- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
এটলাস নামক সমবায় সমিতির কলেবর বৃদ্ধি পেলে এটির সম্পদ-সম্পত্তিও অনেক গুণ বেড়ে যায়। ফলে পরিচালনা কর্তৃপক্ষ সমিতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণের নিমিত্তে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে। তাছাড়া সম্পদ-সম্পত্তি সংরক্ষণ ও লভ্যাংশ বিলি-বণ্টনের জন্য একটি আলাদা কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সেখানে একটি ক্যাশ কাউন্টার স্থাপন করে। এই কার্যালয় সকল প্রকার মুনাফা সংগ্রহ করে কোষাগারে জমা রাখে এবং সদস্যদের মধ্যে তা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করে দেয়।
উদ্দীপকের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে হযরত ওমর (রা)-এর কোন নীতি অনুসৃত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে হযরত ওমর (রা)-এর মজলিশ উস-শূরার নীতি অনুসৃত হয়েছে।
হযরত মুহাম্মদ (স) ও হযরত আবু বকর (রা)-এর অনুকরণে হযরত ওমর (রা) মজলিস-উস-শূরা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কারণ তিনি সব সময় বলতেন পরামর্শ ব্যতীত খিলাফত চলতে পারে না। এ গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্যে পরিচালনার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রণা পরিষদ গঠন করেন, যা মজলিস-উস-শূরা বা মন্ত্রণা পরিষদ নামে পরিচিত। এটি মজলিস-উস-খাস ও মজলিস-উস-আম এ দুটো ভাগে বিভক্ত ছিল। উদ্দীপকেও এ ধরনের পরিচালনা নীতি দেখা যায়।
এটলাস সমবায় সমিতির কলেবর বৃদ্ধি পেলে কর্তৃপক্ষ সম্পদ সংরক্ষণ ও বণ্টনের জন্য আলাদা বিভাগ গঠন করে। তাদের এ কাজটি এমর (রা)-এর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মজলিস-উস-শুরা গঠনের মতোই। সময়ের সাথে সাথে ওমর (রা)-এর খিলাফত অর্ধজাহান পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এত বড় খিলাফত পরিচালনার তাগিদেই তিনি আলাদাভাবে শক্তিশালী বিচার বিভাগ গঠন করেন। ভিন্ন ক্ষেত্র হলেও এটলাস সমিতি ওমর (রা)-এর ন্যায় নীতি গ্রহণ করেছে। সুতরাং, উদ্দীপকে ওমর (রা)-এর মজলিস-উস-শুরা গঠনের নীতি অনুসৃত হয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
উদ্দীপকে সমিতির সম্পদ-সম্পত্তি সংরক্ষণ ও বিলি-বণ্টনে হযরত ওমর (রা) প্রতিষ্ঠিত দিওয়ান ও বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য লক্ষণীয়- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে সমিতির সংরক্ষণ ও বিলি-বণ্টনে হযরত ওমর (রা) প্রতিষ্ঠিত দিওয়ান ও বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য লক্ষণীয়।
বায়তুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) এর পুনর্গঠন খলিফা হযরত ওমরের (রা) একটি শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব। ওমর (রা) আব্দুল্লাহ বিন আকরামকে প্রধান কোষাধ্যক্ষরূপে নিযুক্ত করে মদিনায় বায়তুল মালের সংস্কার ও পুনর্গঠন করেন। সেখানে প্রদেশ হতে প্রেরিত উদ্বৃত্ত অর্থ জমা থাকত। ঐ কোষাগার পাহারার জন্য অস্ত্র সজ্জিত প্রহরীও নিযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া খিলাফতের আয় বৃদ্ধি করার সাথে সাথে খলিফা দিওয়ান-উল খারাজ নামে একটি নতুন রাজস্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এর কাজ ছিল রাজ্যের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ রক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় খরচ নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করা।
উদ্দীপকেও এ ধরনের অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি অর্থ বিভাগ রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটলাস সমিতি এ বিভাগ সংস্কারের মাধ্যমে সমিতিকে আর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ওমর (রা)-এর দিওয়ান উল খারাজ ও বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠার অনুরূপ। ওমর (রা)-এর এ ব্যবস্থা রাষ্ট্র সম্পদের অপচয়ের হাত থেকে যেমন রক্ষা পেত, তেমনি সঠিক বণ্টন নিশ্চিত হতো। একইভাবে এটলাস সমিতিও সম্পদ সংরক্ষণ ও বিলি বণ্টনের নিশ্চয়তার জন্য আলাদা বিভাগ ও ক্যাশ কাউন্টার চালু করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, এটলাস সমিতি ওমর (রা)-এর দিওয়ান ও বাইতুল মাল গঠনের নীতিই অনুসরণ করেছে।
জিজিয়া কী? ব্যাখ্যা করো।
জিজিয়া হচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমদের ওপর ধার্যকৃত নিরাপত্তা কর।
জিজিয়া মাথাপিছু হারে নির্ধারিত হয়ে থাকে। অমুসলিম নাগরিকরা জিজিয়া প্রদানের মাধ্যমে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে অব্যাহতি পেত। জিজিয়া দেওয়ার বদৌলতে মুসলিম শাসকগণ অমুসলিম নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল। তবে নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ, উন্মাদ ও ধর্মীয় পুরোহিতরা এ কর হতে অব্যাহতি পেত।
ইসলামি রাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী কোথায় স্থাপিত হয়?
ইসলামি রাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী মদিনায় স্থাপিত হয়।

