• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • খুলাফায়ে রাশেদিন
খুলাফায়ে রাশেদিন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব 'ক' অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজের দায়িত্ব গ্রহণ করে কিছু বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব দেন। যেমন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি একা গ্রহণ না করে বরং শিক্ষক পরিষদের সাথে আলোচনা করে তা গ্রহণ করেন। পূর্বে কলেজের কোনো আর্থিক ফান্ড ছিল না। নতুন অধ্যক্ষ ব্যাংকে একাউন্ট খুলে কলেজের সকল আয় সেখানে সংরক্ষণ করেন। দৈনন্দিন খরচ বাদ দিয়ে উদ্বৃত্ত অর্থ তিনি সেখানে সংরক্ষণ করেন। তাছাড়া উদ্বৃত্ত অর্থ তিনি কলেজের উন্নয়ন ও বৃত্তি আকারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করে দেন।

খালিদ বিন ওয়ালিদ ইতিহাসে বিখ্যাত কেন? ব্যাখ্যাসহ লেখো।

দক্ষ ও সুকৌশলী বীর সেনাপতি হিসেবে খালিদ বিন ওয়ালিদ ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।

প্রাথমিক জীবনে কুরাইশদের সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ করলেও হুদায়বিয়ার সন্ধির পর (৬২৮ খ্রি.) খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর রাসুল (স)-এর সময়ে হুনায়ুনের যুদ্ধ, তায়েফ বিজয়, তাবুক অভিযানে দক্ষতার সাথে যুদ্ধ করে তিনি ইসলামের বিজয় ত্বরান্বিত করেন। তাছাড়া রাসুল (স)-এর মৃত্যুর পর ইয়ামামার যুদ্ধে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে তিনি ভণ্ডনবিদের শায়েস্তা করেন। এরপর জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ইসলামের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ইসলামের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। ইসলামের খেদমতে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যই তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

হযরত ওমর (রা) কত খ্রিস্টাব্দে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন?

হযরত ওমর (রা) ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন।

#

সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার সাথে হযরত ওমর (রা)-এর কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থার সামঞ্জস্য দেখা যায়? ব্যাখ্যা করো।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার সাথে হযরত ওমর (রা)-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্যতম দিক মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠনের মিল রয়েছে।

হযরত ওমর (রা) ছিলেন গণতন্ত্রমনা। তার প্রশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গণতান্ত্রিক শাসন। আর এ আদর্শ দ্বারাই তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইসলামি গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ সাধন করেন। কুরআন-হাদিসের আলোকে জনগণের ইচ্ছার প্রতি খেয়াল রেখে তিনি পরামর্শভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। আর তার এ বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার মধ্যে।

কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে জনাব 'ক' সকল বিষয়ে শিক্ষক পরিষদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। হযরত ওমর (রা)ও শাসনকার্য পরিচালনার জন্য মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠন করেছিলেন। যেকোনো সমস্যা তিনি কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক মজলিস-উশ-শূরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সমাধান করতেন। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'পরামর্শ ব্যতীত কোনো খিলাফত চলতে পারে না।' তার গঠিত পরামর্শসভা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন-ক. মজলিস-উল-আম এবং খ. মজলিস-উল-খাস। মহানবি (স)-এর ঘনিষ্ঠ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবা এবং মদিনার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মজলিস-উল-আম গঠিত ছিল। এরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। অন্যদিকে দৈনন্দিন কার্যাদি সম্পাদনের জন্য অল্প সংখ্যক মুহাজিরিন নিয়ে মজলিস-উল-খাস গঠিত ছিল। হযরত ওমর (রা) মজলিস-উশ-শুরা ছাড়াও রাজ্য শাসনের ব্যাপারে সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ করতেন। হযরত ওমর (রা)-এর উল্লিখিত আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটেছে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত কর্মকাণ্ডে।

#

উদ্দীপকের 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ে অধ্যক্ষের পদক্ষেপে হযরত ওমর (রা)-এর নীতির প্রতিফলন লক্ষণীয়- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকে বর্ণিত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত পদক্ষেপে হযরত ওমর (রা)-এর রাষ্ট্রীয় কোষাগার হিসেবে বায়তুল মাল পুনর্গঠন নীতির প্রতিফলন লক্ষণীয়।

হযরত ওমর (রা) ছিলেন জনকল্যাণকামী ও ন্যায়ের উজ্জ্বল আদর্শ। খলিফা হিসেবে তিনি ইসলামের আদর্শকে ধারণ করে সর্বদা জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। তাই খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তিনি ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার সরকারি কোষাগার হিসেবে বায়তুল মালকে পুনর্গঠন করেন। বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রীয় খরচ বাদে উদ্বৃত্ত অর্থ বায়তুল মাল বা কেন্দ্রীয় অর্থ তহবিলে জমা করা হতো। এ অর্থই বিভিন্ন খাতে সরকারিভাবে বণ্টন করা হতো। উল্লিখিত নীতিরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্বৃত্ত অর্থ বিষয়ে অধ্যক্ষের নেওয়া পদক্ষেপে।

কলেজের নতুন অধ্যক্ষ কলেজের ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি আর্থিক ফান্ড গড়ে তোলেন। এ ফান্ডে তিনি কলেজের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ জমা রাখেন এবং এ অর্থ কলেজের উন্নয়ন ও বৃত্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করেন। একইভাবে হযরত ওমর (রা) বায়তুল মাল সংস্কার ও পুনর্গঠন করে সকল প্রদেশে এর শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। বায়তুল মাল প্রধানত তিন প্রকারের ছিল। ক. বায়তুল মাল আল খাস-এটি ছিল শাসক ও অভিজাতদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। খ. বায়তুল মাল আল আম-এটি খিলাফতের রাষ্ট্রীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। গ. বায়তুল মাল আল মুসলেমিন- এটি ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় রাজকোষাগার। বায়তুল মালের এ শাখা সমাজকল্যাণমূলক কাজ, যেমন-রাস্তাঘাট, সেতু, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ, এতিম ও দরিদ্রের সাহায্যদান ইত্যাদি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।

পরিশেষে বলা যায়, জনকল্যাণকামী চিন্তা-চেতনা ও কর্মকাণ্ডের দিক দিয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ক পদক্ষেপটি হযরত ওমর (রা)-এর বায়তুল মাল নীতির আংশিক প্রতিফলন।