• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • খুলাফায়ে রাশেদিন
খুলাফায়ে রাশেদিন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

দিল্লীর বাদশাহ নাসিরউদ্দিন ছিলেন একজন প্রজারঞ্জক শাসক। তিনি রাত্রে ছদ্মবেশে ঘুরে ঘুরে প্রজাদের অবস্থা দেখতেন। কখনও নিজে আটার বস্তা দরিদ্র প্রজার ঘরে পৌছে দিতেন। কখনও বা প্রসূতির প্রসব বেদনা নিবারণার্থে নিজের স্ত্রীকে বেদুঈনের গৃহে নিয়ে যেতেন। তবে তার বিচার বিভাগ ছিল বড়ই দুর্বল।

ইসলামের তৃতীয় খলিফার নাম কী?

ইসলামের তৃতীয় খলিফার নাম হযরত ওসমান (রা)।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের সাথে তোমার পঠিত কোন খলিফার কর্মকাণ্ডের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে বাদশাহ নাসির উদ্দিনের কর্মকান্ডের সাথে ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা)-এর কর্মকান্ড সামঞ্জস্যপূর্ণ। হযরত ওমর (রা) হযরত আবু বঙ্কর (রা)-এর মৃত্যুর পর ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি এমন জনদরদি শাসক ছিলেন যে, রাতের বেলা ছদ্মবেশে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতেন। প্রজাদের দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং অভাবের কারণে কোনো প্রজা কষ্টে আছেন কিনা তা দেখা ও জানার জন্য। তিনি ভাবতেন তার সাম্রাজ্যে যদি কেউ কষ্টে থাকেন তাহলে আল্লাহর কাছে তাকে অপরাধের শাস্তি পেতে হবে। এজন্য তিনি নিজে অভাবীদের দুয়ারে খাদ্য পৌঁছে দিতেন। এমনকি প্রসূতির প্রসব যন্ত্রণা দূর করতে নিজ স্ত্রীকে প্রেরণ করতে দ্বিধা করতেন না।

হযরত ওমর (রা)-এর মতোই জনদরদি শাসক ছিলেন দিল্লির বাদশা নাসির উদ্দিন। নাসির উদ্দিনের রাতের অন্ধকারে প্রজাদের খোঁজ রাখা, প্রসূতির প্রসব যন্ত্রণায় সাহায্য করা প্রভৃতি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড হযরত ওমর (রা)-এর কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরে। সুতরাং, প্রজাহিতৈষী শাসনকার্য বিবেচনায় উদ্দীপকের শাসক হযরত ওমর (রা) এর আদর্শ ধারণ করেছে।

#

উদ্দীপকের বাদশাহ অপেক্ষা তোমার পঠিত খলিফার কর্মকাণ্ড কোন দিক দিয়ে অধিক প্রশংসার দাবি রাখে? বিশ্লেষণ করো।

দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিক দিয়ে উদ্দীপকের বাদশাহর চেয়ে হযরত ওমর (রা) অধিক কৃতিত্বের অধিকারী।

হযরত ওমর (রা) প্রজারঞ্জক খলিফা ছিলেন। রাতের অন্ধকারে গরিব প্রজাদের দুঃখ নিজ চোখে দেখতেন এবং অভাবীর ঘরে নিজে বয়ে নিয়ে যেতেন খাবার। প্রসূতির যন্ত্রণা দূর করার জন্য তার স্ত্রীকে পাঠিয়ে দিতেন প্রসব যন্ত্রণায় কাতর মায়েদের গৃহে। এগুলো ছিল হযরত ওমরের (রা) কোমলতার দিক, যা উদ্দীপকের শাসকের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের বাদশাহর সাথে ওমর (রা)-এর মৌলিক প্রশংসনীয় পার্থক্য হচ্ছে তার বিচারব্যবস্থা। ওমর (রা) ছিলেন ন্যায়পরায়ণ শাসক। তিনি কঠোরভাবে অন্যায় দমন করতেন। তার কাছে আপন-পর ভেদাভেদ ছিল না। বিচারক হিসেবে তিনি সকলকে সমানভাবে বিবেচনা করতেন। ওমরের (রা) কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিচারব্যবস্থায় অন্যায় করে কেউ মুক্তি পেত না। তিনি তার পুত্রকে অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়েছিলেন। তখন তার পিতৃহৃদয় পুত্রের জন্য একটুও করুণা ঝরায়নি। শাস্তি প্রয়োগে তার পুত্র মারা গিয়েছিল।

ওমর (রা)-এর বিচারব্যবস্থায় মুসলিম-অমুসলিম বিবেচনা করা হতো না। মুসলমান অপরাধীর চেয়ে তিনি অমুসলিম নিরাপরাধীর পক্ষেই থাকতেন। এই ছিল তার ন্যায়পরায়ণতা ও বিচারব্যবস্থা। তিনি শরিয়তের বিধানাবলি রাষ্ট্রে কার্যকর করেছিলেন। কথিত আছে 'ওমরের (রা) চাবুক অপরের তরবারি হতেও বেশি ভয়ংকর।'

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বিচার ব্যবস্থায় নিরপেক্ষ এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তাই উদ্দীপকের শাসক থেকে হযরত ওমর (রা) কে অধিক মর্যাদার আসীনে অধিষ্ঠিত করেছে।