- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'ক' নামক একজন শাসক ক্ষমতায় এসেই সকল প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের বরখাস্ত করে তাদের স্থলে নতুন শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। 'গ' নামক শাসনকর্তা ব্যতীত সকল প্রাদেশিক শাসনকর্তা 'ক' শাসকের আদেশ পালন করেন। 'গ' নামক প্রাদেশিক শাসনকর্তার সাথে 'ক' শাসকের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সংঘর্ষের ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়।
আরবদের প্রধান খাদ্য কী?
আরবদের প্রধান খাদ্য খেজুর।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
উদ্দীপকের 'ক' ও 'গ' এর মধ্যে সংঘর্ষ খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগের কোন সংঘর্ষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের 'ক' ও 'গ' এর মধ্যকার সংঘর্ষ খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগের হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার সংঘর্ষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হযরত আলী (রা) এর খিলাফতকাল ছিল আন্তঃবিপ্লব ও গোলযোগে পরিপূর্ণ। এ সময় হযরত ওসমান (রা) এর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই তিনটি গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এগুলোর মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধ একটি। উদ্দীপকের বর্ণনায় এ যুদ্ধের ঘটনারই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্বের শাসকের নিযুক্ত প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন। গভর্নর 'গ' ব্যতীত সকলে তার নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখান। এছাড়া 'ক' 'গ' এর সম্পত্তি রাজকোষে ফিরিয়ে নিলে 'ক' ও 'গ'-এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সিফফিনের যুদ্ধের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা লক্ষণীয়। হযরত আলী (রা) খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়েই শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে হযরত ওসমান (রা) এর সময়কার প্রাদেশিক গভর্নরদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। সকল গভর্নর তার এ সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করলেও সিরিয়ার গভর্নর আমির মুয়াবিয়া এ সিদ্ধান্ত মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি হযরত ওসমান (রা) এর খিলাফতকালে দুর্নীতি করে রাজকোষের অর্থের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হন। হযরত আলী (রা) এসব সম্পত্তি পুনরায় রাজকোষে ফিরিয়ে নিলে মুয়াবিয়ার স্বার্থে আঘাত লাগে। ফলে তিনি আলী (রা) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। এ খবর পেয়ে আলী (রা)ও যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। ফলে ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের সংঘর্ষ সিফফিনের যুদ্ধেরই ইঙ্গিত বহন করে।
তুমি কি মনে কর তোমার পঠিত সংঘর্ষ পরবর্তী ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি সিফফিনের যুদ্ধের ঘটনা পরবর্তী ইতিহাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের পরিবর্তে রাজতন্ত্রের সূচনা হয়।
উদ্দীপকে জনাব 'ক' সিদ্ধান্তের প্রতি জনাব 'গ'-এর আনুগত্যহীনতা, তার সম্পত্তি রাজকোষে ফিরিয়ে আনা এবং এর জের ধরে যে সংঘর্ষের কথা বলা হয়েছে তা মূলত সিফফিনের যুদ্ধকেই ইঙ্গিত করে। এ যুদ্ধ ছিল ইসলামের সংহতি রক্ষা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে ঘোর অমঙ্গলজনক। এ অমঙ্গলেরই একটি প্রতিচ্ছবি হলো গণতন্ত্রের অবসান এবং রাজতন্ত্রের সূচনা।
সিফফিনের যুদ্ধের পর ৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে আমির মুয়াবিয়া নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খলিফা হিসেবে ঘোষণা দেন। অমীমাংসিত এ যুদ্ধে খলিফা আলী (রা)-এর সরলতার সুযোগ নিয়ে আমির মুয়াবিয়া দুমাতুল জন্দলে সালিশির আয়োজন করে ধূর্ততার মাধ্যমে নিজেকে খলিফা পদে অধিষ্ঠিত করেন। ফলে গণতন্ত্র ও খিলাফতের অবসান ঘটে এবং বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের উদ্ভব হয়। সকল জনগণ শাসক ও শাসিত এ দু দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ যুদ্ধের ফলে শুধু আলী (রা)-এরই পরাজয় ঘটেনি বরং মহানবি (স)-এর আদর্শে প্রতিষ্ঠিত খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, যা ইসলামের মৌলিক আদর্শে আঘাত হানে। তাছাড়া মুয়াবিয়ার সাথে আলী পুত্র হাসানের সন্ধি অনুযায়ী আলী (রা)-এর দ্বিতীয় পুত্র হুসাইনের খলিফা নিযুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ৬৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি নিজ পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। এভাবে নির্বাচনভিত্তিক খিলাফতকে উত্তরাধিকারভিত্তিক সালতানাতে রূপান্তর করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সিফফিনের যুদ্ধে খলিফা আলীর (রা) দূরদর্শী চিন্তার অভাবে মুয়াবিয়া হঠকারিতা করার সুযোগ পায়। ফলে ইসলামের ভিত্তিমূল আলোড়িত হয় অর্থাৎ গণতন্ত্রের বিলোপ ঘটে। আর এটি রাজতন্ত্র উদ্ভবের পথ সহজ করে দিয়ে ইসলামকে শক্তিহীন করে দেয়।

