• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • খুলাফায়ে রাশেদিন
খুলাফায়ে রাশেদিন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মনিরের সভাপতি পদটির প্রতি খুব আগ্রহ। তাই তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে সভাপতির একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে এক পর্যায়ে বিরোধ বেঁধে যায়। মনিরের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর উদ্যোগে উভয়ের বিরোধ মীমাংসার জন্য বৈঠক বসলে প্রতারণার মাধ্যমে বর্তমান সভাপতিকে অপসারণ করে মনিরকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এতে উপস্থিত সদস্যদের মাঝে কয়েকজন এর বিরোধিতা করে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং এ তৃতীয় শক্তির কার্যকলাপ ছিল চরমভাবাপন্ন। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ের সকল কর্মকাণ্ডে তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

আনসার বলা হয় কাদেরকে?

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী মুজাহিদদেরকে মদিনার যেসব মুসলিম সাহায্য করেছিল তাদেরকে আনসার বলা হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

উদ্দীপকের সমঝোতা বৈঠকের ফলে সৃষ্ট তৃতীয় শক্তির সাথে ইসলামের কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

সমঝোতা বৈঠকের ফলে সৃষ্ট তৃতীয় শক্তির সাথে ইসলামের ইতিহাসে খারেজি দল আবির্ভূত হওয়ার সাদৃশ্য রয়েছে।

খারেজি অর্থ দলত্যাগী। হযরত আলী (রা)-এর দল ত্যাগ করে এরা অন্য একটি দলের উদ্ভব ঘটায়। পরবর্তীতে এরাই উমাইয়া খিলাফতে গোলযোগ সৃষ্টি করে এবং শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। উদ্দীপকের সমঝোতা বৈঠকের ফলে সৃষ্ট তৃতীয় পক্ষটির ক্ষেত্রেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত লক্ষণীয়।

উদ্দীপকে সমঝোতা বৈঠকে দেখা যায়, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের প্রতি আগ্রহী মনির সাহেব বর্তমান সভাপতিকে প্রতারণার মাধ্যমে অপসারণ করে নিজেই সভাপতির পদ দখল করে। এতে উপস্থিত সদস্যদের মাঝে কয়েকজন এর বিরোধিতা করে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। ইসলামের ইতিহাসেও এমন একটি ঘটনা দেখা যায়, যা হযরত আলী (রা) এর খিলাফতে ঘটেছিল। খলিফা পদের প্রতি আগ্রহী মুয়াবিয়া প্রতারণামূলক দুমাতুল জন্দলের মীমাংসার বৈঠকে হযরত আলী (রা) কে পদচ্যুত করে নিজেকে খলিফা পদে প্রতিষ্ঠিত করে। এতে হযরত আলী (রা)-এর পক্ষের কিছু সমর্থক এই রায় মেনে নিতে না পেরে দলত্যাগ করে। পরবর্তীতে এরা তৃতীয় দল হিসেবে আবির্ভূত হয় যারা খারেজি নামে পরিচিত ছিল। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত দল সৃষ্টির সাথে খারেজি দলের আবির্ভাবের সামঞ্জস্য রয়েছে।

#

তুমি কি মনে কর উদ্দীপকের দ্বন্দ্বটি হযরত আলী (রা) এবং মুয়াবিয়া (রা)-এর দ্বন্দ্বের পূর্ণাঙ্গ রূপ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

উদ্দীপকের দ্বন্দ্বটিকে আমি হযরত আলী (রা) এবং মুয়াবিয়া (রা) এর দ্বন্দ্বের পূর্ণাঙ্গ রূপ বলে মনে করি।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মনির সাহেব ও রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের মীমাংসার জন্য বৈঠক বসলে প্রতারণার মাধ্যমে বর্তমান সভাপতিকে অপসারণ করে মনিরকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

একইভাবে দেখা যায়- হযরত আলী (রা)-এর খিলাফতে মুয়াবিয়ার খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ঘটনাটি ছিল প্রতারণামূলক দুমাতুল জন্দলের সালিশের মাধ্যম।
সিফফিনের যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে মুয়াবিয়া রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নেয়। মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে ধূর্ত আমর ইবনে আস এবং হযরত আলী (রা)-এর পক্ষ থেকে সরল মনের মুসা-আল আশারি উভয়েই দুমাতুল জন্দল নামক স্থানে উভয় পক্ষের সমর্থকদের নিয়ে বৈঠক ডাকে। ধূর্ত আমর মুসাকে বললেন প্রথমে মুসা হযরত আলী (রা)-এর পদচ্যুতির ঘোষণা করবেন এবং পরে আমর মুয়াবিয়াকে পদচ্যুতির ঘোষণা দিবেন। দেখা গেল সরলমনা মুসা আল আশারি আলী (রা) কে পদচ্যুতির ঘোষণা দিলেন, কিন্তু আমর আলী (রা) কে পদচ্যুতির অনুমোদন করে তার স্থলে মুয়াবিয়াকে নিযুক্তির ঘোষণা দিলেন। এ ঘোষণায় হযরত আলী (রা)-এর কিছু সমর্থক রায় অমান্য করে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। পরে তারা দলত্যাগী হয় এবং পরবর্তীতে উমাইয়া খিলাফতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রমাণ হয় যে, উদ্দীপকের দ্বন্দ্বটিতে হযরত আলী (রা) এবং মুয়াবিয়া (রা)-এর দ্বন্দ্বের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে।