• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • খুলাফায়ে রাশেদিন
খুলাফায়ে রাশেদিন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মুর সম্প্রদায়ের দলনেতা আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করলেন। তিনি তার কোনো উত্তরাধিকারী মনোনীত করেননি। দলনেতা নির্বাচন নিয়ে গোত্রের লোকদের মধ্যে সংঘাত দেখা দিলো। দলের বয়োজ্যোষ্ঠ সাদাব জ্ঞানী মানুষ হিসেবে সকলের শ্রদ্ধেয়। মৃত দলনেতার বিশেষ আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। আকিব বললেন, আমাদের নেতা হবেন সাদাব। সকলে তার কথা মেনে নিল। আসন্ন সংঘাত থেকে মুর সম্প্রদায় রক্ষা পেল।

কাদেসিয়ার যুদ্ধ কতো দিনব্যাপী সংঘটিত হয়েছিল?

কাদেসিয়ায় যুদ্ধ তিন দিনব্যাপী সংঘটিত হয়েছিল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

বায়তুল মাল কী? ব্যাখ্যা করো।

বায়তুল মাল বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের সরকারি কোষাগারকে বোঝায়।

ইসলামি রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের সমস্ত অর্থ এক স্থানে জমা থাকে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পরিচালনায় এ অর্থ ব্যয় করা হয়। রাষ্ট্রের বাৎসরিক ব্যয় ভার নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ গরিবদের মাঝে বণ্টন করা হয়। রাষ্ট্রের সমগ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এ সম্পদের ওপর নির্ভর করে। এ ধরনের রাষ্ট্রীয় কোষাগারই বায়তুল মাল নামে পরিচিত।

#

উদ্দীপকের ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে তোমার পঠিত কোন ঘটনার? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে হযরত আবু বকর (রা)-এর খলিফা নির্বাচিত হওয়ার মিল পরিলক্ষিত হয়।

মহানবী (স)-এর ওফাতের পর মুসলিম জগতে এক জটিল সমস্যার উদ্ভব হয়। কারণ মহানবি (স) কাউকে খলিফা নির্বাচিত করে যাননি। তিনি খলিফা বা প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্ব সমস্ত মুসলমানদের হাতে ন্যস্ত করে যান। এমতাবস্থায় খলিফা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন গোত্র ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করে। যার ফলে এক ভয়াবহ ও সংশয়পূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে অনেক বাক-বিতণ্ডার পরে শেষ হযরত আবু বকর (রা) খলিফা নির্বাচিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। উদ্দীপকেও এরূপ অবস্থা পরিলক্ষিত হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মুর সম্প্রদায়ের দলনেতার হঠাৎ মৃত্যুতে গোত্রদ্বয়ের মধ্যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। জ্ঞানী ও বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে সাদাব সকলের কাছে সম্মানিত বলে পরিচিত ছিল। তাই আকিব নামক অন্য একজন ব্যক্তি সাদাবকে নেতা ঘোষণা করেন এবং সকলে তাকে দলনেতা হিসেবে মেনে নেয়। অনুরূপভাবে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর শাহাদাতের পর মুসলিম সাম্রাজ্যে এক সঙ্কটময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কেননা মহানবি (স) কোন উত্তরাধিকারী মনোনীত করেননি। ফলে খিলাফতকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়। এ সময় বিভিন্ন গোত্রগুলো নিজ নিজ সম্প্রদায়ের শেখ তথা নেতাকে খলিফা নির্বাচনের দাবি জানায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মুসলিম জাহান যখন খলিফা নির্বাচনে দ্বিধান্বিত তখন হযরত উমর (রা) খলিফা হিসেবে আবু বকর (রা) সমর্থনে জোরালো বক্তব্য রাখেন এবং আরবদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী আবু বকর (রা) হাত চুম্বন করে খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার সাথে সাথে সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আবু বকর (রা) কে খলিফা হিসেবে স্বীকার করেন। উদ্দীপকে এ ঘটনারই প্রতিফলন দেখা যায়।

#

উক্ত ঘটনা আসন্ন সংঘাত থেকে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করে ছিল- বিশ্লেষণ করো।

মহানবি (স)-এর শাহাদাতের পর খলিফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুসলিম জাহানে যে চরম সংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল তা আবু বকর (রা)-এর খলিফা নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দূরীভূত হয়।

মহানবি (স) ছিলেন গণতন্ত্রের একজন প্রবক্তা। যার ফলে তিনি উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যাননি। কিন্তু তার মৃত্যুর পর খিলাফতকে কেন্দ্র করে মুসলিম উম্মাহের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এই সমস্যাসকূল অবস্থায় বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে আসন্ন দ্বন্দ্বের আশঙ্কা দেখা দেয়। এমতাবস্থায় হযরত ওমর (রা) জোরালো সমর্থন এবং আরব প্রথানুযায়ী আবু বকর (রা)-এর হাত চুম্বনের মাধ্যমে তাকে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। উদ্দীপকে এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকে বর্ণিত মুর সম্প্রদায়ের দলনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে উত্তরাধিকারী নিয়ে গোত্রদ্বয়ের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। কিন্তু সাদাব নেতা নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি শান্ত হয়। অনুরূপভারে মুসলিম উম্মাহ মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হয়। কারণ গণতান্ত্রিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মহানবি (স) খলিফা নির্বাচনের ভার মুসলিম উম্মাহর ওপর দিয়ে যান। তাই নেতা নির্বাচন নিয়ে এ সময় এক ভয়ঙ্কর অবস্থা সৃষ্টি হয়।

পি, কে, হিট্রি বলেন, 'খিলাফত প্রশ্নই ছিল ইসলামের প্রথম সমস্যা এটি অদ্যাবধিই একটি জীবন্ত সমস্যা।' খলিফা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে মুসলমানগণ সাকিফা বানি সাদিয়া' নামক স্থানে মিলিত হন। এখানে খলিফা নির্বাচনের প্রশ্নে চারটি রাজনৈতিক দলের উদ্ভব হয়। তারা নিজেদের পক্ষের লোকদের সমর্থনে কথা বলেন। অনেক বাক-বিতণ্ডার পরে উমর (রা) বয়োজ্যেষ্ঠ, জ্ঞানী ও ইসলামে জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে আবু বকর (রা)-এর হাত চুম্বনের মাধ্যমে তার আনুগত্য স্বীকার করেন। ফলে সবাই আবু বকর (রা)-এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। আবু বকর (রা) অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে মুসলিম সাম্রাজ্যের নেতা নির্বাচিত হন। খিলাফতকে কেন্দ্র করে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল আবু বকর (রা)-এর নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এটি না হলে ইসলামের বাণী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া অনিশ্চিত হয়ে যেত। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আবু বকর (রা) খলিফা নির্বাচিত হয়ে অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন।