- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
নেওয়াজ শরীফ উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় তার এলাকার জনগণকে সমবেত করে বললেন, 'ভাই সকল! আপনারা আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। এ কারণে আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর আমি যদি ভালো কাজ করি তাহলে আমাকে মাণ্য করবেন।'
নেওয়াজ শরীফের ভাষণের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন খলিফার ভাষণের মিল রয়েছে?
উদ্দীপকে নেওয়াজ শরীফের ভাষণের সঙ্গে আমার পাঠ্যপুস্তকের হযরত আবু বকর (রা)-এর ভাষণের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
মহানবি (স)-এর ওফাতের পর মুসলিম জাহানের খলিফা কে হবেন এ নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বয়োজ্যেষ্ঠতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সূক্ষ্ম বিচার-বুদ্ধি, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, সামাজিক কার্যকলাপ ও ব্যক্তিগত প্রভাবের জন্য গণতান্ত্রিক রীতিতে হযরত আবু বকর (রা) খলিফা নির্বাচিত হন। খলিফা নির্বাচিত হয়েই তিনি সমবেত মুসলিম জনতার উদ্দেশে একটি ভাষণ দেন। উক্ত ভাষণে তিনি বলেন, 'আমি আপনাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নই, আপনাদের সকলের পরামর্শ ও সহায়তাই আমার বিশেষভাবে কাম্য। আমি ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে কাজ করলে আপনারা আমাকে সমর্থন করবেন, অন্যায়ের পথে চললে সদুপদেশ দান করবেন।' উদ্দীপকে নেওয়াজ শরীফও অনুরূপ ভাষণ প্রদান করেছিলেন।
নেওয়াজ শরীফ জনপ্রতিনিধি হয়ে আবু বকরের ন্যায় আদর্শ ধারণ করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি ভালো কাজের আদেশ এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিতে জনগণকে আহ্বান জানান। একইভাবে আবু বকর (রা) জনগণকে উদ্দেশ করে ভাষণ দিয়েছিলেন। সুতরাং নেওয়াজ শরীফের ভাষণের সাথে আবু বকর (রা)-এর মিল পাওয়া যায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ইসলামের প্রথম খলিফা কে?
ইসলামের প্রথম খলিফা হলেন হযরত আবু বকর (রা)।
ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে তার কার্যাবলি বিশ্লেষণ করো।
ইসলামের সেবায় কল্যাণধর্মী ভূমিকা রাখায় হযরত আবু বকর (রা) কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়।
মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর তাঁর প্রতিনিধি হয়ে হযরত আবু বকর (রা) মুসলিম সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মহানবি (স) এর যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি। মহান আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী ইসলামের একনিষ্ঠ সেবা করে তিনি ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পান।
মহানবি (স) এর ওফাতের পর মুসলমানদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা দূর করে মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেন। রাসুল (স)-এর পবিত্র দেহ সমাহিতকরণ ও খলিফা নির্বাচনকেন্দ্রিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করে তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলামকে রক্ষা করেন। ইসলামের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খল জনগণকে সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুশাসন পালনে বাধ্য করেন। এভাবে তিনি ইসলামকে অনিশ্চয়তার কবল থেকে রক্ষা করেন। তাছাড়া যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী বেদুইন গোত্রগুলোর (আবস ও জুবিয়ান) বিরুদ্ধে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসলামি বিধান অনুযায়ী, তাদের যাকাত প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি দীনকে (ইসলাম) সকল আদর্শের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করেন। ভন্ডনবিদের সমুচিত শিক্ষা দিয়ে তিনি ইসলামের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। আমির উল মুমেনীন (বিশ্বাসীদের নেতা) হিসেবে হযরত আবু বকর (রা) আরব ভূখণ্ড থেকে প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, ভণ্ডামি এবং অনৈসলামিক কার্যকলাপের মূলোৎপাটন করে ইসলামকে নিরাপদ করেন। এছাড়া তিনি বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা পবিত্র কুরআনের বাণীগুলো সংগ্রহ করে পুস্তক আকারে লিখে রাখার ব্যবস্থা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, খিলাফত লাভের পর ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সেবা করে হযরত আবু বকর (রা) ইসলামি খেলাফতকে যেভাবে রক্ষা করেছেন, তাতে নিঃসন্দেহে তাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়।

