- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বাদশা আলমগীর ছিলেন একজন সরলমনা ও প্রজাবৎসল শাসক। তিনি সব সময় অহেতুক রক্তপাত এড়িয়ে যেতেন। তার এই সরলতার সুযোগ নিয়ে একদল বিপদগামী জনতা তার বিরুদ্ধে কতিপয় অভিযোগ এনে বিদ্রোহ শুরু করেন। তিনি এ বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন না করায় আস্তে আস্তে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অবশেষে বিদ্রোহীদের হাতেই তিনি নির্মমভাবে শহিদ হন।
মুয়াবিয়া কোন রাজ্যের গভর্নর ছিলেন?
মুয়াবিয়া সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আবুজর গিফারিকে নির্বাসন দেওয়া হয় কেন?
খলিফার আদেশ অমান্য করায় আবুজর গিফারিকে নির্বাসন। দেওয়া হয়।
সিরিয়াতে সমাজতান্ত্রিক মতবাদ প্রচার করে আবুজর গিফারি জনগণকে খলিফার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তোলেন। খলিফা ওসমান (রা) আবুজরকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে জাকাত প্রদানের পর ধন সঞ্চয় করা বৈধ কিন্তু তিনি খলিফার উপদেশ উপেক্ষা করে মদিনাতে তার মতবাদ প্রচার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে খলিফা আবুজর গিফারিকে রাবাযাতে নির্বাসন দেন।
উদ্দীপকের বাদশাহের সাথে ইসলামের কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে বাদশাহের সাথে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান ( রা)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
ইসলামের কল্যাণে হযরত ওসমান (রা)-এর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি খিলাফতের দায়িত্ব পাবার পর প্রশাসনে শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য রাষ্ট্রীয় নীতি ঘোষণা করেন। হযরত ওসমান (রা) ছিলেন সৎ ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী। সরলতা, কোমলতা, ধৈর্য, বিনয়, ধর্মভীতি, দানশীলতা, সহনশীলতা ছিল তার চরিত্রের ভূষণ। উদ্দীপকের শাসকের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়।
উদ্দীপকের বাদশা আলমগীরের সরলতার সুযোগ নিয়ে কতিপয় বিপদগামী জনতা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। একইভাবে হযরত ওসমান (রা) এর সফলতা ও উদারনীতি তার মৃত্যু ডেকে এনেছিল। কুচক্রী মারোয়ানের ষড়যন্ত্রে তিনি বিদ্রোহীদের রোষানলে পড়েন। নানা অভিযোগ এনে তারা তাকে হত্যা করে। অর্থাৎ সঠিকভাবে বিদ্রোহ দমন না করতে পেরে এক সময় বিদ্রোহীদের হাতে ওসমান (রা) কে জীবন দিতে হয়, যা উদ্দীপকে বাদশা আলমগীরের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। সুতরাং বাদশাহ আলমগীরের সাথে হযরত ওসমান (রা)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত খলিফার ওপর আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তোমার মতামত যুক্তির আলোকে তুলে ধর।
উক্ত খলিফা অর্থাৎ খলিফা ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ছিল বলে আমি মনে করি।
খলিফা ওসমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করলে নিঃসন্দেহে সেগুলো ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক, কল্পনাপ্রসূত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়।
হযরত ওসমানের বিরুদ্ধে বেদুইন ও অনারব মুসলমানগণ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনেন। কিন্তু তিনি আত্মীয়স্বজনের প্রতি কিছুটা দুর্বল থাকলেও কোনো অনুপযুক্ত আত্মীয়কে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগদান করেননি। পরিস্থিতির কারণে তিনি গভর্নর পরিবর্তন করলেও গভর্নর তার আত্মীয় ছিল না। হযরত ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর অভিযোগ ছিল কুরআন শরিফ দন্দ্বীকরণ। তার রাজত্বকালে ইসলামি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের জনসাধারণ নিজেদের সুবিধার্থে কুরআনের ভাষা ও উচ্চারণ পরিবর্তন করে পাঠ করতে থাকে। তাই তিনি কুরআন শরিফের উচ্চারণগত সমস্যা দূর করার জন্যই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং ত্রুটিপূর্ণ ও অঙ্গতিপূর্ণ কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিল। বায়তুল মালের অর্থ আত্মসাৎ তো দূরের কথা বরং তিনি নিজের সম্পদ ইসলামের জন্য অকাতরে দান করেছেন। সরকারি চারণভূমি রাষ্ট্রীয় পশুপালনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন এবং এক্ষেত্রে তিনি তার পূর্বের দুইজন খলিফাকে অনুসরণ করেছিলেন। রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য আবুজর গিফারিকে নির্বাসন দিয়েছিলেন।
পরিশেষে বলা যায় ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন।

