- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রাক্কালে বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক ভণ্ড পিরের আবির্ভাব হয়। তারা ইসলামের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে মন্দ ও পাপ কাজে লিপ্ত করায়, যা ইসলাম পরিপন্থি। তারা প্রকৃত সত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধ ঘোষণা করে। নব্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীগণ সঠিকভাবে ইসলামের মর্মবাণী অনুধাবন করতে না পারায় এবং কোনো মহান নেতার সাহচর্য না পাওয়ায় দুর্বল ইমানি শক্তি নিয়ে সঠিক পথের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
ধর্মত্যাগী ভন্ডনবিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের নাম কী?
ধর্মত্যাগী ভণ্ডনবিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের নাম রিদ্দার যুদ্ধ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
হুদায়বিয়ার সন্ধিকে প্রকাশ্য বিজয় বলা হয় কেন?
৬২৮ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ ও রাসুল (স)-এর মধ্যে সম্পাদিত হুদায়বিয়ার সন্ধিতে পরোক্ষভাবে মুসলমানদের বিজয় নিহিত ছিল। তাই পবিত্র কুরআনে একে প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ও বিশ্বের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি এক যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ এটি সর্বতোভাবে মুসলিম স্বার্থের অনুকূলে ছিল। এ সন্ধির দ্বারা কুরাইশরা মহানবি (স) কে একজন মহান নেতা এবং মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নেয়। মুসলমানরা যে একটি স্বতন্ত্র শক্তি তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এ সন্ধির মাধ্যমে। মোট কথা, এ সন্ধি মুসলমানদের একটি স্থায়ী রাজনৈতিক মর্যাদা দান করে। এ কারণে হ্রদায়বিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবীন' বা শ্রেষ্ঠ বিজয় বলা হয়।
উদ্দীপকের ভন্ডপিরের সাথে আবু বকর (রা)-এর সময়কালের ভন্ডনবিদের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর শাসনামলে ভণ্ডনবির আবির্ভাবের ঘটনার সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত ভণ্ড পিরদের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, প্রাচীন বাংলায় বিভিন্ন অঞ্চলে ভণ্ড পিরদের আবির্ভাব হয়। তারা ইসলামের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তারা প্রকৃত সত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তাদের এরূপ কর্মকাণ্ডের সাথে মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর আবু বকর (রা)-এর খিলাফতকালের কিছু ভণ্ডনবির কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রয়েছে। আখেরি জামানার নবি ও বিশ্বমানবতার উত্তম আদর্শ হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মৃত্যুর পর অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের পর গোটা মুসলিম জাহানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সময় কিছু লোক হীনস্বার্থ উদ্ধারের জন্য নিজেদেরকে নবি হিসেবে দাবি করে। এদের মধ্যে আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ ছিল অন্যতম। এরা নিজেদের নবি হিসেবে ঘোষণা করে জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল। রাসুলের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় উদ্দীপকেও তা লক্ষণীয়। সুতরাং উদ্দীপকের সাথে রাসুল (স)-এর ওফাতের পর এবং হযরত আবু বকর (রা)-এর সময়কার ভন্ডনবিদের মিল রয়েছে।
রিদ্দা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
রিদ্দা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর অধ্যায়।
মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন আরব গোত্র ধর্ম ত্যাগ করে পূর্ব ধর্মে ফিরে যাচ্ছিল। এই সুযোগে কতিপয় ভণ্ডনবির আবির্ভাব ঘটে। হযরত আবু বকর (রা) এ সমস্ত ধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিদের দমন করার জন্য যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তাই রিদ্দা যুদ্ধ নামে পরিচিত। উদ্দীপকেও এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে উদ্দীপকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভন্ড পিরের আবির্ভাবের ঘটনায় ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর শাসনামলে স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিদের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তার শাসনামলে আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নামে বেশ কয়েকজন ভণ্ডনবির আবির্ভাব ঘটে। এ সমস্ত ভণ্ডনবি ও স্বধর্মত্যাগীদের প্রবল আন্দোলনে আরব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়লে হযরত আবু বকর (রা) তার নির্ভীকতা, বিচক্ষণতা ও সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে তাদেরকে দমন করেন'। আবু বকর (রা) প্রথমে ফিরোজ দাইলামীর মাধ্যমে আসওয়াদ আনাসিকে হত্যা করেন। পরবর্তীকালে সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করে তোলায়হা, সাজাহ ও মুসায়লামাকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া আবু বকর (রা) দক্ষিণ সিরিয়ার যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশকারীদেরকেও কঠোর হস্তে দমন করেন। আর এভাবেই বিভিন্ন ঘটনা ও বিচক্ষণ পরিকল্পনার মাধ্যমে রিদ্দা যুদ্ধ পরিচালিত হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ভন্ডনবি ও স্বধর্মত্যাগীদের দমনের প্রেক্ষিতে হযরত আবু বকর (রা) রিদ্দা যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

