- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
শাকিল ছিলেন একজন সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। তিনি প্রায় ১০ বছর শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এর মধ্যে তিনি সর্বাধিক পরিমাণ রাজ্য সীমা বৃদ্ধি করেন। বিশাল রাজ্যের শাসন পরিচালনার জন্য তিনি একটি বিভাগ তৈরি করেন। একটি দৈনন্দিন এবং অন্যটি সাপ্তাহিক কার্য পরিচালনা করত।
উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কেন?
মরুজীবনের প্রধান সহায়ক বাহন হওয়ায় উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।
আরবের অধিকাংশ অঞ্চলই মরুময়। আর উত্তপ্ত মরু অঞ্চলে উটই চলাচলের একমাত্র উপযোগী প্রাণী। তাই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় মরুময় আরবে এটি সর্বাধিক গৃহপালিত প্রাণী। মরুবাসীরা খাদ্য ও পানীয় সংগ্রহ, যোগাযোগ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের প্রধান বাহন হিসেবে উটকে ব্যবহার করে। তাই একে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
উহুদ যুদ্ধে কারা জয়লাভ করে?
উহুদ যুদ্ধে কুরাইশরা জয়লাভ করে।
শাকিলের সাথে পাঠ্যবইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ শাসকের রাজ্য বিস্তারের কারণ লিখ।
উদ্দীপকের বর্ণিত শাকিলের ন্যায় পাঠ্যবইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ শাসক হযরত ওমর (রা) এর রাজ্যবিস্তারের অন্যতম কারণ- অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণা।
৬৩৪ খ্রিস্টাব্দের হযরত আবু বকরের (রা) মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে তীক্ষ্ম মেধাসম্পন্ন ও সাহসী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হযরত ওমর (রা) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি রাজ্যজয়ে মনোনিবেশ করেন। তিনি পারস্য, সিরিয়া, মিসর, প্যালেস্টাইন প্রভৃতি বিজয় করে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা সর্বাধিক পরিমাণে বৃদ্ধি করেন। উদ্দীপকে অনুরূপ বিষয় লক্ষণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, শাকিল ছিলেন সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। তিনি তার ১০ বছরের শাসনকালে সর্বাধিক পরিমাণ রাজ্য সীমা বৃদ্ধি করেন। যা হযরত ওমরের রাজ্য বিস্তারের সাথেই সাদৃশ্য বিদ্যমান। তার সময়ে। ইসলামি রাজ্যের সম্প্রসারণ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। হযরত আবু বকর (রা) মহানবি (স) কর্তৃক নবপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ও ধর্মকে সুসংহত ও সুসংঘবদ্ধ করে শত্রুমুক্ত করেন। খলিফা ওমরের সময় ধর্ম ও রাষ্ট্র হিসাবে ইসলাম নতুন প্রেরণা লাভ করে। ধর্মীয় প্রেরণায় মুসলমানগণ বিধর্মী রাজ্য জয়ের আগ্রহ প্রকাশ করে। ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ছাড়াও রাজ্য জয়ের পেছনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অনুর্বর আরব ভূমিতে অধিক সংখ্যক মুসলমানদের খাদ্যের সংকুলান সম্ভব ছিল না। যার প্রেক্ষিতে হযরত ওমর (রা) রাজ্য জয়ে মনোনিবেশ করেন। সুতরাং বলা যায় যে, ধর্মীয় প্রেরণা এবং অর্থনৈতিক চাপে হযরত ওমর (রা) রাজ্য সম্প্রসারণের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।
'উক্ত শাসকের গঠিত বায়তুল মাল ছিল জনকল্যাণকামী'-বিশ্লেষণ করো।
'উক্ত শাসকের অর্থাৎ খলিফা হযরত ওমর (রা) কর্তৃক গঠিত বায়তুল মাল ছিল জনকল্যাণকামী'- উক্তিটি যথার্থ।
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা)-এর বায়তুল মালের পুনর্গঠন একটি শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব। তিনি আব্দুল্লাহ বিন আকরামকে প্রধান কোষাধ্যক্ষরূপে নিযুক্ত করে মদিনায় বায়তুল মালের সংস্কার ও পূর্নঠন করেন। সেখানে প্রদেশ হতে প্রেরিত অর্থ জমা থাকত। যা থেকে জনকল্যাণে ব্যয় করা হতো। উদ্দীপকেও হযরত ওমরের জনকল্যাণকামী প্রতিষ্ঠান বায়তুল মালের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে হযরত ওমর (রা)-এর শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। যিনি জনকল্যাণের স্বার্থে বায়তুল মাল বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার পুনর্গঠন করেন। তিনি সকল প্রদেশে বায়তুল মালের শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। হযরত ওমর তিন ধরনের বায়তুল মালের সৃষ্টি করেন। প্রথমত বায়তুল মাল আল খাস। যেখানে শাসক ও অভিজাতদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি গচ্ছিত থাকত এবং এখান থেকে রাজকীয় সৈন্য বাহিনীর ব্যয় নির্বাহসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হত। দ্বিতীয়ত বায়তুল মাল আল আস। যাকাত ব্যতীত অন্য সকল উৎসের আয় এখানে জমা থাকত। তৃতীয়ত বায়তুল মাল আল মুসলেমিন। বায়তুল মালের এ শাখা বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ যেমন- রাস্তাঘাট, সেতু, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ, এতিম ও দরিদ্রদের সাহায্যদান ইত্যাদি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, হযরত ওমর (রা)-এর বায়তুল মাল ছিল সম্পূর্ণরূপে জনকল্যাণকামী।

