• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

এই প্রেরিত মহাপুরুষ ঐশীবাণী প্রাপ্ত হয়ে এবং অবিশ্বাসীদের ষড়যন্ত্র সমন্ধে জানতে পেরে তাঁর সর্বাধিক বিশ্বাসী শিষ্যকে সাথে নিয়ে নিজ জন্ম ভূমি 'ক' ছেড়ে প্রায় ২৫০ মাইল দূরের শহর 'ম' এ গমন করেন। তাঁর এই দেশ ত্যাগের পরই ঐশী বিধান পরিপূর্ণতা লাভ করে এবং অনুসারির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

উদ্দীপকে বর্ণিত মহাপুরুষের দেশ ত্যাগের ঘটনার পরই ছিল তার প্রচারিত ধর্মের জন্য এক গৌরবান্বিত প্রস্থান এবং চূড়ান্ত প্রসার। ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে বর্ণিত দেশ ত্যাগের ঘটনা আমার পঠিত হযরত মুহাম্মদ (স) ও তাঁর প্রচারিত ইসলাম ধর্মের জন্য ছিল এক গৌরবান্বিত প্রস্থান। হিজরতের ফলে মহানবি (স) এর জীবনধারায় পরিবর্তন আসে এবং তিনি সুস্থ পরিবেশে বসবাস করার সুযোগ লাভ করেন। ঐতিহাসিক P. K. Hitti বলেন, "হিজরতের সাথে সাথে হযরতের মক্কা জীবনের অবসান ও মদিনা জীবনের সূচনা এবং এখানে মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের মোড় ঘুরে যায়।"

মহানবি (স) মদিনায় হিজরত করলে মদিনাবাসী তাঁকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বরণ করে নেয়। এরপর মদিনায় ইসলাম দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র মানবজাহান মুসলমানদের অধীনে আসে। হিজরতের পরই তিনি মদিনার সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'মদিনা সনদ' প্রণয়ন করেন। এ সনদই মদিনাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে মর্যাদা দান করে। হিজরতের পরপরই মুহাম্মদ (স) মদিনাতে মুসলমানদের মিলনকেন্দ্র হিসেবে মসজিদে নববি প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও মদিনাবাসী মহানবি (স)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যে তাদের নগরীর নাম রাখেন 'মদিনাতুন্নবি' বা নবির শহর।

মহানবি (স) হিজরতের ফলে মদিনার লোকজন দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে এবং মদিনাবাসী দীর্ঘদিনের ভেদাভেদ ও শত্রুতা ভুলে প্রিয় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। হিজরতের ফলেই মহানবি (স) ইসলামকে কল্যাণধর্মী ও শান্তিপ্রিয় একমাত্র ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ লাভ করেন। তাই এ ঘটনাকে রাসুল (স)-এর জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী হিসেবে আখ্যায়িত করাই যুক্তিযুক্ত।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()