- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মহামতি সুলায়মান একজন সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ছিলেন। তিনি তার সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করে পূর্বে কৃষ্ণসাগর থেকে পশ্চিমে তিউনিসিয়া এবং উত্তরে ভিয়েনা হতে দক্ষিণে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। তিনি সাম্রাজ্যে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্নীতির দায়ে তার জামাতাকেও তিনি শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতেন।
উষ্ট্রের যুদ্ধ সম্পর্কে লিখ।
৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে হযরত আয়েশা (রা), তালহা, যুবায়ের এবং আলী (রা) এর মধ্যকার সংঘটিত যুদ্ধই উষ্ট্রের যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত।
তালহা, যুবায়ের এবং আয়েশা কর্তৃক বসরা দখলের খবর শুনে হযরত আলী (রা) যুদ্ধের বদলে শান্তিচুক্তি করার প্রস্তাব দেন। শান্তি আলোচনার প্রস্তাবের অগ্রগতিতে মুনাফিক ইবনে সাবা আতঙ্কিত হয়ে আলী (রা)-এর অগোচরে হযরত আয়েশার (রা) নিদ্রিত বাহিনীকে আক্রমণ করে। এমতাবস্থায় হযরত আলী বহু কষ্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে সক্ষম হন। বিবি আয়েশাকে (রা) উদ্ধার করে মদিনায় পাঠিয়ে দেন। বিবি আয়েশা (রা) উষ্ট্রের পিঠে আরোহণ করে এ যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন বলে এ যুদ্ধ ইতিহাসে উষ্ট্রের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'হারবুল ফুজ্জার' অর্থ কী?
হারবুল ফুজ্জার অর্থ অন্যায় যুদ্ধ।
মহামতি সুলায়মানের সাম্রাজ্য বিস্তার কার্যে খুলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফার প্রতিফলন লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা করো।
মহামতি সুলায়মানের সাম্রাজ্য বিস্তার কার্যের সাথে খলিফা ওমর ( রা)-এর সাম্রাজ্য বিস্তারের সামঞ্জস্য রয়েছে।
মহানবি (স) আরবে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন হযরত ওমর (রা) তাকে একটি বৃহত্তম শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেছিলেন। দশ বছরের শাসনামলের মধ্যে তিনি অসাধারণ রণনৈপুণ্য এবং যোগ্যতায় পরাক্রমশালী রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যদ্বয়কে সম্পূর্ণরূপে করায়ত্ত করেন। উদ্দীপকের মহামতি সুলায়মানও তার মতো মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তৃত করেন। উদ্দীপকে শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী মহামতি সুলায়মানের সাম্রাজ্য বিস্তারের কথা বলা হয়েছে। তিনি তার সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করে পূর্বে কৃষ্ণসাগর থেকে পশ্চিমে তিউনিসিয়া এবং উত্তরে ভিয়েনা হতে দক্ষিণে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা)-এর ক্ষেত্রে অনুরূপ কার্যাবলি লক্ষ করা যায়। তাঁর আমলে মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমা পারস্য, সিরিয়া ও মিসর পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এককথায় ওমরের শাসন আমলে তৎকালীন পরিচিত বিশ্বের অর্ধেক মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। এছাড়া ন্যায়ের শাসন, অপরাধের শাস্তি প্রভৃতি বিষয় সুলায়মানের সাথে ওমর (রা) কে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছে। তাই বলা যায়, সুলায়মানের সাম্রাজ্য বিস্তার খলিফা ওমরের (রা) সাম্রাজ্য বিস্তারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের ন্যায়বিচার সংশ্লিষ্ট বর্ণনাটি খুলাফায়ে রাশেদিনের উক্ত খলিফার গৃহীত ব্যবস্থার আলোকে মূল্যায়ন করো।
উদ্দীপকের মহামতি সুলায়মানের মতো হযরত ওমর (রা)ও ন্যায় বিচারক ছিলেন।
ন্যায়বিচার এমন একটি গুণ, যা ব্যক্তি তথা জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশ বা সাম্রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বহুলাংশে শাসকের ন্যায়বিচারের ওপর নির্ভর করে। এই অসাধারণ চারিত্রিক গুণটির অধিকারী ছিলেন হযরত ওমর (রা)। তাঁর অসংখ্য গুণের মধ্যে এ গুণটি তাঁকে ইতিহাসে উজ্জ্বল আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকের মহামতি সুলায়মানের মধ্যেও এ গুণটির প্রতিফলন সুস্পষ্টভাবে লক্ষণীয়।
খলিফা ওমর (রা) ছিলেন ন্যায় বিচারের মূর্তপ্রতীক। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তিনি বিচারকার্যে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেন। তার দৃষ্টিতে মুসলিম, অমুসলিম, উঁচু-নিচু, আপন-পর সবাই ছিল আইনের চোখে সমান। নিজ পুত্র ব্যভিচারের অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী তাকে তিনি দোররা মেরে হত্যা করেন। তিনি নিজে ভুল করলে আল্লাহ ও মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতেন। তার নির্দেশে দিগ্বিজয়ী সেনানায়ক খালিদ বিন ওয়াদিলকে সেনাপতির পদ হতে সামান্য সৈনিকের পদে নামিয়ে আনা হয়। উদ্দীপকের মহামতি সুলায়মানও শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্নীতির দায়ে নিজ জামাতাকেও তিনি শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি।
সুতরাং বলা যায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খলিফা ওমর (রা) এবং মহামতি সুলায়মান যথোপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।

