- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
পৌর মেয়র রহমান এলাকার মানুষের বন্ধু হিসেবে কাজ করেন। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে তাদের পাশে থাকেন। দুস্থ ও অসহায়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং খাবার পৌঁছে দেন। একজন জনদরদি মেয়র হিসেবে এলাকায় তিনি সুপরিচিত। তবে দাপ্তরিক কাজে তিনি কঠোর নিয়ম মেনে চলতেন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলে তিনি পরিষদের সদস্যদের সাথে পরামর্শ বৈঠক করে কিংবা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন।
জুলফিকার কী? কাকে, কেন প্রদান করা হয়ে ছিল?
জুলফিকার একটি তরবারির নাম। এটি রাসুল (স) হযরত আলী (রা) কে খায়বার যুদ্ধে দুর্ভেদ্য কামুস দুর্গ জয়ের জন্য প্রদান করেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
উদ্দীপকে দুস্থ ও অসহায়দের প্রতি রহমান সাহেবের কর্মকাণ্ড খুলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফার আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে দুস্থ ও অসহায়দের প্রতি রহমান সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা)-এর আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।
একজন আদর্শ শাসকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জনগণের কল্যাণে সর্বাধিক ভূমিকা পালন করা। জনগণই যেহেতু শাসক নির্বাচন করে, তাই জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে শাসককে হতে হবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ ধরনের প্রবণতা খলিফা হযরত ওমরের কর্মকান্ডে যেমন লক্ষ করা যায়, তেমনি. উদ্দীপকের পৌর মেয়রের কর্মকাণ্ডেও লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, এলাকার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে রহমান সাহেব মানুষের বন্ধু হিসেবে কাজ করছেন। তিনি অসহায় ও দুস্থ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। হযরত ওমর (রা)ও খলিফা নির্বাচিত হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে স্বচক্ষে তাদের অবস্থা দেখার জন্য তিনি ছদ্মবেশে পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতেন। অনেক সময় স্বয়ং নিজে আটার বস্তা মাথায় বহন করে প্রজাদের গৃহে দিয়ে আসতেন। অমুসলিম প্রজাদের প্রতিও তিনি উদার ছিলেন। হযরত ওমর (রা)-এর এসব কর্মকাণ্ডেরই প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের রহমান সাহেবের কর্মকান্ডে।
উক্ত খলিফার পরামর্শ সভার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন পরামর্শ সভার মিল আছে? বিশ্লেষণ করো।
হ্যাঁ, আমি মনে করি রহমান সাহেবের পরামর্শ বৈঠকটি গণতান্ত্রিক ভাবধারায় উজ্জীবিত হযরত ওমর (রা)-এর গঠিত মজলিসে শূরার কার্যকলাপের অনুরূপ।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হলেও খুলফায়ে রাশেদিনের আমলে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা) এ শাসনব্যবস্থাকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করেছেন। তিনি গণতন্ত্রকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত ও রূপায়িত করে নিজ খিলাফত পরিচালনা করেছেন এবং পরবর্তী শাসকদের জন্য নির্দেশনা রেখে গেছেন, যার প্রতিফলন রহমান সাহেবের পরামর্শ সভা গঠনের মধ্যেও লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহমান সাহেব দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি পরামর্শ সভার আয়োজন করে সবার মতামত নেন। হযরত ওমর (রা) তার শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক ভাবধারার প্রচলন করেন। তার শাসনামলে ইসলামের প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিকশিত হয়। তিনি শাসনকার্য পরিচালনার জন্য মজলিসে-শূরা বা পরামর্শসভা গঠন করেন। যেকোনো সমস্যা তিনি কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক মজলিসে শূরার পরামর্শক্রমে সমাধান করতেন। তার চিন্তাধারা ছিল পরামর্শ ছাড়া খিলাফত চলতে পারে না।
উপর্যুক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জামান সাহেবের পরামর্শ বৈঠকটি হযরত ওমর (রা)-এর গঠিত পরামর্শ সভারই অনুরূপ।

