- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব বজলুর রহমানের একটি ছাপাখানা আছে। তিনি একটি গ্রন্থ ছাপাতে গিয়ে অনেক ভুল করেন। ফলে তিনি ভুল কপিগুলো আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। সাইফুল বলল যে, খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগে পবিত্র কোরআন শরিফ সংকলন করার সময় কুরআনের কিছু ভুল কপি পুড়িয়ে ফেলার জন্য ইসলামের একজন খলিফা অভিযুক্ত হন। এছাড়া উক্ত খলিফার বিরুদ্ধে বায়তুল মালের অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে।
খারেজি কারা? ব্যাখ্যা করো।
৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে হযরত আলী (রা) ও হযরত মুয়াবিয়া (রা) এর মধ্যে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের মাধ্যমে আবির্ভূত সম্প্রদায় খারেজি নামে পরিচিত।
'খারেজি' শব্দের অর্থ দলত্যাগী। হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়া (রা) এর মধ্যকার গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বনু তামিম গোত্রের একদল লোক খিলাফতে বিশ্বাস ও ধর্মের যৌক্তিকতায় প্রশ্ন তোলে। অতঃপর এরা হযরত আলী (রা) এর দলত্যাগ করে। এজন্য ইতিহাসে এরা খারিজি নামে পরিচিত।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
হযরত ওসমান (রা)-এর শাসনকাল কতো বছর স্থায়ী হয়েছিল?
হযরত ওসমান (রা)-এর শাসনকাল ১২ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
সাইফুলের কথাটি ইসলামের কোন খলিফার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের সাইফুলের কথাটি ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ইসলামের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ সাহাবি হযরত ওসমান (রা) ছিলেন সরল, বিনয়ী স্বভাবের। এটাই তার ব্যর্থতার প্রধান কারণ। তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ছিল কুরআন শরিফ দন্ধীকরণ, যা উদ্দীপকের সাইফুলের কথায় প্রকাশ পেয়েছে।
ওসমান (রা)-এর খিলাফত লাভের সময় মুসলিম সাম্রাজ্য ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে। এ সময় রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের মধ্যে কুরআন পাঠ নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। তারা নিজেদের মতো করে কুরআনের ভাষা উচ্চারণ করে যাতে করে অর্থের বিকৃতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ওসমান (রা) এ সকল মতভেদ দূর করে কুরআনের বিশুদ্ধ উচ্চারণের জন্য হাফসার নিকট থেকে মূল পাণ্ডুলিপির সঙ্গে মিলিয়ে কুরআন তৈরি করেন। এছাড়া অসামঞ্জস্য সকল পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন। এটি প্রশংসিত উদ্যোগ হলেও বিরুদ্ধমহল এটিকে অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে। সুতরাং উদ্দীপকের সাইফুলের কথাটি ওসমান (রা)-এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তুমি কি মনে কর যে, উক্ত খলিফার বিরুদ্ধে এমনি আরও অনেক মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত দাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি যে, উক্ত খলিফার বিরুদ্ধে কুরআন শরিফ দন্দ্বীকরণ, স্বজনপ্রীতি ও বায়তুল মালের অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও আরও অনেক মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
হযরত ওসমান (রা) ছিলেন একজন সরলমনা শাসক। তার সরলতার সুযোগ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত অভিযোগ ছাড়াও আরও কিছু অভিযোগ করা হয়। যেমন- সরকারি চারণ ভূমি নিজের পশুপালনে ব্যবহার, আবুজর গিফারি (রা) কে নির্বাসন ইত্যাদি।
হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে বেদুইন ও অনারব মুসলমানগণ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনেন। কিন্তু তিনি আত্মীয়স্বজনের প্রতি কিছুটা দুর্বল থাকলেও কোনো অনুপযুক্ত আত্মীয়কে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগদান করেননি। পরিস্থিতির কারণে তিনি গভর্নর পরিবর্তন করলেও গভর্নর তার আত্মীয় ছিল না। হযরত ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর অভিযোগ ছিল কুরআন শরিফ দক্ষ্মীকরণ। তার রাজত্বকালে ইসলামি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের জনসাধারণ নিজেদের সুবিধার্থে কুরআনের ভাষা ও উচ্চারণ পরিবর্তন করে পাঠ করতে থাকে। তাই তিনি কুরআন শরিফের উচ্চারণগত সমস্যা দূর করার জন্যই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং ত্রুটিপূর্ণ ও অসংগতিপূর্ণ কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিল। বায়তুল মালের অর্থ আত্মসাৎ তো দূরের কথা বরং তিনি নিজের সম্পদ ইসলামের জন্য অকাতরে দান করেছেন। সরকারি চারণভূমি রাষ্ট্রীয় পশুপালনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন এবং এক্ষেত্রে তিনি তার পূর্বের দুইজন খলিফাকে অনুসরণ করেছিলেন। রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য আবুজর গিফারিকে নির্বাসন দিয়েছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত মিথ্যা অভিযোগ ছাড়াও ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আরও কিছু মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। যা উপর্যুক্ত আলোচনায় বর্ণিত আছে।

