- হোম
- একাডেমি
- মাদরাসা
- নবম-দশম শ্রেণি
- প্রাক-ইসলামি পটভূমি ও রাসুল (স.) এর মক্কা জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জনৈক বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মহানবী (স)-এর নবুয়তপ্রাপ্তি পূর্বযুগ, তাঁর চরিত্র, কর্মকান্ড ও গুণাবলি সম্পর্কে আলোকপাত করেন। একপর্যায়ে তিনি তৎকালীন আরবের বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, গোত্রকলহ ইত্যাদি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পরিশেষে তিনি বলেন, তৎকালীন আরবের এসব অবস্থা নিরসনে সর্বশ্রেষ্ঠ নবীরূপে মহানবী (স) আবির্ভূত হন।
উক্ত যুগের মতো উদ্ধৃত কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে তোমার করণীয় কী? -ব্যাখ্যা কর।
উক্ত যুগ তথা জাহেলিয়া যুগের মতো উদ্ধৃত কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে আমি ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে তা মোকাবিলা করব।
উদ্দীপকে বর্ণিত আলোচনা সভায় জনৈক ইসলামি চিন্তাবিদ মহানবী (স)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বযুগ তথা আইয়ামে জাহেলিয়া যুগ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি জাহেলিয়া যুগের বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, গোত্রকলহ ইত্যাদি অপকর্মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। জাহেলিয়া যুগের মতো পরিস্থিতি বর্তমান বিশ্বে হওয়া আমাদের কারো কাম্য নয়।
ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অন্ধকার যুগ তথা আরবের আইয়ামে জাহেলিয়া যুগ ছিল বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, গোত্রকলহসহ নানা অনাচার-অবিচারে নিমজ্জিত। উক্ত অন্ধকার যুগের মতো কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে আমি যে সকল পদক্ষেপ ও কর্মসূচি অবলম্বন করব তা নিম্নরূপ-
১. আমার প্রথম কাজ হবে দ্বীন ইসলামের মর্মবাণী মানুষের সামনে তুলে ধরে ইসলামের ছায়াতলে জনগণকে আশ্রয় গ্রহণ করার আহ্বান জানানো।
২. প্রতিটি মুসলিম তথা মানবজাতিকে সুশিক্ষিত ও ইসলামি জ্ঞানার্জনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করব।
৩. বিশৃঙ্খল উম্মাহকে একটি শক্তিশালী সংগঠনের আওতায় ঐক্যবদ্ধ করব।
৪. আধুনিক জাহেলিয়াতের সকল চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রতিটি মুসলিমকে যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী হিসেবে গড়ে তুলব।
সমাজ থেকে মদ, সুদ, ঘুষসহ যাবতীয় অনাচার দূর করে সংস্কারের মাধ্যমে সমাজকে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলব।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মহানবী (স)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বযুগ কী নামে পরিচিত ছিল?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বযুগ 'আইয়ামে জাহেলিয়া' তথা অন্ধকার যুগ নামে পরিচিত ছিল।
সে যুগের ব্যাপ্তিকাল কত ছিল?
সে যুগের ব্যাপ্তিকাল প্রায় এক শতাব্দী।
অন্ধকার যুগের ব্যাপ্তিকাল সম্পর্কে একাধিক অভিমত পরিলক্ষিত হয়। যেমন-
১. কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, হযরত আদম (আ) হতে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত সময়।
২. কেউ কেউ বলেন, হযরত ঈসা (আ)-এর পর থেকে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর আবির্ভাবের মধ্যবর্তী সময়।
৩. ঐতিহাসিক নিকলসন (Nicholson) ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ববর্তী এক শতাব্দীকালকে অন্ধকার যুগ বলে উল্লেখ করেছেন। আর ঐতিহাসিক হিট্রিসহ অনেকেই এ মত সমর্থন করেছেন। এ মতটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
"মহানবী (স) সর্বশ্রেষ্ঠ নবীরূপে বিশ্বে আবির্ভূত হন"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
পৃথিবীতে যত নবী-রাসূল আগমন করেন তাঁদের সকলের মধ্যে মহানবী (স) সর্বশ্রেষ্ঠ নবীরূপে আবির্ভূত হন।
উদ্দীপকে বর্ণিত আলোচনা সভায় জনৈক ইসলামি চিন্তাবিদ মহানবী (স)-এর চরিত্র, কর্মকান্ড ও গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। রাসূল (স) ছিলেন মানবজাতির কল্যাণকামী ও পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক। রাসূল (স) ছিলেন সর্বশেষ নবী। তাঁর আগে অনেক নবী-রাসূল পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি সকল নবী-রাসূলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।
অনুরূপভাবে বলা যায়, সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর আবির্ভাবকাল ছিল জাহেলিয়াতের যুগে। তখন আরব উপদ্বীপসহ সমগ্র পৃথিবী অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সে সময়ে মিথ্যা, পাপাচার, হত্যা, লুণ্ঠন, মদ্যপান, জুয়া, যৌন অনাচার, কথায় কথায় ঝগড়া-বিবাদ এমনকি যুদ্ধবিগ্রহ পর্যন্ত ঘটে যেত। কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাদেরকে হত্যা করা হতো বা জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো।
মানবতার এ চরম দুর্দিনে আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মদ (স)-কে পাঠালেন বিশ্বমানবতার মুক্তি ও শান্তির দূত হিসেবে। অংশীদারত্ব, পৌত্তলিকতা ও জড়পূজা থেকে মানবজাতিকে একত্ববাদের ও ন্যায়ের পথপ্রদর্শন করতে এবং বিশ্বের নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষকে মুক্তি দিতে। মুক্তি ও শান্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মধ্যে ছিল সকল মানবিক গুণের বিকাশ। তাই তিনি সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য সর্বকালের শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন মানবজাতির কল্যাণকামী।
অতএব এটা স্পষ্ট যে, মহানবী (স) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তাঁর আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি মানবতার ইতিহাসে সর্বাধিক সফল ঘটনা। দাসত্বপ্রথা মোচন, দারিদ্রদ্র্য মোচন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন সফল নেতা।

