাকাটা হিসেবে বিশ্ব বিবেককে সচেতন করে দেয়।
উদ্দীপকের সনদ থেকে যে ইঙ্গিতকৃত সনদ অধিক কার্যকর হয়েছিল তা বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সনদের অর্থাৎ মদিনা সনদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক।
মদিনা সনদ মহানবি (স)-এর সর্বাধিক দূরদর্শিতার ফসল। তার পূর্বে কোনো প্রশাসক বা নবি তাঁর জাতিকে লিখিত সংবিধান দিতে পারেননি। তাদের মুখোচ্চারিত বাণীই ছিল আইন। হযরত মুহাম্মদ (স) তাঁর সংবিধানের ভিত্তিতে বিশ্বের সকল মানুষকে প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।
মদিনা সনদ শতধাবিভক্ত মদিনাবাসী মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, দ্বেষ ও কলহের অবসান করে এবং বিপদে সবাই একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ভাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধনে মদিনা সনদ এক তুলনাহীন রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। তাছাড়া হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর মদিনা পরিচালনার ভার অর্পিত হলে তিনি গোত্রভিত্তিক শাসনব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘোষণা করে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েম করেন। আর এই সনদের মাধ্যমে মহানবি (স)-এর শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় মেলে। তিনি কুরাইশদের বিরুদ্ধে তাঁর হাত শক্তিশালী করেন। এ সনদের মাধ্যমে মহানবি (স)-এর পারদর্শিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় পাওয়া যায়।
A. H. Siddiqi বলেন, 'এ সনদের ধারা অনুযায়ী রাসুল (স) নিজেকে বিচার বিভাগীয়, আইন প্রণয়নকারী, সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করেন। আর মদিনা সনদের মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (স) মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করেন।'
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লিখিত সনদ অর্থাৎ মদিনা সনদ মদিনায় বিদ্যমান সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল।

