- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
তসলিমগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আলতাফ সাহেব তার উদ্বোধনী ভাষণে বলেন যে, তিনি সুবিচার করবেন। অন্যায়-অবিচারের প্রতিকার করবেন। তিনি আরও বলেন, 'আমার কোনো ভুল হলে আপনারা তা ধরিয়ে দেবেন। এ আবেদনময় ভাষণের পর তিনি অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। একসময় একদল লোক পৌরসভার ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করে সর্বত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে পৌরসভায় শান্তি ফিরিয়ে আনেন।
হিজরতের সময় মহানবি (স)-এর সঙ্গী কে ছিলেন?
হিজরতের সময় মহানবি (স) সঙ্গী ছিলেন আবু বকর (রা)।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের উদ্বোধনী ভাষণে খুলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফার ভাষণের আদর্শ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে আলতাফ সাহেবের ভাষণের সঙ্গে আমার পাঠ্যপুস্তকের হযরত আবু বকর (রা)-এর ভাষণের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মহানবি (স)-এর ওফাতের পর মুসলিম জাহানের খলিফা কে হবেন এ নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বয়োজ্যেষ্ঠতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সূক্ষ্ম বিচার-বুদ্ধি, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, সামাজিক কার্যকলাপ ও ব্যক্তিগত প্রভাবের জন্য গণতান্ত্রিক রীতিতে হযরত আবু বকর (রা) খলিফা নির্বাচিত হন। খলিফা নির্বাচিত হয়েই তিনি সমবেত মুসলিম জনতার উদ্দেশে একটি ভাষণ দেন। উক্ত ভাষণে তিনি বলেন, 'আমি আপনাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নই, আপনাদের সকলের পরামর্শ ও সহায়তাই আমার বিশেষভাবে কাম্য। আমি ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে কাজ করলে আপনারা আমাকে সমর্থন করবেন, অন্যায়ের পথে চললে সদুপদেশ দান করবেন।' উদ্দীপকে আলতাফ সাহেবও অনুরূপ ভাষণ প্রদান করেছিলেন।
আলতাফ সাহেব জনপ্রতিনিধি হয়ে আবু বকরের (রা) আদর্শ ধারণ করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি ভালো কাজের আদেশ এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিতে জনগণকে আহ্বান জানান। একইভাবে আবু বকর (রা) জনগণকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ দিয়েছিলেন। সুতরাং আলতাফ সাহেবের ভাষণের সাথে আবু বকর (রা)-এর মিল পাওয়া যায়।
'উদ্দীপকের ট্যাক্স বিরোধী আন্দোলনকারীদের দমনের চেয়ে উক্ত খলিফার শাসনামলে সংঘটিত যাকাত বিরোধী আন্দোলন দমন করা ছিল আরও কষ্টসাধ্য।' মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উদ্দীপকের ট্যাক্স বিরোধী আন্দোলনকারীদের দমনের চেয়ে উত্ত খলিফার অর্থাৎ হযরত আবু বকর (রা)-এর শাসনামলে সংঘটিত যাকাত বিরোধী আন্দোলন দমন করা অধিক কষ্টসাধ্য ছিল।
রাসুল (স)-এর ইন্তেকালের পর নবগঠিত ইসলামি সাম্রাজ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। কতিপয় ভণ্ডনবির আবির্ভাব ঘটে। এরূপ বিশৃঙ্খল পরিবেশে একদল বেদুইন যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। যাদেরকে দমন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। উদ্দীপকেও যাকাত অস্বীকারকারীদের দমনের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তাসিলমগঞ্জ পৌরসভার একদল লোক ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করে সর্বত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব তাদেরকে দৃঢ়তার সাথে দমন করেন। তবে ট্যাক্স অস্বীকারকারীদের দমনের তুলনায় হযরত আবু বকর (রা)-এর শাসনামলের যাকাত অস্বীকারকারীদের দমন করা অধিক কঠিন ছিল। কেননা তার শাসনামলে আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নামে বেশ কয়েকজন ভন্ডনবির আবির্ভাব ঘটে। এ সমস্ত ভণ্ডনবি ও স্বধর্মত্যাগীদের প্রবল আন্দোলনে আরব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়লে হযরত আবু বকর (রা) তার নির্ভীকতা, বিচক্ষণতা ও সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে তাদেরকে দমন করেন। আবু বকর (রা) প্রথমে ফিরোজ দাইলামীর মাধ্যমে আসওয়াদ আনাসিকে হত্যা করেন। পরবর্তীকালে সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করে তোলায়হা, সাজাহ ও মুসায়লামাকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া আবু বকর (রা) দক্ষিণ সিরিয়ার যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশকারীদেরকেও কঠোর হস্তে দমন করেন। আর এভাবেই বিভিন্ন ঘটনা ও বিচক্ষণ পরিকল্পনার মাধ্যমে রিদ্দা যুদ্ধ পরিচালিত হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, যাকাত অস্বীকারকারীদের দমন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল।

