- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আল-আমীনের মৃত্যুর পর ইউনিয়নবাসী জনাৰ আসলামকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি অনেক সমস্যা ও বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। এ সময় কিছু ভণ্ডপির ও ইউনিয়নের কর দিতে অস্বীকারকারীগণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। কিন্তু চেয়ারম্যান আসলাম সাহেব অসীম সাহস ও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। বিশ্বস্ততার জন্য তাকে বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
মহানবি (স) কাকে এবং কেন সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
মিরাজের কথা সর্বপ্রথম বিশ্বাস করার জন্য মহানবি (স) হযরত আবু বকর (রা) কে 'সিদ্দিক' উপাধি দিয়েছিলেন।
হযরত আবু বকর (রা) ছিলেন মহানবি (স)-এর একান্ত সহযোগী। তাই রাসুল (স)-এর নবুয়ত লাভের পর বয়স্ক পুরুষ হিসেবে তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। এছাড়া রাসুল (স)-এর মেরাজ (আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য ঊর্ধ্বগমন) গমনের কথা হযরত আবু বকর (রা) সর্বপ্রথম নির্ধিদ্বায় বিশ্বাস করেন। এসব কারণে মহানবি (স) তাঁকে 'সিদ্দিক' বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
হযরত ওমর (রা) তার বিশাল সাম্রাজ্যকে কতটি প্রদেশে বিভক্ত করেন?
হযরত ওমর (রা) তার বিশাল সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আসলাম সাহেবের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন খলিফার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আসলাম সাহেবের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর সাদৃশ্য আছে।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওফাতের (মৃত্যুবরণ) পর যে চারজন সাহাবি তাঁর প্রতিনিধিরূপে মুসলিম রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন তাদের মধ্যে আবু বকর (রা) একজন। তিনি ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম রাষ্ট্রের রাজ্যের কল্যাণের জন্য অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এবং সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্যাদি পরিচালনা করেছেন। এ দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালকের বৈশিষ্ট্যটিই আসলাম সাহেবের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল-আমীনের মৃত্যুর পর ইউনিয়নবাসী আসলাম সাহেবকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। চেয়ারম্যান হয়ে তিনি অনেক সমস্যা ও বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। এ সময় কিছু ভন্ডপির ও ইউনিয়নের কর অস্বীকারকারীগণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। কিন্তু জনাব আসলাম অসীম সাহস ও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। এছাড়া বিশ্বস্ততার জন্য তিনি বিশেষ উপাধিতে ভূষিত হন। হযরত আবু বকর (রা)-এর ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষণীয়। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন। মহানবি (স)-এর জীবনের শেষ দিকে এবং আবু বকর (রা)-এর ক্ষমতা গ্রহণের পর আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নবুয়তের দাবি করে রাজ্যের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কিন্তু তিনি বিশিষ্ট মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদদের সহায়তায় এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া মহানবি (স)-এর মেরাজ গমনের ঘটনা তিনিই প্রথম বিশ্বাস করে সিদ্দিক উপাধিপ্রাপ্ত হন। এসব কারণে বলা যায়, আসলাম সাহেবের সাথে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত খলিফাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায় কি? মতামত দাও।
হ্যাঁ, ইসলামের সেবায় কল্যাণধর্মী ভূমিকা রাখায় হযরত আবু বকর (রা) কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়।
মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর তার প্রতিনিধি হয়ে হযরত আবু বকর (রা) মুসলিম সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মহানবি (স)-এর যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি। মহান আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী ইসলামের একনিষ্ঠ সেবা করে তিনি ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পান।
মহানবি (স)-এর ওফাতের পর মুসলমানদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা দূর করে মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেন। রাসুল (স)-এর পবিত্র দেহ সমাহিতকরণ ও খলিফা নির্বাচনকেন্দ্রিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করে তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলামকে রক্ষা করেন। ইসলামের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খল জনগণকে সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুশাসন পালনে বাধ্য করেন। তাছাড়া যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী বেদুইন গোত্রগুলোর (আবস ও জুবিয়ান) বিরুদ্ধে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসলামি বিধান অনুযায়ী, তাদের যাকাত প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি দীনকে (ইসলাম) সকল আদর্শের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করেন। ভণ্ডনবিদের সমুচিত শিক্ষা দিয়ে তিনি ইসলামের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। আমির উল মুমেনীন (বিশ্বাসীদের নেতা) হিসেবে হযরত আবু বকর (রা) আরব ভূখণ্ড থেকে প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, ভণ্ডামি এবং অনৈসলামিক কার্যকলাপের মূলোৎপাটন করে ইসলামকে নিরাপদ করেন। এছাড়া তিনি বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা পবিত্র কুরআনের বাণীগুলো সংগ্রহ করে পুস্তক আকারে লিখে রাখার ব্যবস্থা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, খিলাফত লাভের পর ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সেবা করে হযরত আবু বকর (রা) ইসলামি খেলাফতকে যেভাবে রক্ষা করেছেন, তাতে নিঃসন্দেহে তাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়।

