• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • খুলাফায়ে রাশেদিন
খুলাফায়ে রাশেদিন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মাওলানা আহম্মদ উল্লাহ সাহেব অনেক কষ্ট করে তার জনপদের লোকজনকে সুন্দর ও সঠিক পথে আনায়ন করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তারা পুনরায় অসৎ পথে ফিরে যায়। এমতাবস্থায়, তার পরবর্তী শিষ্য তাদের দমন করেন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

শিষ্য কীভাবে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকের ন্যায় হযরত আবু বকর (রা) ভণ্ডনবি ও স্বধর্মত্যাগীদের দমনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

মহানবী (স)-এর ওফাতের পর নবদীক্ষিত আরববাসীর অধিকাংশই ইসলাম পরিত্যাগ করে বাপ-দাদার ধর্মে ফিরে যেতে থাকে। এই সুযোগে আসওয়াদ, আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা ও সাজাহসহ বেশ কয়েকজন ভণ্ডনবির আর্বিভাব হয়। হযরত আবু বকর (রা) এ সমস্ত স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। আবার অনেক গোত্র যাকাত প্রদানেও অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্র চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে নিপতিত হয়।

এমতাবস্থায় হযরত আবু বকর (রা) অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার সাথে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। উদ্দীপকেও এরূপ ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকে আহম্মদ সাহেবের মৃত্যুর পর জনপদের লোকের মধ্যে

বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। তারা পুনরায় অসৎ পথে ফিরে যায়। এই পরিস্থিতিতে তার এক শিষ্য তাদের দমন করে সমাজে শান্তি আনয়ন করেন। অনুরূপভাবে হযরত আবু বকর (রা) ও ইসলামি রাষ্ট্রকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিদের বিদ্রোহের ফলে ইসলামে চরম বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়ে ছিল। সে মুহূর্তে যদি আবু বকর (রা) তাদের দমন করতে ব্যর্থ হতেন তাহলে তারা রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করত এবং ইসলামি রাষ্ট্রকে বিলীন করে দিত। কিন্তু আবু বকর (রা) দৃঢ়সংকল্প, গভীর আত্মপ্রত্যয় ও অনমনীয় মনোভাবের মাধ্যমে ভণ্ডনবিদের দুরভিসন্ধি ধূলিসাৎ করে দেন। ফলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উপযুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ভণ্ডনবি ও স্বধর্মত্যাগীদের দমনের মাধ্যমে উদ্দীপকের ন্যায় আবু বকর (রা)ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ভণ্ডনবিদের নেতা কে ছিলেন?

ভন্ডনবিদের নেতা ছিলেন মুসায়লামা।

#

কাকে এবং কেন 'সিদ্দিক' বলা হতো?

সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্থতার জন্য হযরত আবু বকর (রা) কে সিদ্দিক' বলা হতো।

হযরত আবু বকর (রা) ছিলেন মহানবি (স) 'এর একান্ত অনুগত। মহানিব (স) সব কিছুতেই তার ছিল অগাধ বিশ্বাস এবং তার সমস্ত কথাই আব বকর (রা) অকপটে বিশ্বাস করতেন। মহানিব (স) মিরাজ গমনের 'কথা শুনা মাত্রই তিনি সন্ধিহানভাবে বিশ্বাস করেন। তিনিই সর্ব প্রথম মহানিব (স)-এর মিরাজের ঘটনা বিশ্বাস করেন। এ জন্য মুহাম্মদ (স) তার উপাধি দেন 'সিদ্দিক' বা বিশ্বাসী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আবু বকর (রা) কে সিদ্দিক বলা হতো।

#

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়? লিখ।

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটেছে।

হযরত আবু বকর (রা) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা ও একনিষ্ঠ সেবক। মহানবি (স)-এর নবুয়ত লাভের পর বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর খিলাফতকালে ইসলামের বিরুদ্ধে অনেকে আন্দোলন শুরু করে, যা ছিল ইসলাম ধর্মের জন্য ক্ষতিকর। তবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এ গুলো নিরসন করেন। উদ্দীপকেও এ ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, একজন মহাপুরুষের পরলোকগমনের পর তার একজন সাথীকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়। এ সময় তিনি অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হলেও যোগ্যতার সাথে তা সমাধান করেন। অনুরূপভাবে হযরত মুহাম্মদ (স) এর মৃত্যুর পর আরবের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন সংকটাপর সেই সময় হযরত আবু বকর (রা) ইসলামি খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তখন স্বধর্মত্যাগী, যাকাত বিরোধীদের বিদ্রোহ, রোমান ও পারসিক সাম্রাজ্যদ্বয়ের ইসলাম বিরোধী তৎপরতায় আরব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন প্রায় ছিল। আবু বকর (রা) তার বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার দ্বারা ইসলামি সাম্রাজ্যকে এ সকল বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন। উদ্দীপকে হযরত আবু বকর (রা)-এর এ বিচক্ষণ' কার্যাবলিরই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।