• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • খুলাফায়ে রাশেদিন
খুলাফায়ে রাশেদিন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব আলী আশরাফ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্যে পূর্বের শাসকের নিযুক্ত প্রাদেশিক গভর্নরদের ররখাস্ত করেন। মুহিব নামক গভর্নর ব্যতীত সকল গভর্নর তার নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখান। তাছাড়া গভর্নর মুহিব সাহেব পূর্বের শাসনকর্তার সময়ে যেসব সরকারি সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন নতুন শাসনকর্তা তা রাজকোষে ফিরিয়ে নিলে উক্ত শাসনকর্তা ও গভর্নর মুহিবের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘর্ষ দ্বারা তোমার পঠিত কোন সংঘর্ষের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘর্ষ দ্বারা আমার পঠিত সিফফিনের যুদ্ধের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

হযরত আলী (রা)-এর খিলাফতকাল ছিল আন্তঃবিপ্লব ও গোলযোগে পরিপূর্ণ। এ সময় হযরত ওসমান (রা)-এর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই তিনটি গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এগুলোর মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধ একটি। উদ্দীপকের বর্ণনায় এ যুদ্ধের ঘটনারই প্রতিফলন ঘটেছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আলী, আশরাফ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্বের শাসকের নিযুক্ত প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন। গভর্নর মুহিব ব্যতীত সকলে তার নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখান। এছাড়া আলী আশরাফ মুহিবের সম্পত্তি রাজকোষে ফিরিয়ে নিলে আলী আশরাফ ও মুহিবের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সিফফিনের যুদ্ধের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা লক্ষণীয়। হযরত আলী (রা) খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়েই শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে হযরত ওসমান (রা) এর সময়কার প্রাদেশিক গভর্নরদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। সকল গভর্নর তার এ সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করলেও সিরিয়ার গভর্নর আমির মুয়াবিয়া এ সিদ্ধান্ত মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি হযরত ওসমান (রা)-এর খিলাফতকালে দুর্নীতি করে রাজকোষের অর্থের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হন। হযরত আলী (রা) এসব সম্পত্তি পুনরায় রাজকোষে ফিরিয়ে নিলে মুয়াবিয়ার স্বার্থে আঘাত লাগে। ফলে তিনি আলী (রা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। এ খবর পেয়ে আলী (রা)-ও যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। ফলে ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের সংঘর্ষ সিফফিনের যুদ্ধেরই ইঙ্গিত বহন করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

দুমার মীমাংসা কী? ব্যাখ্যা করো।

ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা)-এর সাথে আমির মুয়াবিয়ার সংঘর্ষের পরিসমাপ্তির জন্য যে সালিশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেটাই 'দুমার মীমাংসা' নামে পরিচিতি।

সিফফিনের যুদ্ধের একপর্যায়ে হযরত আলী (রা) এবং মুয়াবিয়া মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করে নিজেদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেন। বিরোধ মীমাংসার জন্য আলী (রা) তার পক্ষে মুসা আল আশআরিক এবং মুয়াবিয়া আমর ইবন আল-আসকে প্রতিনিধি মনোনীত করেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিনিধিরা প্রত্যেকে ৪০০ জন লোকসহ ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী 'দুমাতুল জন্দল' নামক স্থানে হাজির হন। তবে এ সালিশি বৈঠকে মুয়াবিয়ার প্রতিনিধি আমর ইবন আল-আসের ধূর্ততার জন্য হযরত আলী (রা) খলিফা পদ থেকে অপসারিত হন। ঐতিহাসিক এ ঘটনাই 'দুমার মীমাংসা' নামে পরিচিত।

#

কত খ্রিষ্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?

উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।

#

উক্ত সংঘর্ষে খলিফার ব্যর্থতার ফলে ইসলামে গণতন্ত্রের পরিবর্তে রাজতন্ত্রের উদ্ভব হয়- তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উক্ত সংঘর্ষে খলিফার ব্যর্থতার ফলে ইসলামে গণতন্ত্রের পরিবর্তে রাজতন্ত্রের উদ্ভব হয়- মন্তব্যটি যথার্থ।

উদ্দীপকে জনাব আলী আশরাফের সিদ্ধান্তের প্রতি জনাব মুহিবের আনুগত্যহীনতা, তার সম্পত্তি রাজকোষে ফিরিয়ে আনা এবং এর জের ধরে যে সংঘর্ষের কথা বলা হয়েছে তা মূলত সিফফিনের যুদ্ধকেই ইঙ্গিত করে। এ যুদ্ধ ছিল ইসলামের সংহতি রক্ষা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে ঘোর অমঙ্গলজনক। এ অমঙ্গলেরই একটি প্রতিচ্ছবি হলো গণতন্ত্রের অবসান এবং রাজতন্ত্রের সূচনা।

সিফফিনের যুদ্ধের পর ৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে আমির মুয়াবিয়া নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খলিফা হিসেবে ঘোষণা দেন। অমীমাংসিত এ যুদ্ধে খলিফা আলী (রা)-এর সরলতার সুযোগ নিয়ে আমির মুয়াবিয়া দুমাতুল জন্দলে সালিশির আয়োজন করে ধূর্ততার মাধ্যমে নিজেকে খলিফা পদে অধিষ্ঠিত করেন। ফলে গণতন্ত্র ও খিলাফতের অবসান ঘটে এবং বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের উদ্ভব হয়। সকল জনগণ শাসক ও শাসিত এ দু দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ যুদ্ধের ফলে শুধু আলী (রা)-এরই পরাজয় ঘটেনি বরং মহানবি (স)-এর আদর্শে প্রতিষ্ঠিত খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, যা ইসলামের মৌলিক আদর্শে আঘাত হানে। তাছাড়া মুয়াবিয়ার সাথে আলী পুত্র হাসানের সন্ধি অনুযায়ী আলী (রা)-এর দ্বিতীয় পুত্র হুসাইনের খলিফা নিযুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিজ পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। এভাবে নির্বাচনভিত্তিক খিলাফতকে উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতন্ত্রে রূপান্তর করা হয়।

পরিশেষে বলা যায়, সিফফিনের যুদ্ধে খলিফা আলীর দূরদশী চিন্তার অভাবে মুয়াবিয়া হঠকারিতা করার সুযোগ পায়। ফলে ইসলামের ভিত্তিমূল আলোড়িত হয় অর্থাৎ গণতন্ত্রের বিলোপ ঘটে। আর এটি রাজতন্ত্র উদ্ভবের পথ সহজ করে দিয়ে ইসলামকে শক্তিহীন করে দেয়।