• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • সুভা (গদ্য)
সুভা (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

দুই পুত্রসন্তানের পর কন্যাসন্তান পলাশ জিমর পরিবারে আনন্দের বন্যা নিয়ে এল। নাম রাখা হলো 'কল্যাণী'। সকলের চোখের মণি কল্যাণী বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পলাশ জিম বুঝতে পারলেন, বয়সের তুলনায় কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঘটেনি। কিছু বললে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। কল্যাণীর বিয়ের কথাবার্তা চলছে। পলাশজিম কল্যাণীর অবস্থা বরপক্ষকে খুলে বললেন। সব শুনে বরের বাবা সুবোধ জিম বললেন, 'পলাশ জিম কল্যাণীর মতো আমার ছেলেও তো হতে পারত, কাজেই কল্যাণীমাকে ঘরে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।'

'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার' কথাটি দ্বারা লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার' কথাটি দ্বারা লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, সুভার বোবা হওয়ার কারণে তার পিতা-মাতা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সুভার শারীরিক ত্রুটির জন্য সমাজে তাকে বিবাহযোগ্য কন্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন ছিল। এই দুশ্চিন্তা প্রকাশ না করলেও, তা তাদের মনে সর্বদা একটি ভার হয়ে ছিল। বিশেষত, সমাজের চাপ এবং সুভার প্রতি মায়ের বিরক্তি এই মানসিক বোঝাকে আরও তীব্র করে তুলেছিল। সুভা নিজেও তাদের এই চাপ এবং লজ্জার অনুভূতি উপলব্ধি করত, যা তাকে আরও নিঃসঙ্গ এবং নির্লিপ্ত করে তুলেছিল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সুভার গ্রামের নাম কী?

'সুভা' গল্পে সুভার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।

#

উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার যে বিশেষ দিকটির সঙ্গতি দেখানো হয়েছে, তা ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের প্রথম অংশে কল্যাণীকে পরিবারের 'চোখের মণি' বলা হলেও, তার মানসিক বিকাশজনিত সীমাবদ্ধতা তাকে পিতা-মাতার চিন্তার কারণ করে তুলেছে। একইভাবে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সুভা' গল্পে সুভার বোবা হওয়াটা তার পিতা-মাতার জন্য এক গভীর দুশ্চিন্তার বিষয়। এই দুই চরিত্রের বিশেষ দিক হলো, উভয়ের শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা পিতা-মাতার মনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও তারা সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধে আবদ্ধ।

উদ্দীপকে যেমন কল্যাণীকে ঘিরে পরিবারের আনন্দ ধীরে ধীরে দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়, তেমনই সুভার বোবা হয়ে জন্মানো তাকে তার পিতা-মাতার জন্য একটি নীরব হৃদয়ভারে পরিণত করে। দুটি ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সন্তানদের সীমাবদ্ধতা পিতা-মাতার জন্য সামাজিক এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। সুভার ক্ষেত্রে যেমন সমাজের বিয়ের প্রশ্ন ছিল, কল্যাণীর ক্ষেত্রেও তার বিয়ের প্রসঙ্গে পিতা পলাশ জিম এই সমস্যার মুখোমুখি হন। উভয় ক্ষেত্রেই পিতা-মাতার দুশ্চিন্তা তাদের সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজের বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রতিফলন।

#

'কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন।'-বিশ্লেষণ কর।

'কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন'- এই উক্তির মধ্যে দুটি চরিত্রের জীবনযাত্রা, পরিস্থিতি এবং সামাজিক অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দুই চরিত্রই শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে পিতা-মাতার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ, তবে তাদের পরিপ্রেক্ষিত ও পরিণতি একে অপর থেকে আলাদা।

কল্যাণী: কল্যাণী একটি শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার শিকার, যা তাকে সমাজের মূল স্রোত থেকে কিছুটা আলাদা করে রাখে। তবে তার পরিবার তাকে ভালোবাসে এবং সমাজের প্রতি তার এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, বিশেষ করে বরপক্ষ যখন তাকে গ্রহণ করে। কল্যাণীর জীবন এবং বিয়ের বিষয়টি সমাজের অনেকটা সাধারণ নিয়মের মধ্যে থাকে। তার পরিবার কল্যাণীকে অস্বাভাবিক না ভাবলেও, তার ভবিষ্যৎকে কিছুটা সামাজিক প্রভাবের মধ্যে দৃষ্টিপাত করা হয়।

সুভা: সুভা একটি ভিন্ন পরিস্থিতির শিকার। সে জন্ম থেকেই বোবা, যা তার জন্য সামাজিক এবং পারিবারিক চাপের সৃষ্টি করে। সুভার পিতা-মাতা তাকে ত্রুটির চোখে দেখেন, বিশেষত তার মা। তার মা সুভাকে নিজের অংশ হিসেবে নয়, বরং যেন কিছু কম, কিছু অসম্পূর্ণ মনে করেন। সুভার জীবন, কল্যাণীর মতো সাধারণ পরিবারের এবং সমাজের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। সে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে নিঃসঙ্গভাবে বড় হয়ে ওঠে, যেখানে তার একমাত্র সঙ্গী হলো পশুপাখি এবং প্রকৃতি। তার পরিস্থিতি আরও কঠিন, কারণ তাকে পুরোপুরি বয়ঃসন্ধির পরে সমাজের সাথে মেলামেশা করতে হবে-যেটি তাকে নির্জনতা এবং বিষাদের দিকে ঠেলে দেয়।

এভাবে, কল্যাণী ও সুভার জীবনযাত্রা ও পরিণতির মধ্যে গভীর পার্থক্য রয়েছে। কল্যাণী যেখানে কিছুটা সমাজে স্থান করে নেয়, সুভা সেখানে পুরোপুরি একাকী ও নির্জন থাকে, যা তাদের পরিণতির মধ্যে মূল পার্থক্য সৃষ্টি করে।