- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ঢাকার মোহাম্মদপুরে বিশুদ্ধ পানির সংকট বহুদিনের। জনাব মামুন উক্ত এলাকার কমিশনার নিযুক্ত হন। জনগণের দুর্দশার কথা ভেবে তিনি একটি পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্প স্থাপন করেন। তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ফলে ঐ এলাকায় দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানির সমস্যা সমাধান হয়।
কমিশনারের পদক্ষেপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনার প্রভাব তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
কমিশনারের পদক্ষেপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনা অর্থাৎ হযরত-ওসমান (রা)-এর মদিনাবাসীর জন্য রূপ ক্রয়ের ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইসলামের খিদমতে তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা)-এর অপরিসীম অবদান রয়েছে। তিনি ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী। ইসলাম গ্রহণের পর ওসমান (রা) ইসলাম ও মানবতার সেবায় অকাতরে তার সম্পদ ব্যয় করে। মদিনার অধিবাসীদের পানির অভাব দূর করার জন্য ১৮০০০ দিরহাম ব্যয় করে একটি রূপ ক্রয় করে তা ওয়াকফ করে দেন।
উদ্দীপকের কমিশনার মোহাম্মদপুরের বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করার জন্য একটি পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্প স্থাপন করেন। অনুরূপভাবে হযরত ওসমান (রা) মদিনার মুসলমানদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য ১৮,০০০ দিরহাম দিয়ে এক ইহুদির নিকট থেকে 'বীরে রুমা' নামক একটি কূপ ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দেন। পরবর্তীতে এটি সংস্কারের জন্য আরও ২,০০০ দিরহাম খরচ করেন। হযরত ওসমান (রা)-এর কর্মকাণ্ড তৎকালীন মদিনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কেননা আরবের আবহাওয়া অত্যন্ত উষ্ণ ও বুক্ষ্ম হওয়ার ফলে মদিনায় বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট ছিল। ওসমান (রা)-এর বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার ফলে মানুষের প্রভূত উপকার হয়। ফলে তাদের বিশুদ্ধ পানির অভাব দূরীভূত হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, হযরত ওসমান (রা)-এর মদিনাবাসীর বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করার জন্য কূপ ক্রয় অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
হযরত ওসমান (রা) কত খ্রিষ্টাব্দে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন?
হযরত ওসমান (রা) ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন।
ওসমান (রা) এর সময়কার কুরআন দন্ধীকরণ সংক্রান্ত ঘটনাটি কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।
ওসমান (রা) এর সময়কালে পবিত্র কুরআনের বিকৃতি রোধে মূল কপি থেকে কয়েকটি কপি সংকলন করে বাকিগুলো তিনি পুড়িয়ে ফেলেন।
হযরত ওসমান (রা) এর শাসনামলে বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আঞ্চলিক ভাষায় কুরআন পঠিত হওয়ায় স্থানভেদে কুরআন তিলাওয়াতে ভিন্নতা দেখা দেয়। যেটি পবিত্র কুরআনের বিশুদ্ধতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল। এ কারণে ওসমান (রা) পবিত্র কুরআনের বিকৃতি রোধ করে বিশুদ্ধতা রক্ষায় বিবি হাফসার নিকট রক্ষিত পবিত্র কুরআনের মূল কপি থেকে কয়েকটি কপি সংকলন করে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দিয়ে পুরনো কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলেন।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে কোন খলিফার কার্যকলাপের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা)-এর কার্যকলাপের মিল পাওয়া যায়।
হযরত ওসমান (রা) ছিলেন মুসলিম জাহানের তৃতীয় খলিফা। তিনি ছিলেন ইসলামের একনিষ্ঠ সৈনিক ও মানবদরদী। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ইসলাম ও মানবতার সেবায় অকাতরে তার ধন-সম্পদ ব্যয় করেন। উদ্দীপকেও এরূপ দানশীলতার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ঢাকার মোহাম্মদপুরে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিলে কমিশনার জনাব মামুন একটি পাম্প স্থাপন করেন এবং জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ফলে জনগণের দুর্দশার অবসান ঘটে। অনুরূপভাবে হযরত ওসমান (রা) মদিনার অধিবাসীদের পানির অভাব দূর করার জন্য তিনি আঠারো হাজার স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে একটি 'কূপ ক্রয় করে তা জনগণের জন্য ওয়াকফ করে দেন। তাই বলা যায়, এলাকার অধিবাসীদের পানির অভাব দূর করার জন্য উদ্দীপকে বর্ণিত দীনি সহায়তা ও অসাধারণ মানবকল্যাণে নিবেদিত হওয়ার ঘটনায় ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা)-এর কার্যকলাপেরই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

