- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রোজিনা ইসলামের ইতিহাসের একজন প্রসিদ্ধ শাসকের গৌরবময় কাহিনি পড়ছিলেন। বিখ্যাত এ শাসক শুধু একজন রাজ্যজয়ী বীরই ছিলেন তাই নয়, ইসলামের ইতিহাসে তার মতো সুদক্ষ শাসক আর কেউ ছিলেন না। শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্য তিনি একটি পরামর্শ পরিষদ গঠন করেন। বিভিন্ন প্রকার ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা চালু করার পাশাপাশি তিনি সামরিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো এবং বিভিন্ন প্রকার ভাতার ব্যবস্থা করেন। অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত নিজের ছেলেকেও তিনি ক্ষমা করেন নাই।
উদ্দীপকে প্রকাশিত শাসন বৈশিষ্ট্য ছাড়াও উক্ত শাসকের শাসন ব্যবস্থা ছিল নানা দিক দিয়ে সমৃদ্ধ ও প্রশংসনীয়' তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উদ্দীপকে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা)-এর শাসনব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তাঁর শাসনামল আরও নানাদিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।
ইসলামের ইতিহাসে একজন সুদক্ষ এবং জনকল্যাণকামী শাসক হিসেবে হযরত ওমর (রা) বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। কুরআন-হাদিসের নির্দেশ মতো স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক শাসন প্রবর্তন করে তিনি বিশ্বের ন্যায়পরায়ণ শাসকদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি। হযরত ওমর (রা) জনসমর্থন ও জনকল্যাণকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আর এ নীতির ভিত্তিতেই তিনি তাঁর শাসনব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছেন। তিনি আরব জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই আরববাসীর জাতীয় বৈশিষ্ট্য, বিশুদ্ধতা, আভিজাত্য বজায় রাখার জন্য আরব অঞ্চল শুধু আরবীয়দের জন্যই সংরক্ষিত রাখেন। এছাড়া সুষ্ঠু শাসন প্রবর্তনের জন্য শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন। সমগ্র সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং প্রদেশকে জেলায়, জেলাকে মহকুমায় বিভক্ত করেন। প্রদেশে 'ওয়ালি' ও জেলায় আমিল নিযুক্ত করে তিনি জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলেন। তাছাড়া তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে গড়ে তোলেন। সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি পুলিশ ও অপরাধ বিভাগ নামে একটি বিভাগ গড়ে তোলেন। তাছাড়া জনকল্যাণকে মাথায় রেখে তিনি নানা জনহিতকর কর্মসূচি চালু করেন।
উপর্যুক্ত আলোচনায় দেখা যায়, খলিফা হিসেবে হযরত ওমর (রা) দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন, যা তার শাসনব্যবস্থাকে চিরকাল মুসলিম শাসকদের কাছে অনুসরণীয় করে রাখবে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
হযরত ওমর (রা) তার বিশাল সাম্রাজ্যকে কতটি প্রদেশে ভাগ করেন?
হযরত ওসমান (রা) সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করেন।
রোজিনা পঠিত শাসকের মধ্যে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন শাসকের শাসনব্যবস্থায় মিল রয়েছে? বুঝিয়ে লিখ।
উদ্দীপকে পঠিত শাসকের সাথে হযরত ওমর (রা)-এর শাসন ব্যবস্থায় মিল পরিলক্ষিত হয়।
একটি শাসন ব্যবস্থা তখনই জনপ্রিয় ও অনুসরণযোগ্য হয়ে থাকে, যখন তা স্বচ্ছ, ন্যায়পরায়ণ, জনকল্যাণকামী এবং জবাবদিহিমূলক হয়ে থাকে। উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের শাসন ব্যবস্থায় এবং হযরত ওমর (রা)-এর প্রচলিত গণতান্ত্রিক এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থায় এ দিকগুলো স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়ে ওঠে।
শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা সৃষ্টির জন্য গণতান্ত্রিক ধারা অবলম্বন একান্ত অপরিহার্য। আর এ লক্ষ্যেই উদ্দীপকের শাসক পরামর্শ পরিষদ গঠন করেন। যেমনই হযরত ওমর (রা)-এর 'মজলিস-উস-শুরা' নামক মন্ত্রণাপরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। জনসাধারণের ইচ্ছানুযায়ী শাসনকার্যাদি পরিচালনার জন্য তিনি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এ পরিষদ গঠন করেন। সামরিক শাসনের সুবিধার জন্য এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সৈন্যবাহিনী মোতায়েন রাখার জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে নয়টি সামরিক জেলায় বিভক্ত করেন। সৈন্য বাহিনী পদতকি, অশ্বারোহী, তীরন্দাজ, বাহক ও সেবক প্রভৃতি ভাগে বিভক্ত ছিল। হযরত ওমর (রা)-এর রাজস্ব সংস্কার শাসনব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। তিনি সমগ্র দেশে ন্যায়সঙ্গত রাজস্ব প্রবর্তন করেন এবং সমস্ত নির্যাতনমূলক কর ব্যবস্থার বিলোপ করেন। জাকাত, জিজিয়া, গণিমত, খারাজ, আরফ-ফে, উন্মুর প্রভৃতি কর ধার্যের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলেন। আবার রাষ্ট্রীয় কোষাগার হিসেবে বায়তুল মাল পুনর্গঠন করে তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তাছাড়া নিজ পুত্র আবু শাহমার অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। হযরত ওমর (রা)-এর শাসন ব্যবস্থার উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলোই উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়।

