- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সমশের উদ্দিন একজন বড় ব্যবসায়ী ও ধনবান ব্যক্তি। তার উদারতার কথা কারো অজানা নয়। তিনি যেমন নম্র, ভদ্র ও চরিত্রবান তেমনি পরোপকারীও বটে। যে কোনো সমস্যা বা দুর্যোগের সময় তিনি মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন। তার দয়া-দাক্ষিণ্য, উত্তম চরিত্র ও মহত্ত্বের কারণে সকলেই তাকে সম্মান করে। ধর্মীয় ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আনুগত্যশীল। তিনি এলাকাবাসীর অনুরোধে নিজ খরচে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন। এতে এলাকাবাসী খুবই খুশি হয়।
হযরত ওমর (রা)-এর উপাধি কী ছিল?
হযরত ওমর (রা)-এর উপাধি ছিল 'ফারুক' বা সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
সমশের সাহেব কোন খলিফাকে অনুসরণ করে মসজিদের সকল ব্যয়ভার বহন করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
সমশের উদ্দিন সাহেব ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) কে অনুসরণ করে মসজিদের ব্যয়ভার বহন করেছিলেন।
হযরত ওসমান (রা)-এর খিলাফতকালে জনকল্যাণ ও খিলাফতের বিশেষ অগ্রগতি সাধিত হয়। এ সময় মাঝে মাঝে খায়বরের দিক হতে জলোচ্ছ্বাস আসায় জনসাধারণকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। তাই মদিনার কিছু দূরে হযরত ওসমান (রা) 'মাহজুর' নামক একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেন। মসজিদে নববির প্রাসাদের কাজ ২০ হিজরিতে বিশেষ ব্যবস্থাধীনে নতুন করে আরম্ভ করেন। মদিনার পার্শ্ববর্তী জমিগুলো ক্রয় করে দশ মাসের অবিরাম চেষ্টার পর ইট, পাথর ও চুনার সাহায্যে একটি সুদৃঢ় প্রাসাদ নির্মাণ করেন। উদ্দীপকে সমশের উদ্দিন হযরত ওসমান (রা)-এর এ নীতি অনুসরণ করেন। উদ্দীপকে সমশের উদ্দিন ধর্মানুরাগী ব্যক্তি। তিনি মানুষের অনুভূতিকে সম্মান জানান। তাই এলাকার মানুষ তাকে অনুরোধ জানালে তিনি মসজিদ নির্মাণের ব্যয় ও জায়গার ব্যাপারে যাবতীয় ব্যয়ভার গ্রহণের ঘোষণা দেন। এতে সমশের উদ্দিনের মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। একই বৈশিষ্ট্য হযরত ওসমান (রা)-এর ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়। তিনি মুসলমানদের পানির কষ্ট লাঘবের জন্য এক ইহুদির কাছ থেকে ২০০০০ দিনারের বিনিময়ে মদিনার বীররুমা নামক একটি কূপ ক্রয় করে দান করেন। হযরত ওসমান (রা)-এর এ উদ্যোগ জনকল্যাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। সুতরাং বলা যায়, সমশের উদ্দিন মসজিদের ব্যয়ভার বহনের ক্ষেত্রে হযরত ওসমান (রা) কে অনুসরণ করেছেন।
দিওয়ান বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।
হযরত ওমর (রা)-এর কেন্দ্রীয় প্রশাসনের একটি অন্যতম দফতর ছিল দিওয়ান বা রাজস্ব বিভাগ।
সাম্রাজ্যের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের জন্য হযরত ওমর (রা) দিওয়ান নামক একটি স্থায়ী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রশাসনিক সুবিধার্থে একে দুভাগে বিন্যস্ত করা হয়। এর প্রথম ভাগে আয় এবং দ্বিতীয় ভাগে ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষিত হয়। রাজস্ব আদায়ের উৎসগুলো ছিল- গনিমত, যাকাত, উশর, জিজিয়া, আল খারাজ (ভূমিকর), উশুর, ফাই (রাষ্ট্রীয় ভূমির আয়), আল-হিসা। এসব উৎস থেকে আয়কৃত অর্থ বায়তুল মালের মাধ্যমে জনকল্যাণে ব্যয় করা হতো।
আর্তমানবতার সেবায় সমশের সাহেবের মতো মানুষদের ভূমিকা সমাজে কী ধরনের অবদান রাখবে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।
আর্তমানবতার সেবায় সমশের সাহেবের মতো মানুষদের ভূমিকা সমাজ উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণে সহায়ক হবে।
ইসলাম মানবতা ও কল্যাণের ধর্ম। মানুষের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে ইসলামের সকল বিধি-বিধান প্রণীত হয়েছে। আর ইসলামের অনুসারীগণ এসব বিধান অনুসরণ করেই যুগে যুগে মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। রাসুল (স) থেকে শুরু করে চার খলিফার জীবন ছিল আর্তমানবতার সেবায় উৎসর্গকৃত। আর এ মহান ব্যক্তিদের ভূমিকায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, সাবলীল, ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হয়েছে। উদ্দীপকের সমশের উদ্দিনও তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে মানবতার সেবায় উৎসর্গ করেছেন।
সমশের উদ্দিনের মতো সমাজের অন্যান্য ধনী ব্যক্তিরা যদি দরিদ্র-অসহায়দের কল্যাণে দান করতে উৎসাহী হন, তবে সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব হবে। সেই সাথে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) এক্ষেত্রে ধনীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি সমাজ বিনির্মাণে অকাতরে সম্পদ ব্যয় করেছেন।
ইসলামের খেদমতে তার বিপুল সম্পদ দান করে দিয়েছেন। ফলে ইসলামের প্রসার ও প্রচারে আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়েছে। অন্যদিকে মসজিদ, কুপ নির্মাণে তার অবদান মুসলমানদের ধর্মীয় কাজকে সহজসাধ্য করে দিয়েছে। ফলে মানুষের মধ্যে ধর্ম পালনে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকের সমশের উদ্দিনও তার নীতি অনুসরণ করেছেন। এভাবে সমাজের বিত্তবান ও সম্পদশালীরা যদি ইসলামের সেবা ও মানুষের কল্যাণে সম্পদ ব্যয়ে আত্মনিয়োগ করেন; তবে দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নয়নমুখী ও কল্যাণধর্মী সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে সমশের উদ্দিন যেভাবে সমাজে ভূমিকা রাখছেন, সমাজের প্রত্যেক বিত্তবানদের কর্তব্য সমাজের সার্বিক উন্নয়নে সম্পদ ব্যয় করে সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

