- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব কবিরের সাথে রহিমার বিয়ের পর দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ায় রহিমার শাশুড়ি তাকে তাবিজের জন্য স্থানীয় ফকির-দরবেশের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি যাননি। তিনি বিশ্বাস করেন, সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়। কয়েক বছর পর রহিমার একটি পুত্রসন্তান জন্মলাভ করলে তার স্বামী খুশি হয়ে ব্যাপক খাওয়া দাওয়া ও নাচ-গানের আয়োজন করেন। রহিমা এতে অসন্তুষ্ট হন।
রহিমার আচরণে কোন গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
রহিমার আচরণে তাকওয়ার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
'তাকওয়া' শব্দের অর্থ আত্মরক্ষা করা, বিরত থাকা। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহর ভয়ে সব রকমের পাপাচার ও অন্যায় থেকে বিরত থাকাকে তাকওয়া বলে। আর যিনি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাকে বলা হয় মুত্তাকি। রহিমার আচরণে যার প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকের জনাব কবিরের স্ত্রী রহিমা একজন মুত্তাকি। বিয়ের পর দীর্ঘদিন
সন্তান না হওয়ায় তার শাশুড়ি তাকে তাবিজের জন্য স্থানীয় ফকির-দরবেশের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি যাননি।
কেননা তিনি বিশ্বাস করেন, সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়। কয়েক বছর পর তার একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। এতে খুশি হয়ে তার স্বামী ব্যাপক খাওয়া দাওয়া ও নাচ-গানের আয়োজন করেন। তিনি এতে অসন্তুষ্ট হন। কেননা এ ধরনের নাচ-গান ইসলামি শরিয়তসম্মত নয়। এটি আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়। একজন মুত্তাকি বিপদে ধৈর্যহারা এবং আনন্দে আত্মহারা হয় না বরং সে সর্বাবস্থায় আল্লাহর নাম স্মরণ করে। মূলত রহিমার এ ধরনের অচরণের মাধ্যমে তার আল্লাহভীরুতার পরিচয় ফুটে ওঠে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
সবর কী?
দুঃখ-কষ্টে ও বিপদ-আপদে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা রেখে দৃঢ়তার সাথে তা সহ্য করাকে সবর বলা হয়।
'হালাল উপার্জনও একটি ইবাদত'- ব্যাখ্যা করো।
হালাল উপার্জন ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
হালাল উপার্জন বলতে বৈধ, আইনানুগ বা অনুমোদিত পন্থায় উপার্জন করাকে বোঝায়। শরিয়তের পরিভাষায়, ইসলাম অনুমোদিত ও কুরআন-হাদিস নির্দেশিত উপায়ে উপার্জন করাকে হালাল উপার্জন বলে। এটি ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত কবুল হবে। অন্যথায় ইবাদত কবুল হবে না। সালাত, সাওম, জাকাত ও হজ প্রভৃতির মতো হালাল উপার্জনও একটি ফরজ ইবাদত। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স) বলেন, "হালাল জীবিকা উপার্জন করা ফরজের পরে একটি ফরজ" (সহিহ বুখারি)।
ব্যক্তিজীবনে রহিমার স্বামীর কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
রহিমার স্বামীর শরিয়ত পরিপন্থি কর্মকাণ্ড তার মধ্যে তাকওয়ার অনুপস্থিতিকে নির্দেশ করে। আর তাকওয়ার অনুপস্থিতি ব্যক্তিজীবনে অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আমাদের ব্যক্তিজীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মুসলিমের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য তাকওয়া অপরিহার্য। তাকওয়া ছাড়া ইমানের পূর্ণতা আসে না। তাকওয়াই একজন মুমিন বান্দাকে পূর্ণাঙ্কা মুসলিম হতে সহায়তা করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা যথাযথভাবে আল্লাহকে ভয় করো এবং পূর্ণাঙ্গ মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না" (সূরা আলে ইমরান: ১০২)। ব্যক্তিজীবনে তাকওয়ার অভাবে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দেয়। মানুষের মধ্যে অন্যায়, অপরাধ ও পাপাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকের কবির ও রহিমা দম্পতির দীর্ঘদিন পর একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেওয়ায় কবির খুশি হয়ে ব্যাপক খাওয়া দাওয়া ও নাচ-গানের আয়োজন করে; যা শরিয়তসম্মত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে নাচ-গান হারাম কাজ। কবিরের উচিত ছিল আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে ইসলামি পন্থায় যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা। কিন্তু তিনি তা না করে নাচ-গানের আয়োজন করেন। যার মাধ্যমে আল্লাহভীতির (তাকওয়া) অভাব প্রকাশিত হয়েছে। তার এ কাজে আল্লাহর অসন্তুষ্টি অর্জিত হয়েছে।
সুতরাং কবিরের এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিহার করে তাকওয়ার পথ অবলম্বনের মাধ্যমে ব্যক্তিজীবনকে আলোকিত করা উচিত।

