- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- খুলাফায়ে রাশেদিন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
হায়দারাবাদের একটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রামের বিজ্ঞ মুসলমানেরা এ পদের প্রার্থী। ধর্মীয় জ্ঞান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রজ্ঞার বিবেচনায় কে নির্বাচিত হবেন তা নিয়ে সমগ্র গ্রাম মুখরিত। কারণ সব প্রার্থীই যোগ্য।
উদ্দীপকের নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে মুসলিম খলিফা নির্বাচনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
চারিত্রিক ইতিবাচক গুণের ওপর নির্ভর করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দিক দিয়ে উদ্দীপকের নির্বাচন প্রক্রিয়া মুসলিম খলিফা নির্বাচনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মহানবি (স) ইন্তেকালের পূর্বে কাউকেই তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যাননি। তিনি জনগণের ওপর তাঁর উত্তরাধিকারী নির্বাচনের ভার ছেড়ে দেন। তাঁর প্রথম চারজন উত্তরাধিকারী খুলাফায়ে রাশিদিন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ নির্বাচনে ইসলামের জন্য ত্যাগ, রাসুল (স)-এর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য, ধর্মীয় জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং ধর্মভীরুতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো। এ নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটত। এতে কোনো গোত্রবিশেষের স্বার্থ জড়িত ছিল না।
উদ্দীপকের নির্বাচন প্রক্রিয়াটিতেও গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির প্রতিফলন লক্ষণীয়। এখানে দেখা যায় হায়দারাবাদ অঞ্চলের একটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে ধর্মীয় নেতা নির্বাচনে বিজ্ঞ মুসলমানরা প্রাথী হয়েছেন। ধর্মীয় জ্ঞান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রজ্ঞার বিবেচনায় কে নির্বাচিত হবেন তা নিয়ে সারা গ্রাম মুখরিত। অর্থাৎ এখানে ধর্মীয় জ্ঞান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করে জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই নির্বাচিত করবেন। খুলাফায়ে রাশিদিনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণ যেমন ধর্মীয় জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ধর্মভীরুতা, আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি আনুগত্য প্রভৃতির ওপর নির্ভর করে খলিফা নির্বাচন করেছেন। উদ্দীপকেও তেমনি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাই এ নির্বাচন খুলাফায়ে রাশেদিনের নির্বাচনেরই প্রতিরূপ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'ফারুক' শব্দের অর্থ কী?
ফারুক শব্দের অর্থ সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী।
খিলাফত বলতে কী বোঝায়?
খিলাফত হলো ইসলামি শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বৈধ স্বীকৃতিনামা।
আরবি 'খিলাফত' শব্দটি 'বুলাফা' শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ প্রতিনিধিত্ব বা স্থলাভিষিক্ত। মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর ইসলাম ধর্ম রাষ্ট্রের সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ ও সার্বভৌমিকতায় সৃষ্টিকর্তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যকে সামনে রেখে যে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান জন্মলাভ করে তাকে খিলাফত বলে। ইবনে খালদুনের মতে, 'খিলাফত হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা মুহম্মদ (স)-এর প্রতিনধিত্ব করে'। সুতরাং বলা যায়, ইসলাম ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের পার্থিব শাসন কাঠামোই হলো খিলাফত।
হারানো মুসলিম ঐতিহ্য ফিরে পেতে হলে উদ্দীপকের নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই- বিশ্লেষণ করো।
হারানো মুসলিম ঐতিহ্য ফিরে পেতে হলে উদ্দীপকের চারিত্রিক ইতিবাচক গুণের বিচারে জনগণ কর্তৃক নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটির বিকল্প নেই।
উদ্দীপকের মুসলিম অধ্যুষিত হায়দাবাদ অঞ্চলটিতে ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া লক্ষণীয় তা হলো প্রার্থীগণের গুণ ও যোগ্যতার বিচারে জনগণের মাধ্যমে একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া। কারণ গ্রামের ধর্মীয় জ্ঞান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন বিজ্ঞ মুসলমানগণ এ নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন। এসব গুণ বিবেচনায় কাকে জনগণ নেতা নির্বাচিত করবেন এই নিয়ে সারা গ্রাম মুখরিত ছিল। এ নির্বাচন পদ্ধতিটি ইসলামের খলিফা নির্বাচন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।
মহানবি (স)-এর ওফাতের পর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত পথে খুলাফায়ে রাশেদিনরা সর্বমোট ত্রিশ বছর ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। মুসলিম রাষ্ট্রের সঠিক কল্যাণে তারা সে সময় চরম ত্যাগ, নিষ্ঠা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। বস্তুত এ খলিফাগণ গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর তাঁদের শাসনকার্য পরিচালিত করেন। ফলে সমাজ থেকে সকল প্রকার অন্যায়-অবিচার তিরোহিত হয় এবং সে জ্বলে ন্যায়বিচার ও ইতিবাচক প্রত্যয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁরা সর্বসাধারণের গ্রহণযোগ্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে সকল শ্রেণির মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়াসী হন। ফলে তখন চারিদিকে ইসলামের প্রচার এবং প্রসার দ্রুতগতিতে চলতে থাকে। তাঁরা এতোটাই সুদক্ষ শাসক ছিলেন যে, আজও বিশ্ববাসী তা অনুকরণ এবং অনুসরণের চেষ্টা করছে। মূলত সে সময়ে ইস্লামের যে ঐতিহ্য সৃষ্টি হয়েছিল তা সম্ভব হয়েছিল খলিফাগণের নিষ্কলুষ চরিত্র এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বলে।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের নির্বাচন প্রক্রিয়ার ফলেই ইসলামের খলিফাগণ বিশ্ববাসীর অনুকরণীয় ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই সেই ঐতিহ্য ফিরে পেতে হলে উক্ত নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

