- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রহিম ও করিমের মধ্যে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে করিম কৌশলে আপস মীমাংসার প্রস্তাব দেন। রহিম করিমের কূট-কৌশল বুঝতে পেরে আপস করতে রাজি ছিল না। কিন্তু তার পরিবারের লোকজনের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত করিমের সাথে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হন। কিন্তু করিম পরবর্তীতে রহিমের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
উষ্ট্রের যুদ্ধ কেন সংঘটিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
হযরত ওসমান (রা) এর হত্যার বিচার দাবির প্রেক্ষিতে উষ্ট্রের যুদ্ধ হয়। হযরত আলী (রা) ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকেই তালহা ও যুবায়ের তার কাছে ওসমান (রা)-এর হত্যার বিচার দাবি করেন। কিন্তু হত্যাটি সুপরিকল্পিত হওয়ায় এর বিচার কাজে আলী (রা) বিলম্ব করেন। এর ফলে তালহা ও যুবায়ের ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তে আলী (রা) কে হত্যাকান্ডে দায়ী বলে মনে করেন। এদিকে আলী (রা) সাথে আয়েশা (রা)-এর বিদ্বেষের কারণে আয়েশা (রা) তালহা ও যুবায়েরের পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে ওসমান হত্যার বিচার দাবি জোরালো হয়ে ওঠলে উস্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
খিলাফত শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে?
খিলাফত শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে 'খুলাফা' শব্দ থেকে।
"করিমের বিশ্বাসঘাতকতা একটি পরিবারের ক্ষতিসাধন করেছিল। কিন্তু খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগের উক্ত যুদ্ধের বিশ্বাসঘাতকতা ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছিল।" উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
"করিমের বিশ্বাসঘাতকতা একটি পরিবারের ক্ষতিসাধন করেছিল।
কিন্তু খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগের উক্ত যুদ্ধের বিশ্বাসঘাতকতা ইসলামি শাসন ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছিল।"- উক্তিটি যথার্থ।
সিফফিনের যুদ্ধের বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে ৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে মুয়াবিয়া সিংহাসনে বসে। খলিফা আলী (রা) এর সরলতার সুযোগ নিয়ে আমির মুয়াবিয়া দুমাতুল জন্দলে সালিশির আয়োজন করে ধূর্ততার মাধ্যমে নিজেকে খলিফা পদে অধিষ্ঠিত করে।
উদ্দীপকে করিমের বিশ্বাসঘাতকতা একটি পরিবারের ক্ষতি করে কিন্তু খলিফা মুয়াবিয়ার বিশ্বাসঘাতকতা ইসলামের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য অমঙ্গলজনক। এ অমঙ্গলেরই একটি প্রতিচ্ছবি হলো গণতন্ত্রের অবসান ও রাজতন্ত্রের সূচনা। সকল জনগণ শাসক ও শাসিত দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়। মুয়াবিয়া বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে ইসলামের শাসন ব্যবস্থায় প্রজাতন্ত্রের অবসানে রাজতান্ত্রিক শাসনের সৃষ্টি করে। যা ইসলামের মৌলিক আদর্শে আঘাত হানে। তাছাড়া মুয়াবিয়ার সাথে আলীর পুত্র হাসানের সন্ধি অনুযায়ী আলী (রা) এর দ্বিতীয় পুত্র হুসাইনের খলিফা নিযুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে নিজ পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের পরবর্তী উত্তারাধিকারী মনোনীত করে। এভাবে নির্বাচনভিত্তিক খিলাফতকে উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতন্ত্রের রূপান্তর করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সিফফিনের যুদ্ধে মুয়াবিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে ইসলামে গণতন্ত্রের বিলোপ ঘটে। আর এটি রাজতন্ত্রের উদ্ভবের পথ সহজ করে দিয়েই ইসলামকে শক্তিহীন ও কলুষিত করে।

