- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
কালুবাবার মাজারের সুনাম ও সুখ্যাতিকে অবলম্বন করে কতিপয় ধর্মাশ্রয়ী ব্যক্তি নিজেদের এলাকায় আস্তানা তৈরি করে নিজেেেদর পির বলে আখ্যায়িত করে। তারা মানুষের সরলতা ও অশিক্ষাকে পুঁজি করে ধর্ম ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে মাজার কর্তৃপক্ষ উল্লিখিত ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের দমন করে মাজারের পবিত্রতা ও সুনাম ফিরিয়ে আনে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্ম ব্যবসায়ীদের দমন আবু বকরের কর্মকান্ডের সাথে যে বিষয়টির মিল খুঁজে পাওয়া যায় তার স্বরূপ বর্ণনা দাও।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্ম ব্যবসায়ীদের দমনের সাথে আবু বকর (রা)-এর যুদ্ধের মাধ্যমে স্বধর্মত্যাগীদের দমনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। হজরত মুহম্মদ (স)-এর জীবনের শেষদিকে আরবের বিভিন্ন অংশে কতিপয় ভণ্ড বা নকল নবির আবির্ভাব ঘটে নবুয়তপ্রাপ্তিকে তারা লাভজনক মনে করেই নিজেদেরকে নবি হিসেবে দাবি করে। মহানবি (স) এর মৃত্যুর সংবাদে তারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং ইসলামের বিনাশ সাধনে তৎপর হয়। হজরত আবু বকর (রা) স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। মাজার কর্তৃপক্ষ উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের দমন করেন এবং মাজারের পবিত্রতা ও সুনাম ফিরিয়ে আনেন। একইভাবে আবু বকর (রা)ও ভণ্ডনবিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তাদের দমন করেন। আবু বকর (রা) মদিনায় সৈন্যদল সংগ্রহ করে তাদেরকে মোট ১১টি ভাগে বিভক্ত করেন এবং প্রত্যেকটি সৈন্যদলকে একজন অভিজ্ঞ সেনাপতির অধীনে ন্যস্ত করে আরবদের বিভিন্ন অংশে পাঠান। তিনি প্রথমে রণকুশালি 'খালিদ-বিন ওয়ালিদকে তোলায়হা এবং পরে মালিক বিন নোবায়রার বিরুদ্ধে পাঠান। ইকরাম বিন আবি জেহেলকে মুসায়লামার বিরুদ্ধে পাঠান। সুরাহবিলকে ইকরামার সাহায্যে পাঠান। মোজাহির-বিন-আবি উমাইয়াকে ইয়েমেন এবং হাজরামাউত বিজয়ে পাঠান। তার একদল বাহিনীকে তিনি সিরিয়া সীমান্ত প্রহরার জন্য পাঠান। এছাড়া তিনি আম্মান ওমাহরাব বিদ্রোহ দমন। কাজাগোত্রের বিদ্রোহ দমন, বনু সালাম ও হাউয়াবিন গোত্রকে দমণ ও অন্যান্যদের দমনে সেনাবাহিনী পাঠান। বিনা যুদ্ধেই অনেকেই খলিফার নিকট আত্মসমর্পণ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আর যারা তা অস্বীকার করে পূর্ববর্তী মতে দৃঢ় থেকে আবু বকর (রা) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তাদের দমন করেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
শুরা শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
শুরা শব্দের আভিধানিক অর্থ পরামর্শ।
স্ব-ধর্মত্যাগী আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
স্ব-ধর্মত্যাগী আন্দোলন বলতে ভণ্ডনবিদের বিরুদ্ধে হযরত আবু বকর (রা)-এর পরিচালিত যুদ্ধকে বোঝায়।
মহানবি (স)-এর পরলোকগমনের পর গোত্রের পর' গোত্র ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তাদের পূর্বের ধর্মে ফিরে যেতে থাকে। এছাড়া এসময় কিছু সংখ্যক গোত্রপ্রধান নবুয়তলাভকে একটি লাভজনক পেশা মনে করে নিজেদেরকে নবি ঘোষণা করে। এদের মিথ্যা বক্তব্যে সমাজে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও ইসলাম ধর্মের নেতৃত্ব নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়। এই চরম সংকটময় মুহূর্তে হযরত আবু বকর (রা) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে এসব ভন্ডনবি ও স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এ যুদ্ধই ইসলামের ইতিহাসে রিদ্দার যুদ্ধ বলে খ্যাত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপ শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিলম- মূল্যায়ন করো।
উল্লিখিত পদক্ষেপ অর্থাৎ যুদ্ধের মাধ্যমে স্বধর্মত্যাগীদের দমন বা রিদ্দার যুদ্ধ শিশু ইসলামকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিল।
মাজার কর্তৃপক্ষ যেভাবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মাজারের সুনাম ও সুখ্যাতি ফিরিয়ে আনেন ঠিক একইভাবে আবু বকর (রা) রিদ্দার যুদ্ধের, মাধ্যমে শিশু ইসলামকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।
হজরত আবু বকর (রা) স্বধর্মত্যাগীদের সকল চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে ইসলামি রাষ্ট্রের অখণ্ডতা বজায় রাখতে সক্ষম হন। রিদ্দা যুদ্ধে জয় লাভ করে মুসলমানরা শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বহির্বিশ্বেও ইসলাম প্রচার করার সুযোগ লাভ করে।
রিদ্দা যুদ্ধে মুসলমানদের জয় লাভের ফলে আরব হতে পৌত্তলিকতা চিরতরে বিলুপ্ত হয় এবং সমগ্র আরবে আল্লাহর একত্ববাদ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। রিদ্দা যুদ্ধে জয়লাভের ফলে ইসলামি রাষ্ট্র ধ্বংসের হাত হতে চিরদিনের মতো রক্ষা পায় এবং মুসলমানদের শক্তি ও শৃঙ্খলার কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মদিনা রাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হতে রক্ষা পায় এবং মুসলিম জাতি নব বলে বলীয়ান হয়। রিদ্দার যুদ্ধের সময় পারসিক ও আরবের বিদ্রোহী পোত্রগুলোকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কে দিয়েছিল। কালেই যুদ্ধ প্রশমিত হলে আবু বকর (রা) তাদের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন। এরই ফলশ্রুতিতে পরবর্তী খলিফা ওমরের খিলাফতকালে সমগ্র পারস্য ও বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য মুসলমানদের করতলগত হয়। এ যুদ্ধে জয় লাভের ফলে ইসলামি রাষ্ট্রের আয়ের পথ বেড়ে যায়। বিভিন্ন গোত্র সম্প্রদায়ের নিকট হতে যাকাত সংগৃহীত হওয়ার ফলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়। ইসলাম সম্বন্ধে মুসলমানদের সন্দেহের অবসান হয় এবং তাদের মনে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আশার আলোর সঞ্চয় হয়।
পরিশেষে বলা যায়, হজরত আবু বকর (রা) কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ শিশু ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

