- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব 'ক' পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। মেয়াদের প্রথম দিকে তিনি জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু মেয়াদের শেষের দিকে পৌরসভার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনজনদের নিয়োগ দিয়ে তিনি সমালোচনার পাত্রে পরিণত হন। বিরোধীপক্ষ তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ছাড়াও আরও অনেক অভিযোগ আনয়ন করতে থাকে। জনাব 'ক' সকল অভিযোগ তদন্ত করে দেখবেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দিবেন- এই মর্মে আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু পৌরসভার সচিবের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি সফল হতে পারেননি। ফলে পৌরসভায় স্থায়ী অরাজকতা ও অশান্তি সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের সচিবের সাথে খলিফা ওসমান (রা)-এর প্রশাসনের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের সচিবের সাথে হযরত ওসমান (রা)-এর প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা মারোয়ানের মিল রয়েছে।
ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) প্রশাসনিক স্বার্থে এবং খিলাফতের স্থিতিশীলতার জন্য তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তার এসব উদ্যোগকে গণতন্ত্র বিরোধী এবং স্বজনপ্রীতিমূলক বলে অভিযোগ দেয়। যদিও তিনি এসব অভিযোগ খণ্ডাতে পেরেছিলেন, কিন্তু লোভী, বিশ্বাসঘাতক মারোয়ানের চক্রান্তে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত সচিবের মধ্যেও এ ধরনের বিশ্বাসঘাতকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পৌরসভার চেয়ারম্যান জনাব 'ক' তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের সঠিক তদন্ত ও শাস্তির ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও সচিবের ষড়যন্ত্রে তিনি সফল হতে পারেননি। একইভাবে হযরত ওসমান (রা) খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে (৬৪৪ খ্রি.) প্রথম ছয় বছর বেশ সুনামের সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তিনি একটু উদার এবং সরলমনা ছিলেন। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খিলাফতের প্রধান উপদেষ্টা এবং খলিফার চাচাত ভাই ও জামাতা মারোয়ান বেশ কিছু ধ্বংসাত্মক নীতি গ্রহণ করেন। স্বার্থপর ও কূটনীতিবিদ মারোয়ানের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা করায়ত্ত করা। তাই তিনি উমাইয়াগণকে রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে নিয়োগ দেন এবং হাশেমিদের অপসারণ করেন। হাশেমিদের ধনে-মানে দুর্বল করে উমাইয়াদের সুপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য। এ নীতি খিলাফতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। মারোয়ানের কুচক্রান্ত ও স্বার্থনীতি খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে উস্কে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তার বিশ্বাসঘাতকতায় খলিফা ওসমান (রা) কে মিথ্যা অভিযোগে প্রাণ দিতে হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, চরিত্রগত দিক দিয়ে মারোয়ান এবং উদ্দীপকের সচিব একে অন্যের প্রতিরূপ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'যুন্নুরাইন' অর্থ কী?
'যুন্নুরাইন' অর্থ দুই জ্যোতি বা নুরের অধিকারী।
হযরত ওসমান (রা) কীভাবে খলিফা নির্বাচিত হন? ব্যাখ্যা করো।
সাহাবিদের দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ওসমান (রা) খলিফা নির্বাচিত হন।
খলিফা নির্বাচনের জটিলতা এড়াতে হযরত ওমর (রা) মৃত্যুর পূর্বে একটি নির্বাচনি পরিষদ গঠন করেন। যার সদস্য ছিলেন হযরত ওসমান (রা), হযরত আলী (রা), তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুর রহমান। হযরত ওমর (রা)-এর মৃত্যুর পর (৬৪৪ খ্রি.) খলিফা নির্বাচন নিয়ে একটি বৈঠক বসে। তালহা এ সময় মদিনায় উপস্থিত ছিলেন না এবং আব্দুর রহমান খিলাফতের গুরুভার নিতে সম্মত ছিলেন না। আব্দুর রহমান, যুবাইর, ওসমান ও আলীকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে, সাদ ওসমানকে, ওসমান আলীকে এবং আলী ওসমানকে সমর্থন করেন। ফলে এক ভোট বেশি পেয়ে হযরত ওসমান ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।
উদ্দীপকে আনীত অভিযোগের আলোকে খলিফা ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পর্যালোচনা করো।
উদ্দীপকে আনীত অভিযোগের মতো খলিফা ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এনে দুষ্কৃতকারীরা তাকে হত্যা করেছিল। কিন্তু এসব অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং কল্পনাপ্রসূত।
ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) ছিলেন সরলমনা ও উদার প্রকৃতির। প্রশাসনিক সুবিধার্থে তিনি রদবদল সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিলেও তা অযৌক্তিক ছিল না। কিন্তু তার সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেকে তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ আনে, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। উদ্দীপকেও এ বিষয়টির প্রতিফলন লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায় যে, জনাব 'ক' এর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আনা হয়, যা ছিল ষড়যন্ত্রমূলক। অনুরূপভাবে হযরত ওসমানের বিরুদ্ধেও বেদুইন ও অনাৱৰ মুসলমানগণ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনে। কিন্তু তিনি আত্মীয়স্বজনের প্রতি কিছুটা দুর্বল থাকলেও কোনো অনুপযুক্ত আত্মীয়কে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগদান করেননি। পরিস্থিতির কারণে তিনি গভর্নর পরিবর্তন করলেও গভর্নর তার আত্মীয় ছিল না। হযরত ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর অভিযোগ ছিল কুরআন শরিফ দক্ষ্মীকরণ। তার রাজত্বকালে ইসলামি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের জনসাধারণ নিজেদের সুবিধার্থে কুরআনের ভাষা ও উচ্চারণ পরিবর্তন করে পাঠ করতে থাকে। তাই তিনি কুরআন শরিফের উচ্চারণগত সমস্যা দূর করার জন্যই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং ত্রুটিপূর্ণ ও অসংগতিপূর্ণ কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। বায়তুল মালের অর্থ আত্মসাৎ তো দূরের কথা বরং তিনি নিজের সম্পদ ইসলামের জন্য অকাতরে দান করেছেন। সরকারি চারণভূমি রাষ্ট্রীয় পশুপালনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন এবং এক্ষেত্রে তিনি তার পূর্বের দুইজন খলিফাকে অনুসরণ করেছিলেন। রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্যই তিনি আবু জর গিফারিকে নির্বাসন দিয়েছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন।

