- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বাদশা আলমগীরের সিংহাসন আরোহণ কণ্টকমুক্ত ছিল না। এসময় পুরো দেশে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা মাথা চাড়া দিয় ওঠে। তার সময়ে লোকেরা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জাকাত দিতে অস্বীকার করে এবং পাশাপাশি অনেক ভণ্ডপিরের আবির্ভাব ঘটে। বাদশা কঠোর হস্তে এ সব বিদ্রোহ ও অনাচার দূর করেন এবং রাজ্যকে শরীয়া মোতাবেক দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।
উক্ত খলিফা দৃঢ়চিত্তে সমস্যার সমাধান করতে না পারলে আরবে ইসলামের অবস্থা কেমন হতে পারত? উত্তরের সপক্ষে তোমার মতামত দাও।
উক্ত খলিফা অর্থাৎ হযরত আবু বকর (রা) দৃঢ়চিত্তে সমস্যার সমাধান করতে না পারলে আরবে ইসলামের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হতে পারত।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওফাতের সাথে সাথেই নবদীক্ষিত আরববাসীর অধিকাংশই ইসলাম পরিত্যাগ করে নিজ ধর্মে ফিরে যেতে থাকে। কিছু কিছু গোত্রের গোত্রপতিরা নবুয়ত একটি লাভজনক পেশা মনে করে নিজেদের নবি বলে দাবি করে। এসব স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিরা আবু বকর (রা)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আবার অনেক গোত্র জাকাত প্রদানেও অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্র চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে নিপতিত হয়। হযরত আবু বকর (রা) অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সকল সমস্যার সমাধান করে নবপ্রতিষ্ঠিত ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন। উদ্দীপকেও এমনি একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের বাদশা আলমগীর জাকাত অস্বীকারকারী এবং ভণ্ডপিরদের দমন করে তার রাজ্যকে শরীয়া মোতাবেক দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। অনুরূপভাবে হযরত আবু বকর (রা)ও ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্রকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর। প্রতিষ্ঠিত করেন। মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিদের বিদ্রোহের ফলে ইসলাম যে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল সেই মুহূর্তে খলিফা আবু বকর (রা) যদি সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারতেন তাহলে বিদ্রোহী নেতাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হতো এবং নবপ্রতিষ্ঠিত ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্র বিলুপ্ত হয়ে যেত। হযরত আবু বকর (রা)-এর সংকল্প, গভীর আত্মপ্রত্যয় ও অনমনীয় মনোভাবের কারণে ভণ্ডনবিদের সকল দুরভিসন্ধি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ফলে ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্র রক্ষা পায়।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের ন্যায় হযরত আবু বকর (রা)-এর ভণ্ডনবি ও স্বধর্মত্যাগীদের দমনের ঘটনা ইসলাম ও ইসলামি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
বদরের যুদ্ধে কতজন মুসলমান শহিদ হন?
বদরের যুদ্ধে ১৪ জন মুসলমান শহিদ হন।
তোমার পঠিত ইসলামের ইতিহাসের কোন খলিফার কর্মকাণ্ডের সাথে উদ্দীপকের বাদশার সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
আমার পঠিত ইসলামের ইতিহাসের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর কর্মকান্ডের সাথে উদ্দীপকের বাদশার সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়।
মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন আরব গোত্র স্বধর্ম ত্যাগ করে পূর্ব ধর্মে ফিরে যাচ্ছিল। এই সুযোগে কতিপয় ভন্ডনবির আবির্ভাব ঘটে। স্বধর্মত্যাগী ও ভন্ডনবিদের প্রবল আন্দোলনে আরব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়লে হযরত আবু বকর (রা) তার নির্ভীকতা, বিচক্ষণতা ও সত্যনিষ্ঠার দ্বারা স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ডনবিদের আন্দোলন দমন করে রাষ্ট্রকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। উদ্দীপকেও এমনি একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায় বাদশা আলমগীরের শাসনামলে দেশে নানা প্রকার বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। একদল লোক জাকাত দিতে অস্বীকার করে এবং পাশাপাশি অনেক ভণ্ডপিরের আবির্ভাব ঘটে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ সমস্ত সমস্যার সমাধান করেন। অনুরূপভাবে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর শাসনামলে আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নামের বেশ কয়েকজন ভন্ডনবির আবির্ভাব ঘটে। হযরত আবু বকর (রা) প্রথমে ফিরোজ দাইলামীর মাধ্যমে আসওয়াদ আনাসিকে হত্যা করেন। পরবর্তীতে খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করে তোলায়হা, সালাহ ও মুসায়লামাকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া আবু বকর (রা) দক্ষিণ সিরিয়ার জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশকারীদেরকেও কঠোর হস্তে দমন করেন। এভাবে আবু বকর (রা) সকল সমস্যার সমাধান করে ইসলামি রাজ্যকে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন, যা উদ্দীপকের বাদশার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

